somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মভিত্তিক মুসলিম পরিচয় বনাম জাতিসত্তা/নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ঘিরে বিতর্ক ও ভন্ডামি.......।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আল্লাহ মানব জাতিকে বিভিন্ন জাতি গোত্রে বিভক্ত করে দিয়েছেন যেন তারা পরস্পর পরস্পরকে চিনে নিতে পারে বা তাদের পরস্পরকে চিনতে সুবিধা হয় (আল-কোরআন ৪৯:১৩)। ইসলামি ধর্ম মতে ইসলামই হল সর্বশেষ ধর্ম এবং এরপর নতুন কোনো ধর্ম আর পৃথিবীতে আসবে না। কিন্তু এর মানে এই না যে ইসলাম ধর্মের ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানবজাতি যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জাতি গোত্রে ভাগ হয়ে আছে সেই সীমারেখা গুলোও উধাও হয়ে যাবে।

সময়ে সময়ে মানবজাতির উপরে যে সকল ধর্ম নাজিল হয়েছে…এটা যেমন আল্লাহর ফয়সালা, তেমনি মানবজাতি যে বিভিন্ন জাতি গোত্রে বিভক্ত, সেটাও মহান আল্লাহতালার ফয়সালা। অবশ্যই মানবজাতি ইসলাম এবং অন্যান্য যে সকল ধর্ম আছে সেই সব ধর্মই পালন করবে কিন্তু তাদের মাঝে যে নৃতাত্ত্বিক বিভিন্নতা বা জাতিসত্তার বৈচিত্রময় পরিচয় আছে তা সংরক্ষণ করে বা তা বজায় রেখেই। নৃতাত্ত্বিক/জাতিসত্তার পরিচয় (জন্মগত) আর ধর্মের ভিত্তিতে (যা বেছে নেয়ার সুযোগ আছে) পরিচয় এই দুটো কিন্তু কখনোই সাংঘর্ষিক না। সংঘর্ষ হতে পারে আপেলে আপেলে বা কমলার সাথে কমলার। কিন্তু আপেল আর কমলায় কখনোই সংঘর্ষ হবে না যেহেতু আপেল আর কমলা পরস্পর তুলনীয়ই নয়।

তাই জাতিসত্তা/নৃতাত্ত্বিক পরিচয় আর ধর্মীয় পরিচয় যখন পরমত সহিষ্ণুতার সাথে সহাবস্থান করে তখন মানব সমাজ আরো সভ্য হয়, উন্নতির শিখর পানে এগিয়ে যায়।

অন্যদিকে এই মতাদর্শের মানুষগুলিই উর্দু ভাষাকে যথেষ্ঠ সম্মান করে, মর্যাদা দেয়। যেহেতু উর্দু ভাষা আরবি ও ফার্সি হরফ নির্ভর, তাই এটা তাদের কাছে অনেক পূত ও পবিত্র। আর যেহেতু বাংলা ভাষা হরফ আরবি ও ফার্সি নির্ভর না, তাই এটা তাদের দৃষ্টিতে হিন্দুয়ানী ভাষা। তবে বাংলা ভাষার অস্তিত্ব কত বছর ধরে আর উর্দু ভাষার অস্তিত্ব কত বছর ধরে এই দুইয়ের তুলনা করলে উর্দু ভাষার অবস্থান কোথায়?

ইসলামি ভাতৃত্ব, মুসলিম ভাতৃত্ব, মুসলিম উম্মা, খেলাফত ইত্যাদির নাম করে যারা জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ও ধর্মীয় পরিচয় উভয়কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে, তারা মূলত: আল্লাহ তার যে আয়াতের মাধ্যমে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন উনিই মানবজাতিকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করে দিয়েছেন, সেটিকে সম্পূর্ন অগ্রাহ্য করছে। বিভিন্ন জাতিগোত্রে আল্লাহ মনুষ্যকে ভাগ করে দিয়েছেন সেই সত্যটা বা সেই বাস্তবতাকে ওনারা সরাসরি অস্বীকার করছে। মানবজাতিকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বা জন্মগত নৃতাত্তিক পরিচয়ে বিভক্ত করার বিষয়ে আল্লাহর যে ফয়সালা, সেই ফয়সলা “মুসলিম জাতি/মুসলিম উম্মাহ/ মুসলিম ভাতৃত্বের" প্রবক্তারা মানছে না।

কিন্তু এটাই যদি ওনাদের মতাদর্শ হয়ে থাকে, তাহলে সেই হিসেবে জাতিসত্তা/নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ভিত্তিক অন্য ভাষা বা অন্য জাতি গোষ্টির প্রতি তাদের আলাদা ভালো লাগা, ভালোবাসা থাকতে পারে না। তারা যদি সত্যি সত্যি এক মুসলিম জাতিতে বা উম্মায় বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, তাহলে আলাদা করে উর্দু/আরবী ভাষাভাষী জনগণের প্রতি তাদের মহব্বত, ভালোবাসা থাকার কথা না । কিন্তু বাস্তবতা কি বলে? একদিকে এক মুসলিম জাতির কথা বলে তারা যেমন বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে দমিয়ে রাখতে চায় আবার এরই সমান্তরালে উর্দু আর আরবিভাষী জনগোষ্ঠীকে বাংলাভাষী জনগণের চেয়ে উন্নততর মনে করে। তারা তাদের আচার আচরণ এবং কর্মে এটা প্রমাণ করে যে উর্দু, আরবি ও ফার্সি ভাষা ভাষীরা বাংলাভাষী মুসলমানদের চেয়ে আরো বেশি মুসলিম। তাদের দৃষ্টিতে বা তাদের মনস্বত্ব যেভাবে বিকষিত হয়েছে, সেই মানসিকতার বিচারে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমরা মূলত: হিন্দুয়ানী মুসলিম।

এর মানে হলো যে তারা তাদের মুসলিম জাতি বা মুসলিম উম্মাহ বিষয়ক আদর্শকে সিলেক্টিভলি প্রয়োগ করে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে জাতিসত্তা ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের সীমারেখা যদি উড়িয়েই দিতে হয়, তাহলে তারা তুরস্কের জনগোষ্ঠীকে কেন বলে না যে তারা যেনো তাদের তুর্কি ভাষা আরবি ও ফার্সি হরফ নির্ভর করে ফেলে। যেমনটা বাংলা ভাষার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। অন্যদিকে জিসিসিভুক্ত আরব দেশগুলো এক ভাষা সংস্কৃতির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তারা কেনো ছয়টি দেশে বিভক্ত কেনো তারা এক মুসলিম জাতি/উম্মাহর ভিত্তিতে একক আরব রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকলো না তারও ব্যাখ্যা এরা ব্যাখ্যা দেয় না।

এভাবেই মূলত: তারা তাদের ভণ্ডামির পরিচয় দেয়।

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?
আমরা বাংলাদেশী‌~বাঙ্গালী/(প্রযোজ্য জাতিসত্তা সমূহের নাম)।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×