somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই পৃথিবী এবং মানব জাতি কি আসলেই কোন এক সুপ্রিম স্রষ্টার গড়া একটা ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন বা বুদ্ধিমান সত্তা??

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইনঃ
ফিলিপ জনসন ৩০ বছর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্ক্লি তে আইন পড়িয়েছেন। আইনের ছাত্র ও শিক্ষক হিসেবে যুক্তি তর্কে তিনি ছিলেন পারদর্শী।

১৯৮০ সালের দিকে একটি মতবাদ বাজারে আসে সায়েন্টিস্ট ও বিশ্বাসী দের কাছে- সেটা হল ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন। জনসন এই থিউরি টাকে গ্রহন করেন এবং এটাকে ডেভেলপ করেন নিজের মত করে।
এরপর, ডারউইন এর মতবাদের উইক পয়েন্ট এবং দুর্বল দিক গুলোকে আক্রমন করে, তার নিজের ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন থিউরি কে প্রচলন করেন তার বই- ডারউইন ইন ট্রায়াল। তার মতে, ডারউইন এর ইভালুশান এর থিউরি দুর্বল এবং বলতে গেলে নন এক্সিস্টেন্ট।

বলে রাখা ভালঃ ফিলিপ জন্সন কোন বিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাস্ট একজন আইনের শিক্ষক। বিজ্ঞানের লজিক আর আইনের লজিক এক রাস্তায় চলে না। আইন যুক্তি দিয়ে দিন কে রাত করতে পারলেও বিজ্ঞানের পক্ষে সেটা পসিবল না কোন ভাবেই।

যাই হোক-
ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন কি ? ফিলিপ এর মতে- আমাদের এই মহাবিশ্ব ও মানব সভ্যতা কোন এক সুপ্রিম ক্রিয়েশনিস্ট এর সুনিপুণ হাতে গড়া। এবং আমরা হোমো সেপিয়েন্স ইউনিভার্সের সবচেয়ে ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন করা প্রাণী। আমাদের আপাতত ডারুইনীয় থিউরি হচ্ছে আমরা কোন এক বুদ্ধিহীন, কারনবিহীন এবং ন্যাচারাল প্রসেসে এসেছি এবং আমরা সেখান থেকে আজকের এই উন্নত মানব সভ্যতা। যেহেতু আমরা এই থিউরির কোন সরাসরি প্রমান দেখাতে পারছিনা, সো ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন ই হচ্ছে একমাত্র হাইপোথিসিস ।

তার মতে ম্যাটেরিয়ালিজম ই হচ্ছে একমাত্র ফিলোসফিকাল এক্সপ্লেনেশান যার মাধ্যমে আমরা এক্সপ্লেইন করতে পারি কিভাবে এই পৃথিবী এবং হিউমান এক্সিস্ট করে।
তিনি ন্যাচারাল সিলেকশান থিউরি এবং ন্যাচারালিজম কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন। তার ন্যাচারিজম কে উড়িয়ে দেয়ার সাথে উড়ে যায়- কসমস এর জনক কার্ল স্যাগান ও। স্যাগান এর মতে, আমরা কখনই সেরা বা বুদ্ধিমান প্রাণ বা সেরা গ্রহ ছিলাম না বরং এই যে মহাবিশ্ব বা এর চারপাশে ধু ধু প্রান্তর এসব ছিলো, আছে এবং থাকবে। আমরা জাস্ট বিবর্তনের ধারায় এই মুহুর্তে আছি, ফিউচারে হয়ত অন্য কোন এক সভ্যতা আসবে।

আর স্যাগান বা কস্মলজ্জিস্ট রা যেহেতু এখনো প্রমান করতে পারছে না তাদের ক্লেইম- সো তার মানে কেউ একজন আমাদের কে ইন্টিজিলেন্ট হিসেবে তৈরি করেছে।

খেয়াল করে দেখবেন- উনার যুক্তি গুলো আইনের যুক্তি। বিজ্ঞানের লজিক এর চেয়ে আইনের লজিক দেখা যায় বেশি।

১. ডারউইন এর মতবাদ খন্ডানোর সময়ঃ যেহেতু ইভালুশনিস্ট রা আমাদের সামনে কোন ডাইরেক্ট প্রমান রাখতে সক্ষম নয় , সো তাদের মতবাদ বাদ। বরং আমাদের মতবাদ টাই সঠিক- যে আমরা ক্রিয়েশন হয়েছি কোন এক ইন্টেলিজেন্ট ভাবে।

২. কার্ল স্যাগান এর ন্যাচারালিজম এর মতবাদ খন্ডানোর সময়ঃ যেহেতু কস্মোলজিস্ট রা কোন ডাইরেক্ট প্রমান রাখতে সক্ষম নয় আমাদের সামনে যে কসমস গুলা এভাবেই আছে, এভাবেই থাকবে সো আমাদের মতবাদ ই সঠিক- আমাদের কে কোন এক বুদ্ধিমান গড বুদ্ধিমান ক্রিয়েশন হিসেবে ক্রিয়েট করেছেন।

সো তাহলে এই যে আমাদের চিম্পাঞ্জি ও বেবুন দের কমন এনচেস্টর এটাকে কিভাবে দেখা হয় আই ডি ( ঈন্টিলিজেন্ট ডিজাইন) থিউরিতে?
এটাকে পসিবিলিটি বলা যায় কোন একটা বাট হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। উনার মতে, যদি চিম্পাঞ্জির সাথে আমাদের ৯৯% জিনের মিল থাকে তাহলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে বা ইন্টারব্রিডীং করে মানুষ আর চিম্পাঞ্জির মাঝের কোন একটা ব্রিড জন্ম দেয় না কেন বিজ্ঞানীরা? কিংবা কলার সাথে আমাদের ২৫% জিনের মিল আছে, তো কলা আর মানুষের সাথে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে কোন একটা মধ্যসত্তা কেউ জন্ম দেয় না কেন? যেহেতু দিতে পারেনা- সো এই ইভালুশান থিউরি মিথ্যা বা সঠিক নয়।

তাদের মতে, ফাইনাল আন্সার - একজন গড বা ক্রিয়েটর অবশ্যই আছেন এবং উনি আমাদের কে বুদ্ধিমান ভাবেই সৃষ্টি করেছেন। এখন এই ক্রিয়েটর বা গড হতে পারে ক্রিশ্চিয়ান গড বা মুসলিম আল্লাহ বা হিন্দু ভগবান বা দেব দেবীর দল। তবে কেউ একজন আছেন সিউর। আমি জানিনা কে উনি, আমি জানিনা কত দিনে এই দুনিয়া ক্রিয়েট করেছেন, কিভাবে করেছেন বাট যেহেতু ইভালুশনিস্ট রা তাদের গডলেস ন্যাচারাল সিলেকশান প্রমান করতে পারেনি সো আমার মতবাদ ই সঠিক বলে আমি মনে করি।

বায়োকেমিস্ট মাইকেল বেহে তার ডারউইনস ব্লাক বক্সে আই ডি নিয়ে প্রচুর আলোচনা দেখিয়েছেন। সাথে পেয়েছেন ইন্টিলিজেন্ট থিউরিস্ট স্টিফেন ডি মায়ার কে।
উনার মতে- প্রকৃতিতে যে যায়গায় আমরা হাই ইনফরমেশান কন্টেন্ট দেখব সেটাই ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন এর প্রমান। এটা মৌমাছির হেক্সাগোনাল বি হাইভ থেকে হোক কিংবা প্রকৃতিতে পাওয়া সানফ্লাওয়ার বা পাইন কোনে ফিবোনচ্চি সিকোয়েন্স কিংবা সামুকের ইন্টারনাল খোলস কিংবা সমুদ্রের ঢেউয়ে খুজে পাওয়া দা গোল্ডেন রেশিও ( এটা নিয়ে ফিউচারে একটা লিখা লিখব )

যখনি আমরা ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন নিয়ে লিখব তখন চলে আসে একটা ভিন্ন বিষয়- ওয়েজ স্ট্রাটেজি (wedge strategy)

আই ডি'র মত এটার জনক ও বলা হয় জনসন কে, এটা নিয়ে লিখেছেন এক বিশাল বই- নামঃ The Wedge of Truth

সো, আসলে এটা কি? এটা হল- আই ডি থিউরির প্রবক্তাদের প্রতিষ্ঠান ডিস্কোভারি ইন্সটিটিউট এর একটা ইন্টারনাল মেমোরান্ডাম লিকড হওয়া সিক্রেট মেমোরান্ডাম যেটা এক্সিডেন্টালি লিক হয়ে যায় বাইরে। যদিও আইডি মুভমেন্ট এর লোকজন প্রচার করে তাদের সাথে ধার্মিক এর যোগসাজস নেই, অয়েজ ডকুমেন্ট প্রমান করে তারা এ নিয়ে মিথ্যা বলছে। তাদের মেন্টর, ফান্ডিং এবং মূল সাপোর্টার ধার্মিক এবং ক্রিয়েশনিস্ট রা। এই ডকুমেন্ট থেকেই বের হয়ে আসে- ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন এর আসল উদ্দেশ্য বর্তমান এক্সিস্টিং সায়েন্টিফিক থিউরি কে ছুড়ে ফেলা এবং সেখানে ধর্মীয় এবং ক্রিয়েনশনিস্ট এর মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা। তাদের এই লিক হওয়া ডকুমেন্টস ই তাদের আসল ধর্মীয় উদ্দেশ্য প্রকাশ করে দেয়।

সো, আজকের এই আই ডি আলোচনা শেষ করার আগে ফাইনাল ভারডিক্টঃ

১. Intelligent design (ID) বা আইডি কি ? এটা একটা সিউডোসায়েন্টিফিক আলোচনা বা বিশ্বাস যে আমরা ইভালুশান এর মাধ্যমে আজকের এই অবস্থায় আসিনি বরং কোন এক ক্রিয়েটর আমাদের কে বুদ্ধিমান হিসেবে পাঠিয়েছেন।
২. Intelligent design (ID) কি সায়েন্টিফিক থিউরি? না। কোন থিউরি কে সায়েন্টিফিক হতে হলে এটাকে টেস্টেবল হতে হবে এবং অভসারভেবল এভিডেন্স থাকতে হবে। আইডির এমন কোন টেস্ট করা পসিবল হয় নি বরং ডারউইন এর উইক পয়েন্ট গুলো বের করে যেগুলা প্রমান করা যায়নি সেজন্য আলাদা একটা হাইপোথিসিস হিসেবে দাড় করানো হয়েছে আই ডি কে।

৩. Intelligent design (ID) কেন এত জনপ্রিয়তা হুট করে? কারন ১৯৮৭ সালে ইউ এস এ তে ক্রিয়েশনিস্ট মতবাদ কে কোন স্কুল কলেজ ইউনিতে পাঠদান নিষিদ্ধ করা হয়। সো ধার্মিক দের দরকার ছিল নতুন কোন এক থিউরি এবং সেই স্থান করে নিয়েছে আইডি এবং এটাকেই তারা স্কুল কলেজে পড়ানোর জন্য লবিং করে আসছে এবং প্রতিষ্ঠা করার চেস্টা করছে। ২০০৫ সালে Kitzmiller v. Dover Area School District ইন্টেলিজেন্ট মতবাদ কে বাদ করে দেয়া বিখ্যত রায়এর মামলায় জাজ রায় দেন অবৈজ্ঞানিক কোন থিউরি বা মতবাদ স্কুলে পাঠদান করা যাবেনা ক্রিয়েশনিস্ট থিউরির মত এবং এতেই আইডি আন্দোলন স্কুল কলেজ ইউনিতে পড়ানো রাস্তা ও বন্ধ হয়।


৪. Intelligent design (ID) এর পিছনে কারা? আইডির জনক আইনবিদ ফিলিপ জনসন তো আছেন সাথে আছে বৈজ্ঞানিক এক্টিভিস্ট ও ইন্সটিটিউট Discovery Institute's Center for Science and Culture (formerly Center for the Renewal of Science and Culture) in Seattle, WA. এছাড়াও, ক্রিশ্চিয়ান অর্থোডক্স রাও ফান্ডিং করছেন কারন তাদের ক্রিয়েশনিস্ট মতবাদ কে আদালত ১৯৮৭ তেই বাদ করে দিয়েছেন চিরতরে স্কুল কলেজ এডুকেশান থেকে।

৫. ওয়েজ স্ট্রাটেজি কি? এটা প্রচলিত বিজ্ঞান শিক্ষা কে বাদ দিয়ে নতুন ক্রিয়েশনিস্ট মতবাদ ও Intelligent design (ID) কে সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় ঢুকানোর একটা সিক্রেট মেমোরান্ডাম যা এক্সিডেন্টালি ফাস হয়ে যায়।

৬. কেন আমরা Intelligent design (ID) মেনে নিচ্ছিনা বা স্কুলে পড়াচ্ছিনা? আসলে ইভালুশান বা বিবর্তন একটা সায়েন্টিফিক থিউরি যার মাধ্যমে আমরা এক্সপ্লেইন করার চেস্টা করি কিভাবে এই পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব থেকে আজকের এই হোমো সেপিয়েন্স। কিন্তু Intelligent design (ID) জাস্ট একটা হাইপোথিসিস বা আইডিওলজি যা প্রচলিত সায়েন্স কে আক্রমন করে । ইভালিউশান ও Intelligent design (ID) দুইতা ডিফারেন্ট টপিক, যারা আলোচনা এবং প্রয়োগ করা হয় ডিফারেন্ট মেথডে এবং অবশ্যই এদের কে জাজ করতে হবে ডিফারেন্ট মাত্রায়।

৭. সায়েন্টিফিক থিউরি ওফ ইভালুশান কি Intelligent design (ID) কে বা গড কে অস্বীকার করে ডাইরেক্টলি? না। যেহেতু Intelligent design (ID) বা গড বিজ্ঞানের বাইরের বিষয় সো, বিজ্ঞান সমাজ সাধারণত এটা নিয়ে কথা বলেনা। ডারউইন নিজেও একজন বুদ্ধিমান সুপ্রিম ডিজাইনার এর এক্সিস্টেন্স নিয়ে চিন্তা করেছিলেন কিন্তু তিনি কখনো সেটা তার কাজ বা ইভালুশান এর সাথে কনফ্লিক্ট করেন নাই। কারন-ধর্ম বিশ্বাস আর প্রমানিত বিজ্ঞান আলাদা জিনিষ।

৮. ইভুলিউশান কে মিথ্যা বা ভুল বললে বা জাস্ট একটা থিউরি বললে সমস্যা টা কই?

ইভালিউশান কে জাস্ট থিউরি বললে এটা একটা মিস লিডিং জিনিষ হয় এবং পুরা দুনিয়ায় থিউরি মানে একটা আইডিয়া বা হাঞ্চ এটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

সায়েন্টিফিক থিউরি অফ ইভালিউশান বিজ্ঞানের একটা মোস্ট প্রমিনেন্ট এবং রোবাস্ট থিউরি। শত শত হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক আলাদা আলাদা ভাবে অবসার্ভ করে ন্যাচারাল ফেনোমেনা প্রেডিক্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। গত ১৫০ বছরে এমন কোন মতবাদ স্ট্রংলি আসেনাই যাতে করে আমরা থিউরি অফ ইভালিউশান কে বাদ দিতে পারি।

Theodosius Dobzhansky, বিংশ শতাব্দীর মোস্ট প্রমিনেন্ট জেনেটিসিস্ট এর মতে, "Nothing in biology makes sense except in the light of evolution."

৯. ইভালিউশান থিউরি নিয়ে কি কন্ট্রোভার্সি নেই? আছে, এবং বৈজ্ঞানিক দের মধ্যেই প্রচুর। বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হল, যদি ভিন্ন কোন যুক্তি লজিকাল এক্সপ্লেনেশান দেখাতে পারে কেউ প্রমান সহ, তাহলে যে কোন এক্সিস্টিং মতবাদ কে বাতিল করা যায় । যেহেতু, গত ১৫০ বছরে কোন ভিন্ন প্রমানিত মতবাদ আসে নি সো এখনো পর্যন্ত ইভালিউশান মতবাদ ই সঠিক। যেদিন প্রমান সহ, ভিন্ন মতবাদ আসবে এবং সবাই সেটা গ্রহন করবে সেদিন আজকের এক্সিস্টিং মতবাদ বাদ করে দেয়া হবে।

ইভালুশান শুরু হয় বায়োলজিকাল অর্গানিজমে মিউটেশান এর মাধ্যমে রিপ্রোডাকশান এর সময়। এভাবে বার বার সারভাইভাল এবং রিপ্রোডাকশান এর সময় এডভান্টেজ গুলো ফিউচার জেনারেশানে চলে যায় আর ডিজেডভান্টেজ গুলা আস্তে আস্তে হারিয়ে যায়। এটাই হল- প্রসেস অফ ন্যাচারাল সিলেকশান যেটা চলে আসছে- বিলিয়ন বছর ধরে।

ভেরি স্পেসিকালি বললে ৩.৫ বিলিয়ন বছর ধরে। এভাবেই একের পর এক কমপ্লেক্স মিউটেশান , সাইরভাইবাল ও রিপ্রোডাকশান এর ফলে আমরা পেয়েছি চূড়ান্ত সব কমপ্লেক্স লাইফ ফর্ম যারা এই মারাত্মক পরিবেশে সারভাইব করতে পেরেছে এবং খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এদের এই চূড়ান্ত কমপ্লেক্স ফর্ম দেখে আমরা এদেরকে বুদ্ধিমান সত্তা বা কোন এক ক্রিয়েটর এর নিপুন হাতে গড়া বলে ভুল করি বা ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন বলে ভুল করি।

আইডি এক্টিভিস্ট দের সবচেয়ে স্ট্রং যুক্তি মতে, সেলুলার লেভেলে ইরিডসিউভ্লি কমপ্লেক্স অর্গানিজম পাওয়া যায় ( ব্যাক্টেরিয়াল ফ্লাজেলাম উদাহরন) যাতে করে বুঝা যায় কেউ একজন ডিজাইন করেছে এই জিনিষ। কারন- এর আগের স্টেজ ছিল নন ফাংশানাল এবং সেখান থেকে হুট করে এই ফাংশানাল কমপ্লেক্স অর্গানিজমে আসা ইম্পসিবল।

ওকে, ইভালুশান কোন পরিপূর্ন ও কমপ্লিট মতবাদ নয় কারন এখনো গবেষনা চলমান্ যেটা জ্ঞানের একটা পার্ট। সো, একটা ফ্লাজেলাম এর কারন ব্যাখ্যা না করতে পারা দিয়ে লক্ষ কোটি এক্সপ্লেনেশান করতে পারা কে বাদ করে দেয়া একমাত্র কন্সপিরিসি প্রবক্তাদের শোভা পায়, বিজ্ঞানীদের নয়।


সো দিনশেষে আমরা ইভালিউশান এর বিপক্ষে ধার্মিক ও ক্রিয়েশনিস্ট দের হাজারো যুক্তি, মতবাদ পাব যা দিয়ে তারা প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে তাদের অবৈজ্ঞানিক মতবাদ। এর সাথে কিছু বিশ্বাসী বৈজ্ঞানিক রা যোগ দিবে হয়ত- কিন্তু তাদের ল্যাক অফ নলেজ ও ক্রেডিবিলিটি এবং অবৈজ্ঞানিক মতবাদ বৈজ্ঞানিক ওয়েতে প্রমান করতে না পারার কারনেই তাদের মতবাদ কে বিজ্ঞান মেনে নিবেনা। কারন, বিজ্ঞান বিশ্বাস করে লজিকে, বিজ্ঞান বিশ্বাস করে প্রমানে, বিজ্ঞান বিশ্বাস করে অভজারেবল এক্সপ্লেনেশান এ।

এই যে উপরোক্ত বিজ্ঞানীদের মত, আমাদের দেশেও বিজ্ঞান ভার্সাস ধার্মিক, ইভালুশান থিউরি বনাম আকাশ থেকে ৯০ হাত লম্বা মানুষ পড়ার থিউরি পাওয়া যাবে। আমাদের দেশের ভিন্ন মতবাদের সিউডোসায়েন্টিস রা সাধারন পাব্লিক দের তাদের মত প্যারা মজিদ বানিয়ে রাখতে চাইবে, জ্ঞান বিজ্ঞানের আলো থেকে দূরে রাখতে চাইবে। এই কারনে- আমাদের দেশে যতটা না ডারউইন এর বই বিক্রি হয় তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় তার মতবাদ কে খন্ডন করে লিখা অবৈজ্ঞানিক বই প্যারা মজিদ বিজ্ঞান বই এর নামে। এই কারনে- আরজ আলীর বই যতটা বিক্রি হয় তার চেয়ে বেশি বিক্রি হয় , তার মতবাদ খন্ডন করে লিখা আরজ আলী সমীপে। কারন- আমাদের ইগ্নোরেন্ট এবং অশিক্ষিত ধার্মিক সমাজ সত্য মেনে নেয়ার চেয়ে অলৌকিকতার পেছনে দৌরায় বেশি।

ইউএস এ আইন করে ক্রিয়েশনিস্ট বা অবৈজ্ঞানিক বই স্কুল কলেজে পড়ানো বা এ ধরনের মতবাদ প্রচার ও প্রসার এর বিপক্ষে আদালতে রায় দিয়েছে, আমাদের দেশের আদালত ও নেই, আইন ও নেই, বিচার ও নেই যে এই ধরনের আইন করবে বা রায় দিবে।

যার কারনেই- জ্ঞান বিজ্ঞান মেধা আর শিক্ষার মানের তালিকার পুরা দুনিয়ার সবার তলায় আমাদের অবস্থান আজকে। দুনিয়ার নিকৃষ্ট জাতি হিসেবে আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের কে প্রমান করে চলেছি সব দিক থেকে।

যতদিন না আমরা সত্য পথে পা না বাড়াব, জ্ঞানের দরজার কড়া না নাড়ব, আলোর পথে পা না বাড়াব- ততদিন আমাদের কে এভাবে সবার নীচে অবস্থান করতে হবে। উন্নতির জন্য- জ্ঞানের রাস্তায় আসা আবশ্যিক।

রেফারেন্স, উদ্ধৃতি, আইডিয়া, লিখা ও সব ধরনের ক্রিটিকাল আর্গুমেন্ট নীচের বই ও লিঙ্ক গুলোতে পাওয়া যাবে।

বইঃ
The Wedge of Truth- ফিলিপ জনসন
Darwin on Trial- ফিলিপ জনসন
An Easy-to-Understand Guide for Defeating Darwinism by Opening Minds- ফিলিপ জনসন
The God Dellusion- রিচার্ড ডকিন্স
Darwin's nemesis: Phillip Johnson and the intelligent design movement- ডেম্বেস্কি
Darwin's Black Box- মাইকেল বেহে

অনলাইন লিঙ্কঃ
বিজ্ঞান কি গড কে বাতিল করতে পারে ?

ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন এর ফ্ল বা ভূল সমূহ

ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন ও প্রশ্ন উত্তর- ১

ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন ও প্রশ্ন উত্তর- ২
ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন এর এডভোকেট ইন্সটিটিউট

ইন্টিলিজেন্ট ডিজাইন এর জনক ফিলিপ জনসনের সাক্ষাতকার
ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন থিউরির অন্যতম পুরোধা- বায়োকেমিস্ট স্টিফেন সি মায়ার এর লিখা সমূহ

ছবিঃ ডিসকভারি.ওআরজি ওয়েবসাইট
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ৯:০৬
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

" হিজি ;) বিজি " - ২ - আমি এবং আমার বই পড়া ও কিছু লেখার চেষ্টা।

লিখেছেন মোহামমদ কামরুজজামান, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২১ বিকাল ৫:৫০


ছবি - odhikar.news

" আমাদের সমাজে চলার পথে একেক মানুষের একেক রকম নেশা থাকে । কেউ টাকা ভালবাসে, কেউ ভালবাসে ক্ষমতা, কেউ ভালবাসে আড্ডা আবার কেউ ভালবাসে গান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর ব্লগে আসবো না।

লিখেছেন ইমরোজ৭৫, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৭



আমি অনিদিষ্ট কালের জন্য ব্লগে আসতেছি না। কারন আমার মন খারাপ। আর গ্রামীনফোন দিয়ে সামহোয়্যারইন ব্লগে ঢুকা যাচ্ছে না। আরবা ভিপিএন এ দিয়ে তখন আবার ঠিকই প্রবেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হেফজখানা জীবনের এক শীতের রাতের কথা

লিখেছেন আহমাদ মাগফুর, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:২৫



তখন হেফজখানায় পড়ি। সাত - আট সিপারা মুখস্থ করেছি মাত্র। সিপারার সাথে বয়সের তফাৎটাও খুব বেশি না। তো একদিন রাতের কথা। শীতের রাত। সবাই ঘুমিয়ে গেছে। আমার ঘুম আসছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঘের কাছে রোদ্দুরের চিঠি-০৭

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ১০:২৩


#মেঘের_কাছে_রোদ্দুরের_চিঠি_৭

#একটু_ভাল্লাগা_দিবে?
হ্যালো মেঘ,
আছো কেমন, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। বাসায় মেহমান ছিল তাই চিঠি লেখা হয়ে উঠে নাই। মন খারাপ বা অভিমান হয়নি তো! আর মোবাইলে লিখতে লিখতে মে থাক গেয়ি। পিসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবু খাইছো? - বাবা খাইছো?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ৩:৫০

গত কিছুদিন থেকে আমি পরিবারের সাথে থাকছি না। তারা দেশে বেড়াতে গেছে। আর আমি একলা পুরা বাসা নিজের রাজত‍্য প্রতিষ্ঠা করে বসে আছি।



রাজত‍্য প্রতিষ্ঠার মূল ধাপ শুরু হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×