somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গুমের যন্ত্রণা: এক অনিশ্চিত অপেক্ষার গল্প

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর জন্য প্রতিটি দিন এক অন্ধকার বাস্তবতা। প্রিয়জনের হঠাৎ অন্তর্ধান তাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে গভীর প্রভাব ফেলছে। একদিন যারা ছিলেন পরিবারের মূল উপার্জনকারী, তাদের অনুপস্থিতিতে স্বজনদের অর্থনৈতিক, মানসিক ও সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে বসবাস করছেন। কিছু পরিবার পুরোপুরি আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে চলে গেছে, কারণ উপার্জনক্ষম মানুষটি হারিয়ে যাওয়ার পর তাদের আয়ের উৎসও বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে সহায়তা চাইতে হচ্ছে আত্মীয়স্বজনের কাছে কিংবা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে।

কিন্তু শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, মানসিক দুশ্চিন্তাও পরিবারগুলোর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। এক অনিশ্চিত অপেক্ষা তাদের মনকে গ্রাস করে রেখেছে—কেউ জানে না তাদের স্বজন বেঁচে আছেন কিনা, কোথায় আছেন, কেমন আছেন। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে তারা অপেক্ষায় থাকলেও প্রশাসন থেকে কোনো সুস্পষ্ট উত্তর আসে না। তাদের আশা একসময় হতাশায় রূপ নেয়, কিন্তু তারা হাল ছাড়তে পারেন না।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্তানরা সবচেয়ে বেশি মানসিক আঘাতের শিকার হচ্ছে। বাবার হঠাৎ অনুপস্থিতি তাদের শিক্ষাজীবন ও মানসিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। স্কুলে সহপাঠীদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, পরিবারে দুঃখের ছায়া তাদের স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। অনেক শিশুই ছোটবেলা থেকেই বাস্তবতার নির্মম রূপের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের মানসিক সুস্থতায় গভীর প্রভাব ফেলছে।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী ও মায়েরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন। স্বামী বা সন্তানের ফিরে আসার আশায় তারা দিন গুনছেন, কিন্তু কোনো সুসংবাদ নেই। সমাজের অনেকেই তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে আশা ছেড়ে দেওয়া উচিত, কিন্তু হৃদয়ের কোথাও তারা বিশ্বাস করতে পারেন না যে তাদের স্বজন আর ফিরে আসবে না।

এদিকে, হুমকি ও ভয়ভীতি এখনো অনেক পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস করলেও, অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। প্রশাসনের নীরবতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তাদের হতাশ করে তুলেছে।

বাংলাদেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা শুধু তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় নেই, তারা ন্যায়বিচারও চান। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, কিন্তু যখন রাষ্ট্রই ব্যর্থ হয়, তখন পরিবারগুলো এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়। গুমের এই বাস্তবতা শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নও।

মানুষের জীবনে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো অনিশ্চয়তা। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো প্রতিদিন এই অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে। তারা জানে না তাদের অপেক্ষা কখন শেষ হবে, বা আদৌ শেষ হবে কি না। কিন্তু একটাই প্রত্যাশা—একদিন তাদের স্বজন ফিরে আসবে বা অন্তত তারা জানতে পারবে তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে।

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৮:০৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলি।
আমি সাধারণ সত্য যা ঘটছে সেটাই বলি। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, সেটা যে পক্ষেরই হোক, আমার শেয়ার করতে ভাল্লাগে না।
একটা সময়ে আমেরিকা নিজের এয়ারফোর্স এবং নেভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিত্রের তালাশ ও মিত্রতা তৈরিঃ প্রসঙ্গ আমাদের জাতীয় ও রাজনৈতিক জীবন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাঙলায় পাওলো কোয়েলহোর সর্বাধিক বইয়ের অনুবাদক হিসেবে দেখেছি তিনি তাঁর প্রায় সকল বইয়ে একটা জিনিসকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। সেটা হলোঃ মিত্র তালাশ করা বা তৈরি করা। এই জিনিস আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫০


রমজান মাসের শেষ দিককার কথা। আব্বা-আম্মার সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম নানাকে দেখতে। মায়ের দিকের এই আত্মীয়র হার্টে চারটা রিং বসানো হয়েছে, কিন্তু কেবিনে ঢুকে বুঝলাম তার জবান এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:০৪



সূরাঃ ১ ফাতিহা, ১ নং থেকে ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। সমস্ত প্রশংসা জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর।
২। যিনি অনন্ত দয়াময়, অন্তহীন মেহেরবান।

সূরাঃ ১ ফাতিহা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫২



আমি কবিতা লিখতে পারি না।
আসলে আমি কোনো কিছুই সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি না। আমার লেখা মানেই এলোমেলো এবং অগোছালো বিশ্রী রকম। মাঝে মাঝে লোভ হয়, কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×