somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনু গল্প ঃ সবার পড়া উচিত এমন গল্প

২২ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি একজন সাধারণ অন্যায়কারী, খুন, ধর্ষন, রাহাজানি, ছিনতাই, জমি দখল, অন্যায় ব্যবসার কমিশন, চাঁদাবাজি, গোপন পলিটিক্স এ জাতীয় ছোটখাট অপরাধ করি। আমি একাই আমার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করি। আমাদের এলাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে আমার খুবই সুনাম (?)

কি ভাবছেন পাঠক? এত অন্যায় করেও আমি পার পাই কিভাবে?

হ্যাঁ আমার একজন বিরোধী আছেন। যিনিও আন্ডারওয়ার্ল্ডে আমার মতই এক্সপার্ট। তার এলাকাও নির্ধারিত। কিন্তু মাঝে মাঝে একে অন্যের এলাকায় আমরা ঢুকে পড়ি। ফলাফল সংঘাত। এই সংঘাতের ফলে আমার এবং তার কিছু কর্মীর প্রাণ যায় কেবল। আমার এবং তার কিছুই হয় না। কারণ আমরা তো আর মাঠে নামি না। মাঠে থাকে আমাদের কর্মী বা প্রতিনিধি।

যাহোক একবার আমার বিরোধীপক্ষ আমাকে বলল নির্বাচনের মাধ্যমে এলাকা নির্ধারিত থাকবে। কেউ অন্যের এলাকায় প্রবেশ করব না। কারণ এতে শুধু শুধু নিজেদের মধ্যে মারামারি করে শক্তিক্ষয় আর মূল্যবান কর্মীদের প্রাণনাশ ছাড়া তেমন একটা উপকার হয় না। উভয়ে অনেক আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, যেহেতু আমরা সাধারণ জনগণের মধ্যে আমাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করি। তাই সাধারণ মানুষকে আমাদের সম্মান ও ভয় করতে হবে। আর এজন্য সম্ভাব্য সব ধরণের কর্মকান্ড পরিচালনা করব। কেউ কারও এলাকায় প্রবেশ করব না। একবার আমি অন্যবার সে এভাবে আমরা এলাকা পরিবর্তন করব। এভাবে আমাদের সুমহান (‍?) কর্মকান্ড পরিচালনা করব। আমরা জনগনের সেবক, জনগণের নিকট থেকে কিছু নেই বিনিময়ে তাদের নিরাপত্তা (?) দেই।

যাহোক প্রথমে কে থাকবে সবচেয়ে লাভবান এলাকায় এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক বেধে গেল। আমি বলি আমি থাকব সে বলে সে থাকবে। এই তর্ক আর থামে না। যাহোক শেষে সমঝোতা হল, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় আমরা এলাকা নির্বাচন করব। প্রথমে তাতে সম্মত হয়েও পরে ভাবলাম, যদি তৃতীয় পক্ষ সমঝোতার নামে আমাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে? তবে তো আমাদের অবস্থা কাহিল। সারা জীবন জেলের ঘানি টানতে টানতে মরতে হবে। আমাকেও আমার বিরোধী পক্ষকেও। তাই বিষয়টা নিয়ে আবারও আমরা আলোচনা করি। তাকে বুঝাই যে, যদি তৃতীয় পক্ষ সমোঝাতা করার নামে আমাদের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে আমাদের জেলে ঢোকায় তাহলে তো যত অন্যায় আমরা করেছি আর কোনদিন জেল থেকে বেরুতে পারব না। তাই কি দরকার এসব তৃতীয় পক্ষকে নির্বাচন করার ক্ষমতা দিয়ে। আসুন না আমরা একে অপরকে একটু ছাড় দেই, মাত্র তো কটা দিন। একবার আমি থাকব লাভজনক এলাকায় আরেকবার আপনি থাকবেন।

নইলে আমি জেলকে অনেক ভয় করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেলেই আমার ও আপনার বাকি জীবন কাটাতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমার বিরোধী পক্ষ এখনও কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে নি। আমাদের মধ্যে চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা।

পাঠক গল্পটি শুধুই কাল্পনিক। কারও ব্যক্তিগত ঘটনার সঙ্গে এটা মিলে গেলে তা সম্পূর্ণ কাকতালমাত্র। কাউকে অপমান, ছোট বা হেয় করা উদ্দেশ্যে আমার এ গল্প রচনা নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ২:৩৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাতছানি

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২২

বাঁশবনের উপরে গোধূলীর আকাশে
কি'যে অপরুপ লাগে একফালি চাঁদ,
কাশবনের দুধারে মৃদুমন্দ বাতাসে
ঢেউ খেলে যায় সেথা জোৎস্নার ফাঁদ-
আহা..., কী অপরুপ সেই 'বাঁশফালি চাঁদ' ।

পাখিদের নীড়ে ফেরা কল-কাকলীতে
শিউলী-কামিনী যেথা ছড়ায় সুবাস,
আজানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিচ্ছু চাই না আমি, আজীবন ভালোবাসা ছাড়া!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৫১



অতি তুচ্ছ বিষয় গুলোতে আমি আনন্দ পাই।
পথে ঘাটের সব রকম দৃশ্য আমি উপভোগ করি। পথে হেটে যাচ্ছি, একসাথে অনেক গুলো কাক কা কা করতে করতে উড়ে গেলো! এটা দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×