
আদম আব্রাহামীয় ধর্ম এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীতে উল্লেখিত একজন ব্যক্তি। এছাড়াও ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বিশ্বাস অনুসারে তিনি হলেন প্রথম সৃষ্ট মানব। এবং ইসলাম ধর্মের বর্ণনা মতে তিনি আল্লাহ প্রেরিত রাসুল বা বাণীবাহক ও ইসলাম ধর্মে তাকে হযরত আদম (আঃ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তার স্ত্রী ছিলেন হাওয়া (আঃ)। আব্রাহামিক ধর্মানুসারে হাওয়া (আঃ) কে হবা বলা হয় আর ইসলাম ধর্মে তাকে হাওয়া (আঃ) বলা হয় এবং তিনিই হলেন পৃথিবীর সর্ব প্রথম নারী ।
তাদের দাম্পত্য সঙ্গী হলেন আদম (আঃ),হাওয়া (আঃ),ও সন্তান হাবিল, কাবিল,শিস,এবং অন্যান্য পুত্র ও কন্যা ।
প্রথম মানব ও প্রথম রাসুল
সকল আব্রাহামীয় ধর্মের ঐশ্বিক গ্রন্থ মোতাবেক আদম ঈশ্বর কর্তৃক সৃষ্ট প্রথম মানব। পবিত্র কোরানের বর্ননা থেকে জানা যায় আল্লাহ যখন ফেরেশতাদেরকে জানালেন যে তিনি পৃথিবীতে তার প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন তখন ফেরেশতারা বলল,
আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত আপনার গুণকীর্তন করছি এবং আপনার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি?” তখন আল্লাহ বলেন “নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জানো না।
আব্রাহামীয় ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ অনুসারে ঈশ্বর তাকে খরখরে মাটি থেকে সৃষ্টি করেন। তারপর তার দেহে প্রাণ সঞ্চার করেন। হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয় আদমের পাজর থেকে। সৃষ্টির পর তাদের আবাস হয় বেহেশত বা জান্নাতে । মানুষ যেহেতু সকল সৃষ্টির সেরা তাই আল্লাহ ফেরেশতাকুলকে আদেশ করেন আদমকে সিজদা করার জন্য। ইবলিশ ব্যতীত সকল ফেরেশতা এই আদেশ প্রতিপালন করেন। কুরআনে বলা হয়েছে,
আমি আদমকে পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি নিযুক্ত করিব।(সূরা আল বাকারা, আয়াত: ৩০)
কুরআনে আদম এর নাম ১০টি সুরার ৫০ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা আল বাকারা:২/৩০-৩৭=৭, সুরাআলে ইমরান ৩/৩৩,৫৯ সূরা আল আরাফ, সূরা ইসরা, সূরা আল কাহফ এবং সূরা ত্বোয়া-হাতে তার নাম, গুনাবলী এবং কার্যাবলী আলোচনা করা হয়েছে। সূরা আল হিজর ও সূরা ছোয়াদে শুধু গুণাবলী এবং সূরা আল ইমরান, সূরা আল মায়িদাহ এবং সূরা ইয়াসীনে আনুসঙ্গিক রুপে শুধু নামের উল্লেখ আছে।
আবূ হূরায়রা থেকে বর্ণিত যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টিকালে তার উচ্চতা ছিল ৬০ কিউবিট এবং মানুষ বেহেশতে প্রবেশকালে আদমের আকার লাভ করবে।
আদম ও হাওয়াকে স্বর্গ থেকে বিতাড়ন
সৃষ্টির পর আদম এবং হাওয়ার অবস্থান ছিল বেহেশতে বা স্বর্গে। সেখানে তাদের জন্য গন্ধম ফল খওয়া নিষিদ্ধ ছিল। শয়তানের প্ররোচনায় হাওয়া গন্ধম ফল খেয়ে ফেলেন এবং আদমকে এ ফল খেতে উৎসাহিত করেন। এটি মানুষের আদিপাপ বলে পরিগণিত হয়। এর শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়ন করেন এবং শাস্তিস্বরূপ তাদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। আদম এবং হাওয়া পৃথিবীর ভিন্ন দুটি স্থানে অবতরণ করেন। আদম অবতরন করেন সিংহল। দীর্ঘদিন পর আরবের আরাফাত নামক প্রান্তরে তাদের পুনর্মিলন হয়।
পৃথিবীতে আগমনের পর আদম ও হাওয়াকে আল্লাহর তরফ থেকে ক্বাবাগৃহ নির্মাণের আদেশ প্রদান করা হয়। ক্বাবা নির্মিত হয়ে গেলে তাদেরকে তা তাওয়াফ করার আদেশ দেয়া হয়। বর্ণিত আছ আদম কর্তৃক নির্মিত ক্বাবা নূহের মহাপ্লাবন পর্যন্ত অক্ষত ছিল।
পৃথিবীতে আগমনের পর তাদের ১৪০ জোড়া সন্তান হয়। আলোচিত সন্তানগণ হলেনঃ হাবিল, কাবিল, আকলিমা, গাজাহ।এবং তাদের সন্তান শিস (আঃ) ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৬ সকাল ৯:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




