somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চীনের মুসলমান

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চীনের ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী খ্রীষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে চীনে ইসলাম ধমের প্রচার শুরু হয়। চীনের এই ধর্ম পশ্চিম আর মধ্য এশিয়া থেকে মুসলমান বণিকদের মাধ্যমে রেশমী পথ দিয়ে চীনে প্রবেশ করে। চীনে ইসলাম ধর্ম দীর্ঘকাল ধরে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকাশ লাভ করে, অবশেষে তা চীনের হুই জাতি আর উইগুর ও কাজাখ ইত্যাদি সংখ্যালঘু জাতির অবলম্বিত ধর্মে পরিণত হয়েছে।

চীনে ছড়িয়ে পড়ার সংগে সংগে ইসলাম ধর্ম চীনের ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির সংগে মিশে গিয়ে চীনের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসলাম ধর্ম চীনে হুই ধর্ম নামেও পরিচিত ছিলো। চীন গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবার পর এই ধর্ম চীনদেশে ইসলাম ধর্ম নামে সুপরিচিত হয়েছে। চীনের দশটি সংখ্যালঘু জাতি ইসলামধর্মাবলম্বী। তারা হলো হুই, উইঘুর, কাজাখ, কির্গিজ, উজবেক, তাতার, তাজিক, সালা, তোংসিয়াং, এবং পাওআন জাতি। উইগুর কাজাখ, কিরগিজ, উজবেক, তাতার, তাজিক ইত্যাদি জাতি প্রধানত উত্তরপশ্চিম চীনের সিনচিয়াং অঞ্চলে বসবাস করে। হুই, সালা,তোংসিয়াং পাওআন ইত্যাদি জাতির লোকেরা প্রধানত উত্তরপশ্চিম চীনের কানসু, নিংসিয়া, ছিংহাই, শেনসি এবং দক্ষিণপশ্চিম চীনের ইয়ুন্নান ইত্যাদি প্রদেশ আর অঞ্চলে বসবাস করেন। তাছাড়া হুই জাতির কিছু না কিছু মুসলমান প্রায় সারা চীনদেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে থাকেন। চীনের মুসলমানরা সাধারণত সুন্নী সম্প্রদায়ভুক্ত, তবে তাজিক জাতির মুসলমানরা শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত।

১৯৪৯ সালে চীন গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবার পর ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতার নীতি ভালোভাবে কার্যকরী করা এবং ব্যাপক মুসলমানদের ধর্মীয় জীবন ও রীতিনীতিকে সম্মান করার জন্যে ১৯৫৩ সালে চীনের ইসলামী সমিতি পেইচিংয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। চীনের সকল মুসলিম জাতির এই কেন্দ্রীয় ধর্মীয় সংগঠনের উদ্দেশ্য হলোঃ ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতি কার্যকরী করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে সহায়তা দেয়া এবং ইসলাম ধর্ম আর মুসলমান সম্প্রদায়ের বৈধ অধিকার ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সংগে বন্ধুত্বমুলক আদানপ্রদান, সফরবিনিময় আর সংহতি ও সহযোগিতা বিকশিত ও জোরদার করা এবং বিশ্ব শান্তি রক্ষা করা। তাছাড়া এই সমিতির উদ্যোগে ইসলামের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তত্পরতা আর প্রশিক্ষণও আয়োজিত হয়, ধর্মগ্রন্থ প্রকাশনা এবং ইসলামধর্মের সাংস্কৃতিক পুরাকীর্তি নিদর্শন সুরক্ষা ও সংস্কার, ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা, বিদেশে ছাত্র পাঠানো, নতুন ইমাম আর ধর্মসেবকদের শিক্ষিত করে তোলা ইত্যাদি কাজ পরিচালিত হয়।

বর্তমানে চীনে মুসলমানদের মোট সংখ্যা এক কোটি আশি লক্ষেরও বেশী, মসজিদের মোট সংখ্যা প্রায় তিরিশ হাজার, ইমাম প্রমুখ ধর্মীয়সেবকদের মোট সংখ্যা প্রায় পঞ্চাশ হাজার। যে সব প্রদেশ, অঞ্চল মহানগর, বিভাগ আর জেলায় মুসলমানরা বসবাস করে, সেই সব জায়গায় বিভিন্ন পর্যায়েন ইসলামী সমিতির স্থানীয় শাখা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। বিশিষ্ট মুসলিম ব্যক্তিরা চীনের ইসলামী সমিতি আর বিভিন্ন স্থানীয় ইসলামী সমিতির নেতৃস্থানীয় পদে রয়েছেন এবং চীনের বিভিন্ন পর্যায়ের গণকংগ্রেস আর গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলণের সদস্য হিসেবে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে সরকারের নীতি নির্ধারণ আর আলোচনা পরামর্শে অংশগ্রহণ করেন। চীনের ইসলামী সমিতির সর্বোচ্চ ক্ষমতাসংস্থা হলো চীনের ইসলাম ধর্মের জাতীয় সম্মেলণ, যা প্রতি চার বছরে একবার করে অনুষ্ঠিত হয়।

চীনে প্রকাশিত ইসলাম সংক্রান্ত পুস্তক আর সাময়িকী খুব বেশী। ইমাম আর আলেম আ ইসলাম গবেষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্যে চীনে উল্লেখিত সমিতির উদ্যোগে চীনের ইসলামী ধর্মশাস্ত্র মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এই সমিতির উদ্যোগে বা সাহায্যে চীনের মুসলমানদেরকে মক্কায় হজ করতে পাঠানো হয়।

তথ্যসূত্র: চীন আন্তর্জাতিক বেতার


১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×