somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আশা থেকে স্বপ্নভগ্নের সন্ধিক্ষণে !

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশতো কবিতা ও গানের দেশ হিসাবে পরিচিত। যার মন্তব্য করার কৌশলী পথ পরোক্ষভাবে অর্থাৎ ছন্দ এবং কাব্যিক ভাষায় প্রকাশ করে থাকে। সদ্য সমপ্ত ভারত প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে যে, উচ্ছাস ও উৎসাহ-উদ্দীপনার ভাদরের ভরা জোয়ারের প্লাবন আশা করা হয়েছিল তার প্রকৃত উত্তর লোকাল শ্লোকের ভাষায় বলা চলে, ‘দূর থেকে শোনা যায়, ইংরেজি বাজনা, কাছে যেয়ে দেখি, কাঠি আর চামড়া’ ! ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী, আপনি সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কের যোগসূত্র গোজামিলের চুক্তিতে অংশগ্রহন করেন নাই।

সম্পর্ক উন্নয়নের দূতিয়ালীর দায়িত্বে ছিলেন তিন চৌকোস মাল। যাদের পরিচয় হলো, দুই নেটিভ সাবেক সিভিল সার্ভেন্ট ও অন্যজন হলেন পাশ্চাত্যের শিক্ষায় সুশিক্ষিত এবং রাজপুত বংশদ্ভুত বাঙলাদেশী। ভারত প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা হলেন, ডঃ মসিউর রহমান ও ডঃ গওহর রিজভী। এই তিন ঝুনো মালই জন’র দায়-দায়িত্বহীন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ওনাদের কাজের সমাপ্তিতে পেলাম ‘বার হাত কাকুড়ের, তের হাত বিচি’র পরিণতি।

পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা হলো ঝ’ড়ো কাক (কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত ও বামফ্রন্টের করণে আতংকিত) অল্প হাওয়াতে বেসামাল হয়ে যান। আর বিষয়টা কৌশলের সেটমিল হলেও হতে পারে। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়ই সকল বিষয় অবগত হওয়ার পরও সফরের শু্রুতে স্বরূপে প্রকাশ হলেন ভারতীয় নেতৃত্ব। ট্রানজিট তো আগেই চালু আছে নদী পথে পণ্য চলাচলের মাধ্যমে। ওনাদের আবদার নদীর পাশাপাশী সড়ক ও রেল সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা করা। বোনাস হিসাবে দুই সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ নেয়া। আমদানীর তালিকায় হলদি রামের সোনপাপড়ি এবং রসগোল্লাও বাদ যাচ্ছে না ময়রাহীন দেশের বাজারে বিকোতে ! ডলার সংকটের সময় এই মাল আমদানীতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি ছিল না !

তিস্তা পানি চুক্তি হলো না, সীমান্ত সমাস্যা দুইটি কড়িডোর চবিবশ ঘন্টা খোলার ব্যবস্থা। সান্তনার প্রাপ্তি বাণিজ্যে কেবলই ৪৬ টা গার্মেন্টস আইটেম শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে বলে কথা। ১৯৭২ সাল থেকে পতনমুখী ভারতের বাণিজ্যিক অংশিদার হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে এই দেশ। যে বাণিজ্য একতরফা ভারতীয় পণ্যের অবাধ বিচরণ। বাংলাদেশ জন্ম থেকে ভারতের চতুর্থ রপ্তানীর ভোক্তার পদ দখল করে আছে। কিন্তু আমাদের পণ্য প্রবেশের বেলায়, অশ্বত্থামা হত ইতি গজ। শেষকালে অভেদাত্মা হরিহর উভয় দেশের রাষ্ট্র প্রধানগণ ‘আন কাপাস, নে তুলো’ সম্পর্কের মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রাখলো।

‘আজকাল’ পত্রিকাটি লিখেছে, কাজের কাজ কিছুই হলো না। তিস্তার পানি বন্টন না হওয়ার তোড়ে ভেসে গেল ফেনী নদীর পানি বন্টনের চুক্তি ও ভারতের রেল-সড়ক ট্রানজিট পাওয়ার আশা। দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি, প্রটোকল সম্পর্কে বলা হয়েছে, ও তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তির ঝুলিই ভরল, ভারত পেল আতিথেয়তা, আপ্যায়ন ইত্যাদি। ওনারা যে নৌ-পথে ট্রানজিট ভোগ করছে চল্লিশ বছর ধরে সে কথা আমাদের কি নাদান অজ ভেবে অবাক হলেন ? না কি নেটিভ বিদ্যায় দৃষ্টিহারা গোবর গণেশ সেজেছেন এটেল মালেরা।

এখন পরিস্কার হলো তো পিরিতের সখির পরিচয়। পানি ও বাজার প্রাপ্তীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জিগির সমাপ্তি টানলো কৃপনের ছাই দানে ফকিরের আশার মধ্যমে !
লেখাটি খুলনা জার্নালে পুর্বে প্রকাশিত।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×