যে ছবিটার কথা আজ বলতে যাচ্ছি সেটা একটা চিলিয়ান ছবি। নাম 'মাচুকা'। গতমাসে ডিভিডিটা কিনেছিলাম। দেখতে দেখতে গতকাল! অসাধারন একটা ছবি। আমার ১২ পাউন্ড কড়ায়-গন্ডায় উসুল।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত চিলির সামজবাদী প্রেসিডেন্ট সালভেদর আলেন্দের বিরূদ্ধে ১৯৭৩ সালের শেষদিকে সমাজের ধনিক শ্রেনীর পৃষ্টপোষকতায় বুর্জোয়া ধ্যানধারী সামরিক নেতা আগস্টো পিনোশের নেতৃত্বে যে মিলিটারী ক্যূ ঘটেছিল তারই পটভুমিকায় নির্মিত এই ছবি। ছবির কাহিনী একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় গড়ে উঠলেও 'রাজনীতি' বা 'সমাজনীতি' নয়, ছবির মূখ্য উপাদান হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা তিন কিশোর-কিশোরীর মধ্যেকার বন্ধুত্ব। অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়, নীতিবান এবং আপোষহীন চরিত্রাধিকারী ফাদার ম্যাকেনরো পরিচালিত প্রধানত এলিট শ্রেণীর বাচ্চাদের হাইস্কুলে পড়তে আসে গরীব শ্রেণীর পেদ্রো মাচুকা এবং আরো গুটিকয় ছেলে। কিন্তু শ্রেণীবৈষম্যের বাস্তবতায় অভিজাতদের কাছে ওরা প্রত্যকেই একদিকে যেমন হয় লাঞ্ছিত, নির্যাতিত অন্যদিকে নিজেরাও ভোগে আত্বহীণমন্বতায়। এরমাঝেও বস্তিবাসী মাচুকার সাথে ক্রমেই আশ্চর্যরকম বন্ধুত্ব গড়ে উঠে ধনবান পরিবারের অন্তর্মূখী চরিত্রের গনযালো'র। সাথে যোগ দেয় মাচুকার প্রতিবেশী সমবয়সী কিশোরী সিলভানা। এভাবে মাচুকা-গনযালো দুই বন্ধু একে অন্যের চোখে নিজেদের থেকে ভিন্ন এক সমাজ, ভিন্ন এক জীবনধারা দেখতে থাকে আর তাদের মাঝখানে ঠাই হয়ে থাকে সিলভানার কোমল-কঠোর সাহচর্য। কিন্তু সবকিছুই পাল্টে যায় সময়ের সাথে, রাজনৈতিক ঘটনাচক্রে, সামাজিক বাস্তবতায়। সমাজতণ্ত্রী আর বুর্জোয়াদের সংঘাতে মিলিটারী করে জায়গা দখল, প্রতিবাদীরা হয় নির্যাচিত। একদিকে সমাজে বাড়ে অস্থিরতা, অন্যদিকে সম্পর্কে জন্মে অবিশ্বাস। একপক্ষের যা জয়, অন্যপক্ষের জন্য তা পরাজয় মনে হলেও কঠিন সত্যটা আসলে হলো এই যে- সমাজে ধনী-গরীব, পাওয়া আর না-পাওয়াদের যে ব্যবধান আছে সেটা সবচে বেশী প্রকট হয়ে উঠে তখনি। তাই প্রতিবাদে সিলভানার হয় মৃত্যু, মাচুকার রক্তে বয় ঘৃণা আর গনযালো শেষপর্যন্ত আড়াল খোজে তার অভিজাত পরিচয়ে। ক্রমবর্ধনশীল সামাজিক বৈষম্যের উত্কট বাস্তবতার মাঝেও ফাদার ম্যাকেনরো যে শ্রেণী-সংহতির উদাহরণ গড়তে চেয়েছিলেন সেটা তাই অধরাই থেকে যায়। রাজনীতি যুগে যুগে এভাবেই কলুষিত করে আসছে মানুষের নিষ্পাপতা আর কোমলতাকে।
অসাধারণ একটি ছবি। কাহীনি আর অভিনয় ছাড়াও এ ছবির ডিটেইলিং খুবই ভালো-কস্টিউম ডিজাইন থেকে শুরু করে রাস্তার পাশের দেয়ালের গ্রাফিটি পর্যন্ত খুব খেয়াল করে দেখানো হয়েছে। আমি জানিনা বাংলাদেশে চিলির এই ছবিটা পাবেন কিনা। তবে চাইলে দোকানদারকে বলতে পারেন বাইরে থেকে এনে দিতে পারবে কিনা। আর দেশের বাইরে যারা আমার মতো ছবি-পাগল আছেন তারা ভালো ছবি দেখতে চাইলে আগে এটা দেখতে পারেন। কেউ দেখে থাকলে জানাবেন।
আলোচিত ব্লগ
আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাস্তায় পড়ে থাকা একপাটি জুতো

রাস্তায় চলার পথে এমন দৃশ্য আমার মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে। আজও বাসায় ফেরার সময় ঠিক এমনই একটা দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়ালাম—রাস্তার একপাশে নিথর হয়ে পড়ে আছে একটি শিশুর একপাটি জুতো... ...বাকিটুকু পড়ুন
সিনেমা-গান-খেলাধুলা
আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।