দৈনিক আমাদের সময় : আষাঢ় ১২, ১৪১৪
আনোয়ার চৌধুরী :
বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া অবশেষে দলের সংস্কারের ১৫ দফা খসড়া রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তার ঘোষিত রূপরেখায় এমনসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে খালেদা জিয়াকে বিএনপি চেয়ারপারসনের পদ ছাড়তে হবে। পাশাপাশি তিনি আর কখনও দলের চেয়ারপারসন এবং ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন না। কারও কারও মতে, রূপরেখা বাস্তবায়ন হলে খালেদা জিয়া শুধু চেয়ারপারসনের পদই হারাবেন না, বিএনপির রাজনীতি করার সুযোগই থাকবে না তার।
মান্নান ভূঁইয়া গতকাল বিকালে তার গুলশানের বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে দলে সংস্কারের ১৫ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন- খসড়া প্রস্তাবগুলো তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে দিয়েছেন। তবে তিনি জানান, চেয়ারপারসনের সঙ্গে প্রস্তাবের ব্যাপারে তার আলোচনা হয়নি। কিন' প্রস্তাবের খসড়ার একটি কপি তিনি লোক (১৫ দফা খসড়ার পূর্ণ বিবরণ পড়-ন বাংলাদেশ এর পাতায়) মারফত চেয়ারপারসনের কাছে পাঠাবেন। চেয়ারপারসনের সঙ্গে প্রস্তাবের ব্যাপারে আলোচনা সম্পর্কিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।
সাংবাদিকদের মান্নান ভূঁইয়া বলেন, সংস্কারের খসড়া প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের কোনও প্রস্তাব থাকলেও তাও বিবেচনা করা হবে। তাছাড়া প্রস্তাবগুলো পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের সুযোগ থাকছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারও চাপের কাছে নতি স্বীকার করে কিংবা গ্রেফতারের ভয়ে সংস্কারের খসড়া রূপরেখা ঘোষণা করিনি। দলের প্রয়োজনেই সংস্কার করতে হবে।
তিনি এর আগে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় সংস্কার প্রস্তাবের ব্যাপারে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সভা করে মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। ঘরোয়া রাজনীতি শুরু হলেই তা করা হবে। তবে রূপরেখা তৈরির আগে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে।
কথিত সংস্কারপন্থীদের পক্ষে মান্নান ভূঁইয়া ঘোষিত দলের সংস্কারের ১৫ দফা খসড়া রূপরেখায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষমতা খর্ব করার প্রস্তাব সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবে বলা হয়েছে- জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দদের সরাসরি ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ৩ বছরের জন্য দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। একই ব্যক্তি ৩ বছর মেয়াদি দুই মেয়াদের বেশি কিংবা ৬ বছরের বেশি চেয়ারম্যান হিসেবে থাকতে পারবেন না। যারা ইতোমধ্যে দুই মেয়াদ বা ৬ বছরের বেশি সময় উল্লেখিত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য হবে। এছাড়া, দলের চেয়ারম্যান যদি প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন তবে তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে রূপরেখায়। রূপরেখায় বলা হয়েছে- দলের কেউ দুই মেয়াদ প্রধানমন্ত্রী থাকলে তিনি আর প্রধানমন্ত্রী কিংবা দলের চেয়ারম্যান হতে পারবেন না।
রূপরেখার অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো হচ্ছে- গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত সময়ে সকল কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করতে হবে, জাতীয় স্থায়ী কমিটিসহ দলের ৮টি স্তরে চেয়ারম্যান মোট সদস্যের ১০ শতাংশ নিয়োগ দিতে পারবেন না, কমিটির কার্যক্রম সুনির্দিষ্টকরণ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন ছাড়া চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে কয়েকজন সদস্যের সমন্বয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কমিটি মনোনীত করতে পারবেন না, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তা কাউন্সিলরদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জাতীয় কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত হবেন এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নন এমন কাউকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা যাবে না। দলের গঠনতন্ত্রের ৮(খ) এর ১ থেকে ৪ ধারায় বর্তমানে চেয়ারম্যানকে যে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেয়া আছে, চেয়ারম্যান জাতীয় স্থায়ী কমিটির অনুমোদন ছাড়া এসব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না।
এর বাইরে খসড়া রূপরেখায় দলের মন্ত্রী, এমপি, স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং থানা কমিটির সদস্যদের প্রতিবছর জাতীয় নির্বাহী কমিটির কাছে সম্পদের হিসাব দান, সকল স্তরের কমিটিতে কর্মকর্তা নির্বাচনে দলীয় নেতৃবৃন্দের পরিবার ও নিকটা্তীয়দের অন্তর্ভুক্তিকে নিরুৎসাহিত করা এবং সব ধরনের মনোনয়ন দেওয়ার সময় প্রার্থীদের সম্পদের হিসাব দলের কাছে দাখিল করা ও নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যেসব সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণ করবে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সেগুলোর সমন্বয় সাধনের কথা বলা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া গতকাল বিকালে সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণার আগে দলের সংস্কারপন্থী গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে তার বাসায় বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মাহবুবুর রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মোশারফ হোসেন শাজাহান, মাহমুদুল হাসান, এএইচএম মোফাজ্জল করিম, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, জেড এ খান, আশরাফ হোসেন ও সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদনা: রঞ্জু
সংস্কারের ১৫ দফা খসড়া ঘোষণা করলেন মান্নান ভূঁইয়া - রূপরেখা মানলে বিএনপি ছাড়তে হবে খালেদাকে!
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন
সিনেমা-গান-খেলাধুলা
আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ওরা ভয়ংকর

বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!
শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন
জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।