somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

সাবধান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতন্ত্র প্রহরী ছাত্রজনতা........

২০ শে নভেম্বর, ২০২৪ সকাল ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাবধান.....

আগে রাজার ছেলে রাজনীতি করে ফকির হয়ে যেতো। আর এখন ফকিরের ছেলে রাজনীতি করে বাদশাহ্ হয়ে যাচ্ছে।
আগে রাজনীতিবিদগণ বিভিন্ন পেশা থেকে আসতেন। নিজেদের পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর রাজনীতি ছিল তাদের কাছে সমাজ সেবা বা দেশ সেবার অংশ।
রাজনীতি কখনোই পেশা হতে পারে না। কিন্তু এখন রাজনীতি পেশায় রূপান্তরিত হয়েছে। রাজনীতির মাধ্যমে সহজ পথে অর্থ-বিত্ত অর্জনের সুযোগ পাওয়া যায়। রাজনীতি থেকে যদি অর্থ-বিত্ত অর্জনের পথ বন্ধ করা যেতো তাহলে অনেকেই রাজনীতি ত্যাগ করতেন। কারণ তাদের সংসার চালানোর জন্য অন্য কোনো পেশায় যেতে হতো। সেই অচলায়তন ভেংগে দিয়েছে ছাত্রজনতার ৩৬ জুলাই ২০২৪ বিপ্লব। ফ্যাসিস্টকূল শিরোমনি শেখ হাসিনা ছাড়াও গোটা শেখ পরিবার পালিয়ে গেলেও তাদের সহযোগী, সুবিধাভোগী দানবরা সবাই যারযার অবস্থানে বহাল তবিয়তেই আছে।

মোদ্দা কথা, প্রশাসনে আওয়ামী সন্ত্রাসী লীগের পা' চাটা অনুগামী, বিভিন্ন বাহিনীতে উর্ধতন পদে আসীন লোকগুলো মহা দাপটের সাথে স্ব স্ব কর্মস্থলে বহাল থেকে ছাত্র জনতার বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবকে নস্যাৎ করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে গত ১৬ বছরে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থাকা বড় রাজনৈতিক দলের রাষ্ট্র ক্ষমতালোভী উর্ধতন নেতারা।

উপদেষ্টা পরিষদে ছাত্র জনতার প্রতিনিধি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, মাহফুজ আলম, নাহিদ ইসলাম এখন প্রায় কোনঠাসা। এরা প্রশাসনে বাংলাদেশপন্থী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সেক্টরে পদায়নে বাধা পাচ্ছেন। এতেই ক্ষান্ত হচ্ছেনা এই অপশক্তি। তারা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করছে ছাত্র জনতার বিপ্লবের সমন্বয়কদের মধ্যে বিভ্রান্তি এনে বিভেদ সৃষ্টি করতে। দেশ পরিচালনার সবগুলো সেক্টরে আওয়ামী অপশক্তির অনুসারীদের প্রাধান্য এখন স্পষ্ট। তাদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রথম আলো সম্পাদকের নেতৃত্বে এদেশের ভারতীয় এজেন্টরা।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস সচেতন বা অবচেতন ভাবে আওয়ামী প্রশাসনের উপরই নির্ভর করছেন। তিনি ছাত্র জনতার মহা অভ্যুত্থানের মহানায়ক সমন্বয়কদেরকে অনেকটাই এড়িয়ে চলছেন তা ক্রমেই স্পষ্ট দৃশ্যমান হচ্ছে। আওয়ামী সন্ত্রাসী লীগের নিয়োগকৃত প্রশাসনের অপতৎপরতায় ছাত্র জনতার চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তি দ্রুত ব্যার্থতায় পর্যবাসিত হতে যাচ্ছে। পতিত, পরাজিত পলাতক রক্তপিপাসু আওয়ামী সন্ত্রাসী লীগের সাথে যুক্ত হচ্ছে স্বার্থান্বেষী কিছু মিডিয়া। লক্ষ হাজার কোটি টাকার আওয়ামী বাজেট ব্যবহার করে এদের সম্মিলিত শক্তি নিয়োগ করছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশপ্রেমিক তরুণ নেতৃত্বের উত্থানকে ঠেকিয়ে দিতে। এদের অপতৎপরতা এখন আর তেমন একটা অপ্রচ্ছন্ন নেই।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার এবং তার দোসরদের কোনো ভাবেই ছাড় দেওয়া চলবেন। বলতে দ্বিধা নেই, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য বা মনোভাব অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলে(আন্তর্জাতিক শক্তিও চায়না আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হোক)। তাদেরকে যেকোনো ভাবেই স্পেস দেওয়া হবে- জুলাই শহীদদের সাথে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা। এটা হবে বিএনপির অসংখ্য শহীদ কর্মীর সাথে সবচেয়ে বড় গাদ্দারি। গত ১৫ বছরে বিএনপির যত কর্মী আওয়ামী লীগের হাতে নিহত হয়েছে, তাদের সাথে গাদ্দারি। স্পষ্টত বোঝায় যে, বিএনপি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে বেশি সময় বা সুযোগ দিল শ্বাস নেওয়ার জন্য! আমি জানিন্স, এই বিষয়ে যুবদল, ছাত্রদল সহ বিএনপির অন্যসব সহযোগী সংগঠনের মতামত কী? তবে এটা জানি, নেতাদের মতামতের সাথে কর্মীদের মতামত মেলে না। দয়া করে আমাদের রাজনীতি শেখাতে আসবেন না, আমাদের মেরুদণ্ডহীন গণতন্ত্র শেখাতে আসবেন না। দয়া করে এটা বলবেন না যে সরকার চাইলে এটা করতে পারতো! সরকারের ব্যর্থতার দায় সরকারের ঘাড়েই থাকুক, নিজেদের অক্ষমতা লুকাতে অন্যের উপর দায় চাপাবেন না।

আমাদের মনে রাখতে হবে- একটি জাতির গঠনে তরুণের উদ্যম, যুবকের শক্তি ও সাহস, প্রৌঢ়ের প্রজ্ঞা, বৃদ্ধ'র বিশ্রাম যুক্ত না হলে সেই জাতির গঠন পূর্ণতা পায় না। তরুণ, যুবক, প্রৌঢ়, বৃদ্ধ'র মিলিত আচারধর্ম- একটি পূর্ণাঙ্গ জাতির স্বরূপ। এদের সম্মিলিত প্রয়াসেই দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ থাকবে।

অতএব, সাবধান দেশবাসী, সাবধান ছাত্র জনতার সমন্বয়করা, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম গঞ্জে, শহরে বন্দরে, পাড়া মহল্লায় এখনই নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতেই হবে। সামান্য শীথিলতা দেশ জাতির জন্য মহাবিপদ ডেকে আনবে।

বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।
বিপ্লব অপশক্তিমুক্ত হোক।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০২৪ সকাল ৮:৫৬
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×