somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বই রিভিউঃ দেখা না-দেখা (হুমায়ূন আহমেদ)

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হুমায়ূন আহমেদের বইগুলোর ক্ষেত্রে এই জিনিসটা বেশি দেখা যায়। সেটা হলোঃ তাঁর কোনো বই একবার পড়া শুরু করলে না শেষ করা পর্যন্ত স্বস্তি পাওয়া যায়না। থ্রিলার ধাঁচের বইগুলোর মতই একটানা পড়ে যেতে হয়। আশ্চর্য জাদুবলে বইয়ের সাথে পাঠককে সেঁটে রাখার ক্ষমতা ছিলো তাঁর কলমের। বলা বাহুল্য, আজকে যে বইয়ের উপরে রিভিউ লিখছি, সেটাও এই ক্যাটাগরির।

দেখা না-দেখা কে ভ্রমনকাহিনী ক্যাটাগরিতে রাখা যায়। কিন্তু, এই বইতে যতটা না আছে কোনো স্থানের বর্ণনা তারচেয়ে বেশি আছে সেই স্থানে গিয়ে লেখক কী করলেন বা না করলেন তার বর্ণনা। বলা ভালো, লেখক স্মৃতিচারণা করেছেন বইটির মাধ্যমে।

অনেক ধরনের ভ্রমনকাহিনী এ পর্যন্ত পড়েছি। অন্নদাশঙ্কর রায়ের "ভ্রমন কাহিনী সমগ্র" পড়েছি, শঙ্করের লেখা "ভ্রমন কাহিনী" ও পড়েছি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের "পায়ের তলায় সর্ষে" বইও পড়েছি। সেগুলোর সঙ্গে এই বইয়ের আশ্চর্য পার্থক্য রয়েছে। এরা সবাই লিখেছেন অনেকটা স্থানের বর্ণনা, কিছুটা নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা । হুমায়ূন আহমেদের "দেখা না-দেখা" বইতে অনেকটা লেখকের নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, কিছুটা স্থানের বর্ণনা।
সুতরাং, বইটিকে অনায়াসেই আত্মজৈবনিক বইয়ের ক্যাটাগরিতেও ফেলে দেয়া যায়।

যাই হোক, মূলবিষয়ে ফিরে আসি। বইটিতে লেখকের চীন ভ্রমনের কাহিনী, ত্রিপুরা ভ্রমনের কাহিনী, সুইজারল্যান্ড ভ্রমনের কাহিনী, আমেরিকা ভ্রমনের কাহিনী, ব্যাংকক ভ্রমনের কাহিনী আছে। সেখানে গিয়ে কী করেছেন বা কী কী সমস্যায় পড়েছেন এবং সেই সমস্যা থেকে মুক্তি কীভাবে পেয়েছেন, কী কী দেখেছেন সেগুলো লেখকের লেখনীর মাধ্যমে উঠে এসেছে আশ্চর্য সাবলীলভাবে।

নিজের সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্যও দিয়েছেন বইটিতে। যেমনঃ এই বই পড়ার আগে আমি জানতাম না যে, লেখক বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমের খেলা কখনো মিস করতেন না। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের একনিষ্ঠ সমর্থক। বাংলাদেশ যেদিন ম্যাচ জিততো, সেদিন তাঁর চোখেও আনন্দাশ্রু চিকচিক করতো।

সুইজারল্যান্ডে থাকাকালীন বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমের খেলা দেখতে গিয়ে কী নাজেহাল পরিস্থিতিতে তাকে পড়তে হয়েছিলো, তারও উল্লেখ আছে বইটিতে।

এ কথা ঠিক যে বইটা পুরোপুরি ভ্রমনকাহিনী না। আধা ভ্রমনকাহিনী+ আধা আত্মজৈবনিক। লেখক নিজেও বইয়ের এক অংশে এই বিষয়টা স্বীকার করেছেন। তবে, বইটা যে দারুনভাবে উপভোগ্য, এ কথা অনস্বীকার্য।

যদি কারো বইটি পড়া হয়ে থাকে, তাহলে তো ভালোই। আর যদি না পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই পড়ে ফেলুন।

সময়টা ভালো কাটবে।
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×