somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"হ্যাপী নিউ ইয়ার" - রিভিউ

২২ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোন এক মানুষের সুপ্ত প্রতিভা সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি নজরে আসে কার?
তাঁর বাবা মায়ের!
বাচ্চা সাদা কাগজ ভরিয়ে কাকের ঠ্যাং, বকের ঠ্যাং এঁকেছে, মা বাবা এমনভাবে খুশি হন, যেন ছেলের মধ্যে ভবিষ্যত পিকাসোর সন্ধান পেয়ে গেছেন!
ছেলে বানিয়ে বানিয়ে প্রচুর কথা বলে।
স্কুলের বন্ধুরা তাকে 'চাপাবাজ' ভাবলেও মা বাবা তার মধ্যে ভবিষ্যতের সাহিত্যিককে দেখতে পান। বানিয়ে গল্প বলতে না পারলে আবার লেখক হওয়া যায় নাকি?
শাকচুন্নির সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করা মেয়েটিও তাই নিজের মা বাবার কাছে বিশ্ব সুন্দরী।
এখন, কোন মা যদি নিজের ছেলের একটি পজেক্ট দেখে বলেন, "জঘন্য হয়েছে," তখন?
তখন বুঝতে হবে কাজটা আসলেই জঘন্য হয়েছে। কারন, "মা কাভি ঝুট নেহি বোলতি।"
বলছি জয়া বচ্চনের কথা। বলিউডের বর্ষীয়ান এবং দুর্দান্ত অভিনেত্রী জয়া বচ্চন নিজের ছেলে অভিষেক বচ্চনের লেটেস্ট ব্লক বাস্টার "হ্যাপী নিউ ইয়ার" দেখে বলেছেন, "সাম্প্রতিক সময়ে আমার দেখা সবচেয়ে জঘন্য ফিল্ম!"
আহা! সাধু! সাধু! জয়া বচ্চনকে সত্য বলার জন্য মেডেল দেয়া হউক! এমন সত্যবতী মাতা যদি উপমহাদেশের ঘরেঘরে থাকতো, তাহলে দেশগুলোই পাল্টে যেত!
বলিউডের 'ব্লক বাস্টার' মানেই মশলাদার কোন ছবি। হৃতিক রোশনের 'ব্যাং ব্যাং' হোক অথবা সালমান খানের লাথি, সবকিছুতেই মসল্লার ছড়াছড়ি।
কিন্তু অতিরিক্ত মসলা খেলে কী হয়?
ডাক্তার বলেছেন, উদরাময় রোগ হয়।
যাহাকে চলিত ভাষায় ডায়রিয়া অথবা পাতলা পায়খানা বলা হইয়া থাকে। 'হ্যাপী নিউ ইয়ার' দেখিয়া দর্শককূলের তেমনই পেটের পীড়া হইয়া যায়।
শাহরুখ খান অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন অভিনেতা, এই নিয়ে কোনই সন্দেহ নেই - কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা, ফারাহ খান তেমনই জঘন্য একজন ডিরেক্টর। শাহরুখের অভিনয় প্রতিভা যদি ঢাকার শিল্প ব্যাংক ভবনের উচ্চতা হয়, তবে ফারাহ খানের ডিরেকশনের জঘন্যতা (হিন্দিতে শব্দটি হবে 'ঘাটিয়াপানা') হচ্ছে বুর্জ খলিফা টাওয়ার।
কাজেই হ্যাপী নিউ ইয়ারে যদি শাহরুখ, সালমান, আমির, হৃত্বিকসহ বলিউডের সব ব্লক বাস্টার হিরোরা থাকতেন, তারপরেও এই মুভি সিনেমা হলে গিয়ে দশ ডলার খরচ করে দেখার মত কিছু হতো না। কারণ একটাই, ডিরেক্টর সাহেবার নাম ফারাহ খান!
এক মণ দুগ্ধে এক ফোঁটা গোমূত্র ঢালিয়া দিবার সামিল।
যাই হোক, ভারতীয় দর্শকের টাকা পয়সার প্রতি মায়া দয়া নেই, এবং তাঁরা মসলাদার খাবারের মতন ছবিও হজম করতে পারেন - কাজেই হ্যাপী নিউ ইয়ার ব্লক বাস্টার ব্যবসা করেছে।
সে তুলনায় 'লাঞ্চ বক্স' সিনেমার নামটাই অনেকে শুনেন নাই। ভাল ছবি দেখতে হলে এই সিনেমাটি দেখুন। ভাল না লাগলে আমাকে জানাবেন।
সেদিন খবরে দেখলাম ফারাহ খান বলছেন তাঁর স্ক্রিপ্ট অস্কার লাইব্রেরীতে জমা হয়েছে। তারা নাকি গবেষণার কাজে ব্যবহার করবে।
প্রথমে তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলাম।
তারপরে বুঝলাম, "What NOT to do in a film" চ্যাপ্টারে এই ছবির স্ক্রিপ্ট একটা বিরাট উদাহরণ হবেতো অবশ্যই।
শাহরুখ একবার বলেছিলেন, "আমি টাকা বানাবার জন্য ছবি করি না, সেজন্য আমার ব্যবসা আছে, বিজ্ঞাপন আছে আরও অন্যান্য অনেক কিছুই আছে। আমি ফিল্ম করি ভালবেসেই। সিনেমাই আমার প্রেম।"
কথার সত্যতা ছিল। সে সময়ে শাহরুখ বাজিগর, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, দেবদাস, স্বদেশ, চাক দে ইন্ডিয়ার মতন সিনেমা করতেন। দেবদাসেতো তিনি মাত্র বারো লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন। 'স্ক্রিপ্টের' প্রতি সম্মান দেখিয়ে!
কিন্তু গত কয়েক বছরে তাঁর সিনেমাগুলোর দিকে তাকান, রা-ওয়ান, চেন্নাই এক্সপ্রেস, এখন হ্যাপী নিউ ইয়ার!
তখন মনে হবে জয়া বচ্চন যাহা বলিয়াছেন, সত্য বলিয়াছেন। সত্য বহিঃ মিথ্যা বলেন নাই।
মুরুব্বিদের কী আর এমনি এমনিই চুল পাকে?
বিগ বাজেট ছবি, বড় বড় গুণী সব অভিনেতার কারনেই দর্শক আসলে ধোঁকা খেয়ে বোকা হয়ে গেছেন।
অভিষেকের দিন ভাল যাচ্ছে না। তাই বেচারা এই সিনেমা করেছে বুঝা যাচ্ছে। এর আগে ভাবতাম তাঁর ধুমের চরিত্রটাই বুঝি সবচেয়ে লেইম ছিল।
বোমান ইরানি সহ আর বাকিরা হয়তো অনুরোধে ঢেঁকি গিলেছেন। বুঝতে পারেননি যে আসলে তাঁরা অনুরোধে গু গিলে ফেলেছেন।
নাহলে অনুরাগ কাশ্যপ(ডিরেক্টর: গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর ১,২; প্রডিউসার: কুইন) এবং বিশাল(সংগীত পরিচালক) এই ধরনের চরিত্রে ক্যামিও করবে কেন?
কেন? কেন? কেন?
কোন উত্তর নাই!
ফারাহ খান 'মজা করার' ছলে ব্যক্তিগত কিছু ফাজলামিও করে ফেলেছেন। সরোজ খানকে পঁচিয়ে একটা বিশ্রী সীন করেছেন। সরোজ খানের মতন লেজেন্ডকে নিয়ে এই ফাজলামি! উত্তরে বলেন, "আমরাতো শুধুই মজা করেছি, নাথিং সিরিয়াস!"
তবে আশুতোষ গোয়াড়িকরকে একটা সিরিয়াস ম্যাসেজ দিয়েছেন।
সিনেমায় একটি ডায়লগ আছে, "ভারতীয়দের একটি সমস্যা আছে, এরা অলিম্পিক এবং অস্কারে সব লুজারদেরই পাঠায়।"
বেশ কিছুদিন আগে এক পুরষ্কার অনুষ্ঠানে আশুতোষ গোয়াড়িকারের সাথে ফারাহ খানের আপন ভাই, যে জঘন্যতায় বোনকেও ছাড়িয়ে যাবার ক্ষমতা রাখে, বোন বুর্জ খলিফা হলে সে মাউন্ট এভারেস্ট, সেই সাজিদ খানের ঝগড়া লেগেছিল। সাজিদ আশুতোষের সিনেমা নিয়ে ফাজলামি করছিল, আশুতোষের ভাল লাগেনি। এতে তর্ক তর্কি হয়, ঝগড়াও হয়। অবশেষে ফারাহ এসে তাতে হস্তক্ষেপ করেন।
যাই হোক, আশুতোষের 'লাগান' যে শ্রেষ্ঠ বিদেশী ভাষার ছবি হিসেবে অস্কারে গিয়েছিল, এইটাতো সবাই জানেন। ফারাহ সেটা নিয়েই 'রসিকতা' করলেন আর কি।
আপা! 'লাগান' বানাতে প্রচুর মেধা লাগে। আপনার দৌড় ঐ ম্যায় হু না, তিস মার খাঁ পর্যন্তই।
কোরিওগ্রাফি করতেন, সেটাই ভাল ছিল, আস্ত ফিল্ম ডিরেক্টর হবার বুদ্ধি যে কে দিল! ও হ্যা, মনে পড়েছে, শাহরুখ খান!
বঙ্কিম চন্দ্রের উপন্যাসে যেমন হাদিস কুরআনের ব্যাখ্যা খোঁজা নিরর্থক, তেমনি বলিউডের ছবিতেও এখন লজিক খুঁজতে যাওয়া আহাম্মকি।
যদি রেগে যাওয়া নায়কের এক কান দিয়ে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন, তবে আপনাকে হাসতেই হবে।
ছয়টা লুজার ওয়ার্ল্ড ডান্স চ্যাম্পিয়নশিপে ন্যায়্ভাবেই ট্রফি জিতে যায়, তাহলেও আপনাকে মেনে নিতেই হবে।
কিছু করার নেই।
শাহরুখ-সালমানতো গেল, দেখা যাক 'পি.কে' নিয়ে আমির খান কী চমক আনেন। শুধু এই আমিরের জন্যই হলে গিয়ে হিন্দি সিনেমা দেখতে ইচ্ছা করে।
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলীকে ধন্যবাদ। তিনি একটি ট্যাবু ভেঙে দিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জন্মদিন উপলক্ষে একটি বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এই খবর প্রচার হওয়ার পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×