somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

খোরশেদ খোকন
আমার জন্ম টাঙ্গাইলের হামজানি গ্রামে। শৈশব, কৈশোরে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ছিলাম; বাবার সরকারী চাকুরীর জন্যে। কলেজ ছিল টাঙ্গাইল জেলায়। তারপর পড়াশুনা ঢাবি'র ফিন্যান্স বিভাগ। গত নয় বছর যাবত প্রাইভেট ব্যাংকে কর্মজীবন চলছে। www.facebook.com/khokonz

আত্মকথা-৭: বাংলা ব্যান্ড মিউজিক ও আমার বন্ধু রেজা...

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নব্বই দশকের (১৯৯০-১৯৯৯) কথা, সময়টা ছিল বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের এক শ্রেষ্ঠ সময়। আমাদের মধ্যে যাদের কণ্ঠ ভাল ছিল তাড়া স্বপ্ন দেখতাম একদিন গায়ক হবো। একটা ব্যান্ড মিউজিকের গ্রুপ করবো। সেই সময় সোলস, মাইলস, এল আর বি, চাইম, অবস্কিউর, অরবিট একটার পর একটা গানের এ্যালবাম বেড় করছিল। সেই সময়ে ব্যান্ডগুলোর নিজস্ব অ্যালবাম ছাড়াও অসংখ্য মিক্সড অ্যালবাম বেড়িয়েছিল। আমরা ঈদে নতুন কাপড়ের চাইতে নতুন ব্যান্ডের গানের জন্য বেশি অপেক্ষা করতাম। নতুন কোন ব্যান্ড এ্যালবাম বেড় করলে ঢাকা থেকে আনার ব্যাবস্থা করতাম।

গত মে মাসে (২০১৪) জুয়েল (Mohammad Abu Jewel) এর সাথে ম্যাসেজ বিনিময়ের মাধ্যামে রেজাউলের কথা মনে পড়ল। মে মাসের ২৫ তারিখ ছিল আমাদের বন্ধু রেজাউল করিম (রেজা) এর মৃত্যু দিবস।

আমি সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইনি, পড়াশুনা করছি, ধানমণ্ডিতে একটা মেসে থাকি। সেই সময়, একদিন জুয়েল আমাকে জানায়, ঢাকা-আরিচা রোডের এক মোটর-বাইক এক্সিডেন্টে রেজাউলের মৃত্যু হয়েছে।

রেজা ছিল আমাদের সহপাঠী। আমরা এক সাথেই থাকতাম, গণিত প্রাইভেট পড়তাম, পুকুরে একত্রে গোছল করতাম। ও ছাত্র হিসেবে ছিল আমার মতো মাঝারী মানের কিন্তু মানুষ হিসেবে খুব ভাল ছিল। ওর বাবা খুব সাধারন মানের একটা সরকারি চাকরী করতো। ওদের ভাড়া বাড়িটা ছিল ঢেউটিনের ঘর যার দেয়াল ছিল তালাই (বাশের তৈরি)। আমি ওর সাথে বিকেলে বিছানায় শুয়ে নতুন ব্যান্ডের গান শুনতাম। যখন বৃষ্টি ওদের ঢেউটিনের চালে পড়ত তখন মুগ্ধ হয়ে থাকতাম।

ও আমাকে ওর স্বপ্নের কথা বলতো। ওর একটাই স্বপ্ন ছিল “একদিন সে ব্যান্ডের শিল্পী হবে, একটা ব্যান্ডের দল বানাবে, সারাদেশ ঘুরে বেড়াবে”।

আমার কিছু দিন বাবা–মা ছাড়া, এক আত্মীয় বাড়িতে থাকতে হয়েছিল। আমার ঐ দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে ভাল লাগতো না। আমি সারাদিন রেজা’র বাড়িতেই থাকতাম। রেজা’র মা আমাকে খুব পছন্দ করতো। একদিন স্কুল জীবন শেষ হয়ে গেলো। কলেজ জীবনে আমি আর রেজা অনেক দুরে চলে গেলাম।

মন খারাপ হলে, আমি রেজাদের বাড়ি যেতাম। একদিন ওর বাড়ি গিয়ে দেখি রেজা একটা ব্যান্ডের দল বানিয়েছে, এলাকায় ঘুরে ঘুরে সে ব্যান্ডের শিল্পীদের মতো গান করছে। সে সময় ক্যামেরা এতো সস্তা ছিল না, ছবি তোলা আর প্রিন্ট করা ছিল ব্যয়-বহুল। আমার মন খারাপ এজন্য যে, আমার সংগ্রহে “রেজার সাথে আমার” কোন ছবি নাই।

রেজার সাথে যেদিন ওর বাড়িতে আমার শেষ দেখা, সে সময়টাতে আমি ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেছিলাম। রেজা আমাকে বলেছিল, “বন্ধু, তুই তো ধানমণ্ডি থাকিস, আমার জন্য একটা ব্যান্ড দল খুঁজে দিস”। আমি বলেছিলাম, “ঢাকা গিয়ে তোর জন্য অবশ্যই ব্যান্ড দল খুঁজবো, তুই আমার উপর ভরসা রাখিস”। ওর ইচ্ছা ছিল ঢাকার ব্যান্ডের সাথে একত্রে কনসার্ট করবে, সময় হলে একটা মিক্স এ্যালবামও বেড় করবে।

একদিন রেজাকে দেয়া কথাটা আমি রাখতে পারিনাই। আমি যখনি রেজা নামের কোন মানুষ পাই। তার দিকে চেয়ে থাকি, তার গলার কণ্ঠ শুনতে চাই...

বাংলা ব্যান্ড মিউজিকে আমার বন্ধু রেজার মতো আরও অনেকেই হয়তো আছেন, যাদের মানুষ স্মরণ করেন। কিন্তু আমার জানা মতে, রেজার কোন মৌলিক গান, কোন গানের অডিও কিংবা গানের ভিডিও নাই। রেজার ভাল দিকটা হচ্ছে, সে বাংলা ব্যান্ড মিউজিক কে মনে প্রানে ভাল বাসত। ব্যান্ড মিউজিক নিয়ে তার একটা স্বপ্ন ছিল...

আমরা যারা নব্বই দশকে স্কুলে পড়েছি, একত্রে ব্যান্ড মিউজিকের গান শুনে শুনে বড় হয়েছি। তারা যখনি ব্যান্ড মিউজিকের গান শুনি একা একা নীরবতায়...
রেজার কণ্ঠ তখন আমাদের প্রাণটা ছুঁয়ে যায়...

রেজা, বন্ধু আমার তুমি ভাল থেকো, তোমার ঠিকানায়। যেনে রেখো, আমরা যতদিন বেঁচে আছি, তোমাকে ভুলব না। তোমাকে মনে করবো সুরের মূর্ছনায়...
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×