নিয়ম করে বছরে আমার একবার জ্বর হতো। তবে ঐ ওয়ানস ইন এ ইয়ার, সাত থেকে দশ দিনের জন্য। জ্বর আমার জন্য ছিল আনন্দের, মুক্তির ও অবসরের। ইচ্ছেমত গল্প-উপন্যাস পড়তে পারতাম, বিশেষ করে মাসুদ রানার এডভেঞ্চার তখন জ্বরের সবচেয়ে বড় সহচর। কি জ্বর হবে সেগুলো ঠিক জানি না, হয়তো ভাইরাল, নয়তো সিজনাল হবেটবে। তবে তেমন কষ্ট পেতাম না। গান শুনতাম প্রচুর, তখন সবেমাত্র ফিডব্যাক, ওয়্যারফেজ যুগ শুরু হয়েছে। খাবারের অরুচি হতো না বলে, প্রচুর খাই দাই আর প্রখন্ড বিনোদন আমার জ্বরবেলাকে উজ্জ্বল করে তুলতো। বছর ঘুরে গেলে যদি জ্বরের দেখা না পেতাম তবে উসুখুস শুরু হয়ে যেত। মনে মনে চাইতাম যেন জ্বর হয়।
বিগত কয়েকবছর আমার জ্বরের রুটিন পরিবর্তন হয়ে গেছে। বৎসর কামাই করছে। মনেও থাকে না কবে শেষ হয়েছিল। তবে বিগত দিনগুলোর জ্বর সাতআটদিন প্রলম্বিত হয়নি। বিকেলে হয়েছে, সারারাত ঘুমিয়েছি, সকালে ঠিক। এরপর রেডি হয়ে অফিসে গেলাম, বিকেলে খারাপ লেগেছে তো চলে এসেছি। তারপরে আবার ঘুম, পরের দিন সকালে উঠে দেখেছি জ্বর পালিয়েছে। অল্পদৈর্ঘ্যের জ্বরের জন্য আমার অভিযোগ নেই, তবে হারিয়েছি শৈশব কৈশোরের জ্বরানন্দ। এখন গা গরম হলে ভয় পেয়ে যাই। অনেক তথ্য নিউরনে জমা হওয়াতে এলার্ম দেয়, ফিভার ইজ নট এ জিজিস, ইটস এ্যা সিমটম অফ ডিজিজ, কে কবে যেন বলেছিল। তারপরেও কিছুটা সময় একদম চিন্তামুক্ত থাকার জন্য জ্বরকে আলিংগন করতে ভালই লাগে।
আজকে গা গরম লাগছে। যদিও বিগত দিনগুলোর জ্বর তেমন উপভোগ্য হয়নি। আগের মত হচ্ছে না। মাথাব্যাথা, চোখব্যাথা থেকে শুরু করে একধরণের অস্বস্তিতে ভূগি। কিছু পড়তে পারিনা , দেখতে পারি না। শৈশবের মত জ্বরানন্দ যদি হতো আর তার ব্যপ্তি হতো দশদিন, কি মজাটাই না হতো। শরৎরচনাবলী একবার পড়ে ফেলেছিলাম এমন জ্বরকালে। এবার অনেক দিন জমে থাকা রানএয়ে জুরিটা পড়ে ফেলতাম!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



