somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাল্টে যায় শুধু খোলস, পাল্টায় না ভেতরের রূপ..

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(একসময় টাইন্যা টুইন্যা পাস (অধিকাংশ) রাজনীতিবিদ যখন দেশ চালতো তখন আফসোস করতাম...ইস! যদি উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ লোকের হাতে দেশ চালানোর দায়িত্ব থাকত, তাহলে হয়তো আমরাও মালয়শিয়া, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ানের মতো হতে পারতাম।)


নয় বছরের দীর্ঘ স্বৈরতন্ত্রের হাত থেকে যখন মুক্ত হই তখন ভাবি অচিরেই একটা সুখি সমৃদ্ব জাতি হিসেব আমরা পৃথিবীর বুকে জায়গা করে নেব। আমরা মুক্ত পরিবেশে আনন্দচিত্তে একটা রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন করি যারা আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কারিগর হবে। যারা ক্ষমতাকে ভোগের উপলক্ষ নয় বরং দায়িত্ব হিসেবে মনে করবে। নির্বাচিত সরকার শাসন ব্যবস্হায় পরিবর্তন আনে যাতে আর কোন লম্পট স্বৈরশাসক জন্ম নিতে না পারে। আমরা নিশ্চিতবোধ করি। দীর্ঘদিনপর ভবিষ্যৎত সুখের কথা ভেবে আমাদের মনে একটা সুখী সুখী ভাব আসে।
এভাবে দিন যায় রাত আসে, মাস পেরিয়ে বছর। কিন্তু আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোন কিছু চোখে পড়ে না। আমরা ভাবি দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনে জমে থাকা জঞ্জাল সরাতে ব্যস্ত সরকার। তাই হয়তো দেরি হচ্ছে। কিন্তু যখন বছর পেরিয়ে যায় আমাদের মনে সন্দেহ জাগে। আস্তে আস্তে সরকারে স্বরূপ প্রকাশিত হয়। আমরা দেখতে পাই কিভাবে একটা রাজনৈতিক দল জনগণের কথা বলে, জনগণের সাথে প্রতারণা করে পরিবাতন্ত্র, লুটপাট আর সীমাহীন দূর্নীতিতে ডুবে থাকে। আমাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। ভেঙ্গে যাওয়া টুকরোগুলো জমিয়ে রাখি আর অপেক্ষা করতে থাকি কবে মিথ্যেবাদী প্রতারক সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। অপেক্ষার প্রহর খুব দীর্ঘ আর কষ্টকর।

দীর্ঘ প্রহর শেষে একসময় সেই সময় আসে, আসে সুযোগ। আমরা এবার আগের দলকে ছুড়ে দিয়ে অন্যদলকে নির্বাচন করি। ভেঙ্গে যাওয়া স্বপ্নের টুকরোগুলো জুড়া দেই। আগের বারের সেই উচ্ছ্বাস যদিও নেই তারপরও ভাল লাগে। ভাল লাগাবোধ নিয়ে আমরা দিন গুনতে থাকি। একসময় বুঝতে পারি সরকার পরিবর্তিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু তার রূপের কোন পরিবর্তন হয়নি । সেই পরিবাতন্ত্র, লুটপাট আর দূর্নীতি- যা পার, যে ভাবে পার সবকিছু নিজের করে নাও। জমি, বাড়ী, গাড়ি, নারী.. কোন কিছু বাদ যায় না।
সময়ের পরিক্রমায় আবার সরকার বদল হয়। আবার সেই প্রতারকের দল। তবে এবার তারা অনেক কৌশলী। সবকিছু তারা এমনভাবে করে যাতে সহজে চোখে না পড়ে। কিন্তু বিশালতা এত ব্যাপক যে একসময় হাজার চেষ্টা করে লুকোতে পারে না।
তখন তারা ভিন্নকৌশল খুঁজতে থাকে কিভাবে চিরষ্হায়ীভাবে ক্ষমতা দখলে রাখা যায়। আর মুক্তির উপায় না পেয়ে এটাকে আমরা নিয়তি হিসেবে মেনে নিই।

হঠাৎ ১/১১ আসে। আর আমরা দেখতে পাই ঝকঝকে তকতকে সুট টাই পরিহিত কিছু উচ্চশিক্ষিত লোকজন দেশ চালানোর দায়িত্ব নেয়। আমরা তখন আবার বিভিন্ন স্বপ্নের রঙ বেরঙের বেলুন নিয়ে তাতে চাওয়া পাওয়ার ইচ্ছেগুলোকে বাতাস বানিয়ে ভরতে থাকি। আমরা এতটাই আবেগতাড়িত হই যে বেলুনগুলিকে একসময় মনের আনন্দে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেই।
কিন্তু হায়! কিছুদূর যাবার পর যখন দেখতে পাই বেলুনগুলি একে একে ফাটতে থাকে তখন আবার কষ্টের সাগরে ভাসতে থাকি। আর অপেক্ষা করতে থাকি হয়তো আমাদেরই কেউ আসবে আমাদের খোঁজে। যদিও জানি অপেক্ষার প্রহর খুব দীর্ঘ এবং কষ্টকর।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৪৬
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×