অবশেষে সে-১
মেয়েদের দেখলেই লজ্জায় লাল হয়ে যেতো মকবুল মৃধা ওরফে মকু। মেয়েরা সামনে এলেই ভোঁ দৌড়। ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়াকালীন সময়ে টপটেন না হতে পারলেও একেবারে খারাপ ছাত্র ছিলোনা। গানের গলা ভালো ছিলো। স্কুলের সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মকু চমৎকার করে ভাটিয়ালি-ভাওয়াইয়া গেয়ে শোনাতো। হারমোনিয়ামে দখল ছিলো ভালো। হারমোনিয়ামের প্রেমে পাগল হয়ে লেখাপড়া গোল্লায় তুলে এগ্রাম ওগ্রাম ছুটোছুটি করে গান করতে থাকলো মকু। কিছুদিনের মধ্যেই আবার চুপসে গেলো সে। এখন আর হারমোনিয়াম ভালো লাগেনা। ধা ধিন ধিন তা-তবলার ত্রিতাল কিংবা দাদরা তালে ওর মনটাও নেচে ওঠলো। মাথায় ঝোঁক এলো তবলা শিখবে। তবলা কিনতে হবে। মাকে গিয়ে চেপে ধরলো সে; টাকা দরকার।
একমাত্র ছেলের ইচ্ছের কাছে সবকিছু বিকিয়ে দিতেন বিধাব মা আছিয়া খাতুন। ছেলের আবদার মেটাতে কখনো কার্পণ্য করতেন না। অকাল প্রয়াত স্বামীর রেখে যাওয়া জমিজমা দিয়ে মোটামুটি স্বাচ্ছন্দেই চলে যায় সারাটা বছর। দেরি না করে ছেলেকে তবলা কেনার টাকা দিয়ে দিলেন আছিয়া খাতুন। মাসখানেক তবলায় টুংটাং টুংটাং করে তবলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এবার নজর পড়ে গীটারের পাগল করা সুরের ওপর। আবার মায়ের কাছে জেদ আর বায়না; গীটার কিনে দিতেই হবে। অসহায় মা ছেলের এই আবদারটাও মিটিয়ে দিলেন।
একমাত্র ছেলে বলে কথা! জীবনে কোনো আবদারই না মিটিয়ে থাকেন নি। সেই দাবিতেই এবার ছেলের কাছে মায়ের আবদার। ঘরে লাল টুকটুকে বউ আনতে চান তিনি। মেয়েদের কথা শুনলেই যে কিনা ভয়ে আর লজ্জায় ওখান থেকে পালিযে যায়, সে কিনা করবে বিয়ে! পরদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাড়ি ছাড়লো মকু। গিয়ে ওঠলো মামার বাড়ি।
মামা রুস্তম সরদারতো ভীষণ খুশি ভাগ্নেকে পেয়ে। মামীও পছন্দ করতো মকুকে। অনেক দিনের ইচ্ছে যে, ননদের এই সুদর্শন ছেলের সাথেই বড় মেয় মিতার বিয়ে দিবেন। এ রকম পারিবারিক ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলো। মামার বাড়িতে যত্ন-আত্মির কোনো কমতি ছিলোনা। পিঠা পায়েস তৈরি করে খেতে দিতো মকুকে। মামাতো বোন নিতা মকুকে ‘দুলাভাই দুলাভাই’ বলে ক্ষ্যাপাতো। মিতা যেহেতু আগেই জেনে গিয়েছিলো যে, মকুর সাথেই তার বিয়ে হবে, তাই হবুবরকে কাছে পেয়ে সুযোগ মতো সেবাযত্ন করতো। নির্জনে হাতটা ধরতে চাইতো। আবেগপ্রবণ হয়ে মনের কিছু অব্যক্ত কথা বলতে চাইতো। অবশেষে দুই বোনের মিষ্টি অত্যাচারে মামার বাড়ি ছাড়লো মকু।
ফেরার পথে রসুলপুর বাজারে কিছুটা যাত্রা বিরতি দিলো সে। চলছে নৌকা মেলা। সামনে বর্ষা, তাই নৌকা বানিয়ে সারি সারি করে পশরা সাজিয়ে রেখেছে নৌকার বেপারিরা। পাশে চলছে নৌকা তেরির ধুম। গাছ চিরে কাঠে ঘষামাজা করে চমৎকারভাবে নৌকা তৈরি করে কারিগরগণ। ব্যাপারটা মকুর খুউব ভালো লাগলো। ইচ্ছে হলো নৌকা তৈরি করা শিখে নৌকা বানাতে। একজন বয়স্ক কারিগরের কাছে তার ইচ্ছেটা ব্যক্তও করলো সে। অবশেষে নৌকা কারখানায় চাকরি হয়ে গেলো মকুর। সারাদিন নৌকা তৈরি করতো আর রাতে তার গান শুনতো সবাই। অল্পদিনেই ওখানে জনপ্রিয় হয়ে গেলো মকু। এরপর আবার যেই লাউ, সেই কদু। কোনো কাজে তার বেশিদিন মন টেকেনা। এখানেও তার ব্যতিক্রম হলোনা। মাস দুয়েকের মধ্যে নৌকা তৈরির কাজটির প্রতি বিরক্ত হয়ে পড়লো। আবার পগাড়পার; অবশেষে মায়ের আঁচলেই আশ্রয় নিলো সে।
(চলবে)
একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?
হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।