somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নস্টালজিক
পেশায় গীতিকার, লেখক। তড়িৎ কৌশল পড়া বাদ দিয়ে একদিন গীতিকার হব বলে বেড়িয়ে পড়েছিলাম শব্দের তালাশে। ইদানিং আবার বেড়িয়ে পড়তে ইচ্ছে হয়। এবার এই অন্তর্জাল থেকে। নস্টালজিক এর নাম শেখ রানা। নিজেকে চেনার পর হাতে বেশী সময় থাকে না।

ম্যারাডোনার আত্মজীবনী- বাংলা ভাষায় প্রথমবারের মত

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(১)

অবশেষে!

লম্বা সময় ধরে অপেক্ষা করছিলাম এই আনন্দ খবরটা দেয়ার জন্য। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

পাণ্ডুলিপি তৈরি। প্রুফ দেখা, ছবি, প্রচ্ছদ, ফ্ল্যাপের লেখা- অনুষঙ্গ সবকিছু দেখার পালা শেষ করে অবশেষে ম্যারাডোনার আত্মজীবনী পাঠকের হাতে পৌঁছে যাবার নিকট দূরত্বে দাঁড়িয়ে।

ম্যারাডোনার অটোবায়োগ্রাফি পড়া শেষ করেছিলাম এডিনবরায় বসে, ২০১৪ তে। শেষ করেই ভেবেছিলাম কেমন হয় অনুবাদ করলে? যদিও শুরুতে বই এর ভলিউম নিয়ে মুহূর্তের দোটানায় ছিলাম। জানতাম, লম্বা সময় লাগবে। কিন্তু এত ভাবাভাবি করে তো জীবন কাটাইনি কখনও। ব্যাস! কোনো এক সুন্দর দুপুরে অনুবাদ শুরু করে দেই। নিকলসন স্ট্রিট এর স্টারবাকস এ বসে।

সেই লেখা, সম্পাদনা পর্ব শেষ করে এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে মলাটবন্দী হবার। অনেক সময় দিয়েছি, আনন্দ নিয়ে লিখেছি-তবু এক একদিন হাঁপিয়ে উঠেছি।
আজ এই কথাগুলো লিখতেও কেমন অদ্ভুত আলস্য মাখামাখি ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হচ্ছি।

(২)

ম্যারাডোনার ভক্ত তো বটেই কিন্তু ৮৬ বিশ্বকাপের আগে পরে তো খুব বেশী কিছু জানা হয়নি আমার। এই বইটা পড়ে জানলাম। সেই ছোট্ট ফাইওরিটোর জীবন থেকে ধীরে ধীরে সেবোলিতাস, বোকা জুনিয়র্স হয়ে খেটে খাওয়া মানুষের দল নেপোলি। রেলিগেশন দল থেকে স্কুডেট্টো জয় আর তো আছেই ৮৬ বিশ্বকাপের রুপকথা। উত্থান-পতন-ড্রাগস কেলেঙ্কারি- শটগান হইচই! ম্যারাডোনার অটোবায়োগ্রাফি পড়তে পড়তে এক একটা দৃশ্য দেখছিলাম নিখুঁত। পুরো লেখা শেষ করে যখন সম্পাদনায় বসলাম ঠিক সেই একই অনুভূতি ফিরে এলো।

একটা মানুষ ফুটবল খেলাটাকে ঠিক কতটা ভালোবাসলে এত ডিটেইল দিন তারিখ মনে রেখে ডায়েরিতে টুকে রাখে- অবিশ্বাস্য প্রায়! এক একবার মনে হচ্ছিল এই দিন তারিখের আধিক্য কোনোভাবে লেখাটার গতিকে থামিয়ে দিচ্ছে কী না, পরে মনে হলো নাহ- আত্মজীবনীতে ম্যারাডোনা ঠিক ম্যারাডোনার মতই আছে। সহজ কিন্তু ক্ষ্যাপাটে। সেরা কিন্তু বিতর্কিত। সত্যবাদী কিন্তু অনেক ঠিক-ভুলের সমাহার।

(৩)

যে জিনিষটা সবচাইতে বেশী আকৃষ্ট করেছে তা হলো নিজের জীবনের গল্পে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় তুলে না ধরা- গ্লোরিফাই না করা। ছেলেবেলার দারিদ্র থেকে ৯৪ বিশ্বকাপের সেই বিহবল ড্রাগস কেলেঙ্কারি সবকিছু অকপটে উঠে এসেছে ম্যারাডোনার নিজের জবানীতে।
আমি একবার ভেবেছিলাম লেখাটাকে একটু ডেকোরেট করবো কী না, পরে সিদ্ধান্ত বদলালাম। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকরা মূল বই এর আদলেই ম্যারাডোনাকে জানুক। একাত্ম হোক।

(৪)

বিভিন্ন চ্যাপ্টার ধরে ধরে শেষ করতে গিয়ে দেখি তাও প্রায় ৩৫০ পাতার কাছাকাছি হয়ে গেছে। সাথে কিছু দূর্লভ ছবি আছে আর দারুণ আকর্ষণ হলো বিভিন্ন সময়ের ১০০ জন ফুটবল খেলোয়ার সম্পর্কে ম্যারাডোনার নিজস্ব শব্দচয়ন। স্বভাবজাত রসিকতা, তীর্যক বাক্যবাণ আর অকুন্ঠ প্রশংসার অর্ঘ্য। পেলে , গারিঞ্চা, জোহান ক্রুয়েফ হয়ে ডেভিড ব্যাকহাম- কে নেই!

বর্ষাদুপুর-কে ধন্যবাদ জানাই ম্যারাডোনার আত্মজীবনী বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে নিয়ে আসার গুরু দায়িত্ব নেয়ার জন্য।রকমারীতে ইতিমধ্যেই প্রি সেল শুরু হয়ে গেছে। সপ্তাহ দুই এর জন্য। ৪০০ টাকা দাম বই এর, ২৫% কমিশনে ৩২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর ফেব্রুয়ারি, বই মেলা তো অপেক্ষা করছেই।

আর হ্যাঁ, প্রচ্ছদ করেছেন আমার প্রিয় চিত্রকর মুরাদ হোসেন।

(৫)

পাঠক, ফুটবল ইতিহাসের বিতর্কিত এক মহানায়ক এর আত্মজীবনী। প্রথমবারের মত। বাংলা ভাষায়। যারা ম্যারাডোনাকে ভালোবাসেন, যারা ভালোবাসেন না... ফুটবলপ্রেমী এবং অপ্রেমী-

সবার জন্য।
রকমারিতে প্রি সেল। আপনার কপি আজই অর্ডার করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:৩৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিযোগ, অভিযোগ, অভিযোগ

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৫:৫৫



সবার মতোই, আমার প্রাইমারী স্কুলের জীবনটা বেশ আনন্দের ছিলো: টিফিনের সময় ও স্কুল ছুটির পর ফুটবল খেলাই আমাকে স্কুলে ধরে রেখেছিলো। আমাদের টিফিনের ছুটি হতো, আমরা কোনদিন টিফিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ১৩ বছর!!!

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৭

দেখতে দেখতে সামুতে ১৩ টা বছর পেরিয়ে গেল!!! অথচ এখনো মনে হচ্ছে এইতো সেদিনের কথা। কিভাবে যে এতটা দিন হয়ে গেলো এখনো ভাবতে অবাক লাগে। সামুর বর্তমান অবস্থা অনেকটা জরুরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ও প্রিয়া তুমি কার?

লিখেছেন এম. বোরহান উদ্দিন রতন, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ দুপুর ২:৫৩





রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য প্রিয়া সাহা এমন কান্ড করেছে, এমন মনে করার কোন কারণ নেই। এটা বললে তার অপরাধের গুরুত্ব বরং হালকা হয়ে যাবে। সে যা করেছে তা অতি সুক্ষ্মভাবে বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয়া সাহাকে নিয়ে সাধারন মানুষ যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৩



১। সরল বিশ্বাসে এসব কথা বলা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। দেশের মানুষ জানতে চায় প্রিয়া সাহা কেন এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য পেশ করল। এর সঠিক উদ্দেশ্য কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয়া সাহা কি আর দেশে ফিরতে পারবে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩১



*** কোন এক ডোডো পোষ্টটাকে রিফ্রেশ করছে ***

উনার দেশে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে: প্রিয়া সাহার ঘটনা নিয়ে, উনার বিপক্ষে ব্যবস্হা নেয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×