সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০০৬ সকাল ৮:০৬
কচ্ছপ ও বানরের গল্প
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
একদিন এক বানর খুব মন খারাপ করে নদীর পাড় ধরে হাঁটছিলো। নদীর পারে রোদ পোয়াচ্ছিলো এক কচ্ছক। সে জিজ্ঞেস করলো, "কি বানর ভাই, মন খারাপ কেন?" ঃ আর বলো না কচ্ছপ, চাষীরা সব কলাগাছ উপড়ে ফেলেছে, খাবার কিছুই নেই, তাই মনের দুঃখে নদীর পারে হাঁটছি _ বানরের দু'চোখ দিয়ে অশ্রম্ন ঝরে। বানরের দুঃখে কাতর হয়ে সরলমনা কচ্ছপ বললো, "আহা আহা কাঁদছো কেন ভাইয়া। চলো আমরা নিজেরাই কলার চাষ করিগে। কিছুদিন সবুর করলেই দেখবে আমরা নিজেদের ফসল নিজেই খেতে পারছি"। ঃ আচ্ছা চলো তাহলে। বানর এবং কচ্ছপ একসঙ্গে বনে গেলো এবং নষ্ট করা কলাগাছগুলো গোড়া তুলে আরেক জায়গায় এনে বুনতে চাইলো। কিন্তু বানর ভাবলো, তার জন্য যেহেতু গাছে চড়া সহজ সেহেতু কোনও উঁচু গাছের মাথাতেই কলাগাছ বুনলে কচ্ছপ আর তাতে ভাগ বসাতে পারবে না। যে কথা সেই কাজ। সে করলো কি কলাগাছের গোড়াটি রেখে এলো নারকোল গাছের মাথায়। কিন্তু কচ্ছপ তার গাছটি সুন্দর করে মাটিতে পুঁতে দিলো। কিছুদিন যাওয়ার পর দু'জনে আবার ফিরে এলো তাদের লাগানো কলাগাছ দেখতে। বানর দেখলো তার গাছটি জন্মায়নি, গাছের মাথায় কলাগাছ হয় নাকি? কিন্তু কচ্ছপের কলা গাছগুলি শুধু বড়ই হয়নি, বরং কাদি কাদি পাকা কলা ঝুলছে সেসব গাছে। বানর তর তর করে গাছে উঠে সেগুলো মহানন্দে খেতে লাগলো। নিচে বসে কচ্ছপ বললো, "বানর ভাইয়া, আমাকে একটু দাও না, আমার সামান্যেই চলে যায়।" কিন্তু বানর কি আর কচ্ছপকে মনে রাখে, তার ধর্মই হলো অন্যকে ধোঁকা দেওয়া। যাহোক বানরের এই কর্মে কচ্ছপের খুব রাগ হলো। কচ্ছপ মনে মনে ভাবলো কি করে বানরকে একটা শিৰা দেওয়া যায়। ভাবতে ভাবতে বুদ্ধিও বের করলো। বানর যখন গাছে বসে পাকা কলা খেয়ে গাছের মাথায় কলা-ঘুম দিচ্ছে কচ্ছপ তখন ধীরে ধীরে অনেকগুলো চোখা বাঁশ এনে গাছের নিচে খাড়া করে পুঁতে দিলো। তারপর হঠাৎ করেই চেঁচিয়ে উঠলো. "কুমির আসছে, কুমির আসছে" বলে। কচ্ছপের চিৎকারে হঠাৎ ভয়ে বানরের ঘুম ভেঙে গেলো এবং বানর সোজা পড়লো এসে গাছের নিচে পূঁতে রাখা চোখা বাঁশের ওপর, আর কি, বানর অক্কা পেলো। কচ্ছপ তখন বানরকে টুকরো টুকরো করে তার আরও স্বজাতির কাছে গিয়ে বিক্রি করে এলো। এবং আসার সময় একথাও বলতে ভুললো না যে, তোমরা এখন তোমাদের স্বজাতির মাংস খাচ্ছো। কচ্ছপের এই আস্পর্ধা দেখে বানররাজ খেপে গেলো, তারা বেসবল ব্যাট ট্যাট নিয়ে কচ্ছপকে মারতে এলো। তারা প্রথমেই কচ্ছপকে মারতে গেলে খোলের ভেতর থেকে কচ্ছপ হাসতে লাগলো আর বলতে লাগলো, "আমার খোলশ ভেঙে আমাকে মারার সাধ্য তোমাদের নেই হে বানর"। এসময় এক বুদ্ধিমান বানর বললো, "চলো ওকে ধরে পানিতে ফেলে আসি"। এর কথা শুনে কচ্ছপ মায়াকান্না কেঁদে উঠলো, " না ভাই আমাকে পানিতে ফেলো না, আমি মরে যাবো গো. . . "। কিন্তু কচ্ছপের কান্না ওরা শুনলো না, ওরা কচ্ছপকে ধরে পানিতে ফেলে নদীর পারে দাঁড়িয়ে জটলা করতে লাগলো। কচ্ছপ তলিয়ে গেলো আবার কিছুৰণের মধ্যে ভুক্ করে ভেসে উঠলো একটি বিশাল লবস্টার নিয়ে। সেই লবস্টার দেখেতো বানরদের জিভে জল এলো, তারা জানতে চাইলো "কচ্ছপ ভাইয়া, এতো বড় লবস্টার কি করে ধরলে?" কথায় তখন গুড় মেশানো। ঃ বলবো কেন? - কচ্ছপ দাম বাড়ায়। ঃ বলোই না, আমরা তোমাকে প্রতিদিন একটি করে লবস্টার ধরে খাওয়াবো, তোমাকে আর বাকি জীবন কোনও কষ্ট করতে হবে না। বলো না _ বানরদের সম্মিলিত কণ্ঠ। ঃ আচ্ছা এতো যখন বলছো তখন বলছি কিন্তু তোমরা বিশ্বাস ভঙ্গ করো না, দেখো। ঃ না না তুমি বলো কচ্ছপভাইয়া। ঃ তবে শোনো, আমি আমার হাতেপায়ে পাথর বেঁধে জলে ডুব দিয়েছি, আর সঙ্গে সঙ্গে লবস্টার আমাকে খেতে এলে আমি ওকে ধরেই উপরে উঠে এসেছি। কচ্ছপের এই কথা শেষ হওয়া মাত্র বানরেরা তাদের হাতে পায়ে বড় বড় পাথর বেঁধে জলে ঝাঁপ দিলো। কিন্তু আর উঠতে পারলো না। শোনা যায়, বানরদের সেই প্রজাতি-দোষ এখনও রয়ে গেছে এখনও তারা মানুষের বিরম্নদ্ধে বার বার এরকম ক্থটচাল চালে আর নিজেরাই হরে-দরে মরে।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের খারাপ দিনের পর

আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কিংকর্তব্যবিমূঢ়

দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন
গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন
নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।