somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাগী ফকির

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিদিন অফিসের পরে কুইন স্ট্রিটের কোনায় দাঁড়াতে হয় আদিবের জন্য। ভীড় থাকে রাস্তায় বেশ। অকল্যান্ডে পাবলিক ট্রানসপোর্ট বলতে বাস। ট্রেন আছে, তবে বহুল ব্যবহূত না। বেশীর ভাগ মানুষ তাই গাড়ী নিয়েই যাতায়াত করতে চায়, ফলে ভীড়ও বাড়ে আরো। পরিণতি স্বরূপ আমাকে আদিবের জন্য আরো বেশক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।

যে কোনায় আমি সাধারণত দাঁড়াই, তার পাশেই একটা গাছের নীচে কাঠের বেঞ্চি আছে। শুনতে যত সুন্দর শোনায়, দৃশ্যটা তত সুন্দর না অবশ্য। বেঞ্চির পাশেই একটা ময়লার বিন, আর বিকালে দিকে বেশীর ভাগ সময় উপচাতে থাকে, ফলে ধারেকাছে দাঁড়ালে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। আর বেঞ্চির নীচটাও কেমন ভিজা ভিজা থাকে । আমি যদিও কোনদিন ওতে বসি নাই। অনেক চাইনিজ ছাত্রছাত্রীকে বসতে দেখেছি। আজকে আমার জায়গায় পৌঁছানোর আগেই দেখি যে এক গিটারওয়ালা ফকির বেঞ্চির উপরে দাঁড়িয়ে আছে হাসিমুখে। তার সামনে একটা বিস্কুটের কৌটাতে কিছু পয়সা। ফকিরের বয়স পঞ্চাশের উপর হবে। মাথার চুলও বেশ পাতলা।

দেখলাম গীটার বাজানো শুরু করার আগেই এক লোক কিছু পয়সা ফেললো তার কৌটায়। তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বাজানো শুরু করলো লোকটা - একটা ঝিন-ঝিন ধরনের বাজনা। বোঝা যাচ্ছিল একটাই কর্ড ধরে আছে, আর তারগুলির উপরে আঙ্গুল চালাচ্ছে খালি। ছোটবেলায় যেমন আমার খালাতো ভাইয়ের গিটার নিয়ে আমরা গায়ক গায়ক খেলতাম, ওইরকম অনেকটা।

এরমধ্যে তার সাথে চোখাচোখি হলো আমার। হাসাটা ভদ্রতা, তাই হাসলাম। যদিও তাকে খুব হাস্যসুলভ মানুষ আমার মনে হচ্ছিল না। আর হাসতে আমার বেশী ইচ্ছাও করছিলনা, ভীড়ের মধ্যে দাঁড়াতে এমনিতেই কেমন অনাথ অনাথ লাগে, তারমধ্যে কয়েকদিন ধরে পিঠে বেশ ব্যাথা এবং অকল্যান্ডে একটা ভ্যাপসা ধরণের গরম, হাস্যজ্জ্বোল অবস্থা না।

আমি হাসাতে সেও একগাল দিয়ে হাসলো, গিটারে ছরছর চলছে তখনো। যেহেতু সে বেঞ্চির উপরে দাঁড়ানো আর আমি রাস্তার উপরে, আমার দিকে হাসার জন্য সে মাথা নীচু করলো, নীচের দিকে তাকালো আর আমাকে ঘাড় বাঁকিয়ে উপরের দিকে ফিরতে হলো।

হাসি বিনিময়ের পরে ফকিরের ধারণা হলো (হয়তো) যে আমিও তাকে পয়সা দিবো। অথচ তার বাজনা আমার মোটেই ভালো লাগছিল না, বরং মাথা ধরে যাচ্ছিল। তাই তাকে কিছু না দেয়ার মনস্থ করেছিলাম আমি। সেই কারণে, আমার ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করতেও ইতস্তত লাগছিল। যদি ব্যাগ খুলতে দেখেই সে বলে - থ্যাঙ্ক য়ু্য, তাহলে তো পয়সা দিতেই হবে।

আমি যতই অন্য চারপাশ দেখি ফকির আমার দিকেই দেখে। তার বাজনা আরো শব্দময় হলো আর মুখ গম্ভীর হয়ে রাগরাগ হলো, তারপর থমথমে হলো। আমি আড়চোখে দেখলাম আর ভান করলাম মহা মনোযোগে রাস্তা দেখছি। এমন সময় আদিবের গাড়ী দেখে ফকিরের ঝনঝনের মধ্যে দিয়ে হনহন করে গিয়ে গাড়ীতে উঠলাম। তারপরও অনেকক্ষন তার রাগ রাগ চোখের দৃষ্টি আমার পিঠে আটকে ছিলো বুঝেছি, তাই বোধহয় পিঠের ব্যাথাটা যাচ্ছেনা এখনো!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:৪৮
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×