তীব্র শব্দের ডিজেল চালিত নৌকা চলছে। পেরেক ঠুকে সাতটি চেয়ার বসানো। আমরা লোকও সাতজন। একটু নড়াচড়া করলে নৌকা কাত হয়ে পড়ে। মাঝির নাম অথৈ চাকমা। নামটা শুনে মনটা ভরে গেল। তার সঙ্গে আলাপ জমালাম। কেমন এই লেকের জীবন? নৌকা এত ছোট, কিন্তু শুভলং যাওয়া আসার ভাড়া ৭৫০। মাঝি পায় দৈনিক ১০০ টাকা। নিজরে দুপরের খাবার সাথে নিয়ে রওয়ানা দেয়। নুতন টুরিস্টদের সবসময়ই নতুন অনুভূতি। মজা আর মজা কিন্তু অথৈয়ের জন্য কাজটা বোরিং কি না জিজ্ঞেস করলাম না। প্রকৃতি দেখতে থাকলাম। আহা কী অপূর্ব প্রকৃতি। আস্ত একটা জলসমাধির ওপর মানুষের বনভোজন। মানুষের টুরিজম। তারপরও ভাল লাগে। লেকে একটা পরিচিত পাখি দেখলাম। কালো পাখি। ততক্ষনাত পাখির নাম মনে পড়লো না। কী নাম এ পাখির? ওড়ে, পানিতে ডোবে, ডাঙ্গায় চলে। লেকের মাঝে মাঝে একটু একটু ভূমি। তাতে ঘাস, লতা পাতা, গাছ তেমন নেই। থাকলেও ছোট ছোট। দূরে রাঙামাটি শহরের আউটলাইট দেখা যায়।
নৌকার অসহ্য ভটভট শব্দ শুনে মনে হয় সাঁতার না জানলেও লেকে লাফ দিয়ে পড়া উচিত। তবু কাছে পাড়ার শ্রেণী দেখা দেয়। আস্ত বড়, দীর্ঘ জাহাজের মতো লেকের পাড়ে এসে ভিড়েছে পাহাড়। মাটির পাহাড়, শক্ত মাটির পাহাড় এমনকি পাথরের পাহাড়। একটা পহাড়ের গায়ে লেখা বরকল থানা। পাহাড় আর লেকের থানা। একটা পাহাড়ের উঁচু শীরোনামে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ছাউনি।
হঠাত মনে পড়লো, ওই পাখিটার নাম পানকৌড়ি। চুপ চুপ দেয় ডুব ওই পানকৌড়ি। শুভলং কাছাকাছি আসতেই লেক চেপে এসে নদীর আকার নিলো। সম্ভবত এটাই কর্নফুলি নদী। যার সঙ্গে কৃত্রিম কাপ্তাই লেকটি গিয়ে মিশেছিল। দুদিকে খাড়া পাহাড়, উচু প্রসারিত। এমন দৃশ্য আমাদের দেশে থাকতে পারে এটা আমি ভাবিনি। এ দৃশ্যটাকে বিদেশি মনে হলো। বিদেশি যে মনে হলো সেটাও তো বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ বিদেশে তো আমি যাইনি। তারপরও সুন্দর দৃশ্যগুলো বিদেশি বিদেশি। ওই সময় কেন জানি না হার্ট অব ডার্কনেস কথাটা মনে এলো। এমনকি ব্লগার তিমুরের কথাও ভাবলাম একাবার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


