somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যারা সমর্থন করেন তারা এখানে ছোটো একটা টোকা দিবেন

০৪ ঠা মার্চ, ২০০৬ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা পরস্পরের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্ব ীকার করে নিয়েছিলাম, আমার অন্তত এই ওয়েবসাইটের পরিমার্জিত নীতিমালা পড়ে তেমনটাই ভেবেছিলাম, সেখানে স্পষ্ট বলা ছিলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা সকল ব্লগারের আছে, তারা নিজদায়িত্বে তাদের মনোভাব প্রকাশ করবে এবং এর বিপরিতে প্রাপ্ত মন্তব্যগুলোকে নিজের উচ্চারনের ফলাফল হিসেবে মেনে নিবে,
এবং এর পর সাইটটিকে সাবালকত্ব দেওয়া হলো, মানুষের শোভনতা এবং বিবেচনাবোধের উপর সাইট চলছিলো ভালোই, অনেকেই তাদের মতামত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করছিলো, গালি বা পিঠ থাপড়ানো সব অভিজ্ঞতাই জুটছিলো তাদের বরাতে,
এই বিশাল সেন্সরবিহীন সময়ে একটা মাত্র জঘন্য পোষ্ট হয়েছে, সেটা একেবারে নিম্মমানের একটা লেখা, কোনো সৃষ্টিশীলতা ছিলো না, কতৃপক্ষ মুছে দিয়েছেন, না মুছলেও সবাই বর্জন করতো সে পোষ্ট,
এর পর গতকাল মাসুদার উপন্যাসের খন্ডাংশ প্রকাশিত হলো এখানে, মন্তব্যের ঝড় উঠলো, প্রত্যাশিত, কিন্তু আমার মনে হয় এখানে নির্দিষ্ট একটা শ্রেনী বিদ্যমান যারা শোভনতা এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চার পক্ষে, সবার মতভিন্নতা সত্ত্বেও তারা কিন্তু পছন্দ না করলেও নিজের স্পষ্ট মতামত দিয়েছে, কিন্তু কেউ একটা অশালিন শব্দ উচ্চারন করে নি, মাসুদার উপন্যাসে একদল মানুষের বর্ননা ছিলো যাদের অবদমিত কামসলিল মুখ দিয়ে অনর্গল ঝড়ে পড়ছে, যারা নিজের কামনা সংযত করতে ব্যার্থ হয়েছে, অন্তত আমার অভিমত এমনই, এদের মতের সাথে না মিললেই এরা তাকে বা তার পরিবার পরিজনের সাথে সঙ্গমবাসনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে বাকি সব সমমনাদের বাহবা পায়।
সেটা প্রকাশপাওয়ায় আবারও নিয়ম মেনে একই রকম নোংরামির সূচনা, অনেকেই অনেক রকম মতামত দিবেন এ বিষয়ে, কিন্তু আমরা সূচনায় পরস্পরের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মেনে এখানে এসেছি।

মুছে ফেলার পিছনে যুক্তি কি?
ধর্মবিষয়ক বিভ্রান্তি ছড়ানো??
মনে হয় না, ফতোয়াবাজির সপক্ষে বলা মানে বিভ্রান্তি ছড়ানো, কোরান এবং হাদিসের ভুল ব্যাখ্যান এমন কিছু করেছে মাসুদা ,
নাহ এমন কিছু করে নি, একটা সোশাল ফিকশনে সে ধর্মোন্মাদ উন্মত্ত একদল লোকের কথা বলেছে, এবং সেখানে বর্ননা প্রসঙ্গে একটা স্টেরিওটাইপিকাল মন্তব্য এসেছে, কিন্তু একই রকম ভাষায় ওয়াজ বাংলাদেশে গ্রামে প্রচলিত, একই ঘটনা সত্য মাদ্্রাসার শিশুনির্যাতন বিষয়ে, আমি একটা ছোটো লেখাও লিখেছিলাম এ নিয়ে,
এবং উগ্র ইসলামপন্থি দলগুলোর গঠনতন্ত্র বিষয়ে মাসুদার বর্ননা আজকের পেপার দেখে নিলেই হবে মিলে কি না?
তাহলে কি একজন লেখক তার সোশ্যাল ফিকশনে সমাজের ছবি তুলে ধরতে পারবেন না??

এর পরের টার্ম সামপ্রদায়িকতা ছড়ানো?
লেখাটার মধ্যে সামপ্রদায়িকতার কোনো ঠাঁই ছিলো না,
পরের টার্ম উস্কানিমূলক লেখা,
মাসুদা উপন্যাস হিসেবেই প্রকাশ করেছে, এটা কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশের প্রকাশনি থেকে প্রকাশিত হবে, সেটা জনগন কিভাবে নিবে এটা জনগনের নিজস্ব বিষয়, তারা মাসুদার ফাঁসি চাইতে পারে মাসুদাকেধন্যবাদ জানাতে পারে,
কিন্তু উস্কানির কথা যদি বলা হয় তাহলে বাঙ্গালি সংস্কৃতইর বিরুদ্ধে লিখিত ওয়ালির পোষ্টগুলো কেনো মুছে ফেলা হলো না, ওটাও তো যারা বাঙ্গালি সংস্কৃতির পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রচারনা বলা যায়, একেবারে সরল অর্থে উস্কানির পক্ষ এবং বিপক্ষ থাকে , যারা মতবাদের পক্ষে তাদের কাছে উস্কানি সত্য ভাষন এবং যারা বিপক্ষ তারা মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, আমার উস্কানি মনে হয় লেখাগুলো, মনে হয় বাঙ্গালিত্বের অবমাননা, সুতরাং ওয়ালির অর্ধেক পোষ্ট মুছে ফেলা হোক, ও 21শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লিখেছে কিভাবে ভাষা ান্দোলনে নিহত দের সম্মান করতে হবে, আমার কাছে উস্কানিমূলক মনে হয়েছে , মুছে ফেলা হোক সে পোষ্ট, ভাই এভাবে অনেক বড় লিস্টি দেওয়া যাবে,
এমন কি যারা অশালীন মন্তব্য গুলো করেছে তাদের কেনো ব্যান করা হবে না অশালিনতা এবং উস্কানিমুলক কথা বলার জন্য? এবং ওয়ালির সর্বশেষ 2টি পোষ্ট কেনো মুছে ফেলা হবে না?

আমার তো মনে হয় না ওয়ালি যাদের জড়িয়ে পোষ্টটা লিখেছে তারা কোথাও একবর্ন অশালিন শব্দ লিখেছে,
আমার আপত্তি অন্য খানে, এই যে এটার চর্চা শুরু হলো, এখন যাদের মত তাদের পছন্দ হবে না, তারা জঘন্য গালাগালি করবে, কতৃপক্ষ শুদঃু গালি দিলেই শুনতে পারেন বোধ হয়, তারা তা মুছে দিবেন এসে মন্তব্য সমেত, এবং কোনো ব্যাখ্যা দিবেন না, এবং আমরা যারা শোভনতা কথা বলছি, যারা গালি জানা সত্তেও এখনও সচেতন ভাবে অশালিনতা এড়িয়ে কথা বলেছি, তাদের কথা শুনতে পাবেন না কতৃপক্ষ কারন, অশালিন ভাবে দাবি না জানালে তারা কর্নপাত করেন না।

আমি নিজে আগামি 2 দিন কোনো পোষ্ট করবো না বা মন্তব্য লিখবো না এই ঘটনার প্রতিবাদে, এভাবে আমরা যারা শোভনতার চর্চা করি তারা যদি বয়কট করে তবে আপনাদের সাইট একসময় ইসলাম শিক্ষার আসর হয়ে যাবে, এটাকে নিজস্ব চরিত্র নিয়ে বেড়ে উঠতে দেন না ভাইয়েরা, বিরুদ্ধমত থাকবেই, সেটা মেনই তো লিখছি এ কথা,
বাপ মা বোনকে নিয়ে লোকজন শুতে চাচ্ছে তারপরও কতৃপক্ষকে একটা আবেদনও করি নি কারন মত প্রকাশের স্বধীনতাকে শ্রদ্ধা করি, নীতির প্রশ্নে আপোষ না করাই মনে হয় আদর্শবাদিতা।

এবং আপনারা যদি মাসুদার মুছে দেওয়া পোষ্টটা পুনর্ভাল না করেন তাহলে ওয়ালির উস্কানিমুলক পোষ্টগুলো মুছে দেন, আমরা বলতে পারি আপনারা নীতির প্রশ্নে আপোষহীন, তবে পক্ষপাতমুক্ত।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×