somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্য আর্ট অফ ওয়ার বা সান্চি বিংফা বা প্রভু সানের রণকৌশলাবলি

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দ্য আর্ট অফ ওয়ার বা সান্চি বিংফা বা প্রভু সানের রণকৌশলাবলি
এই বইটি প্রাচীন চৈনিক সামরিক আলোচনা গ্রন্থ। এটি সম্ভবত লেখা হয়েছিল খৃস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে। এর রচয়িতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় সান জুকে এবং এতে ১৩টি অধ্যায় রয়েছে।
সাধারণভাবে বইটিকে রণকৌশলের উপর লেখা শ্রেষ্ঠ বই মনে করা হয় এবং এটি চৈনিক ও এশীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব রেখেছে। ১৯১০ সালে বইটিকে প্রথম ইংরেজি ভাষায় সম্পূর্ণ অনুবাদ করেন লিওনেল জাইলস।
সানজু ছিলেন চিঈ (Ch’i)রাজ্যের বাসিন্দা। সমর কৌশলের উপর তার লেখালেখির সুবাদে একদিন তিনি অউ (Wu)এর রাজা হো-লু (Ho-lü) র ডাক পেলেন। রাজা হো-লু আগেই সানজুর 'দ্য আর্ট অব ওয়ার' পড়েছিলেন, তাই এইবার সানজুর সৈন্যদল কমান্ডের একটা মহড়া দেখতে চাইলেন। শর্ত হল এই মহড়ায় সৈন্য হিসেবে থাকবে রাজার হেরেমখানার রুপসী নর্তকিরা।


থাসময়ে রাজার হেরেমখানা থেকে একশ’ আশি জন (মতান্তরে তিনশ) রূপবতী নর্তকি হাজির হল আর সানজু ঝটপট তাদের দু’টি দলে ভাগ করে ফেললেন। দুই দলের কমান্ডার হল রাজার প্রিয়তম দুই নর্তকি। এর পর তিনি তাদের তরবারি চালানোর সব কলা কৌশল শেখাতে লাগ্লেন কিন্তু এসব দেখে নর্তকীরা হাসতে হাসতে খুন এর পর সানজু তাদের লড়াই করবার জন্যে আদেশ দিলেন কিন্তু তারা এইবার হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়লো। এইবার তাদের আদেশ না মানার কারনে দুই দলের প্রধানদের শিরচ্ছেদ এর নির্দেশ দিলেন কিন্ত রাজা বললেন যেন সাঞ্জু ক্ষান্ত হয় । সান জু বললেন ‘জাহাপনার নির্দেশেই আমি সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছি, আর একজন সেনাপতি তার নিজ সেনাবাহিনী যথাযথভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে জাহাপনার সব অনুরোধ রাখতে বাধ্য নন।’ অতএব ঐ দুই নর্তকির কল্লা গেল এবং তাদের পরবর্তি জৈষ্ঠ দুজন দুইদলের নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিল।
এর পর সানজু এর আদেশ দিতে দেরি কিন্তু আদেশ পালনে কোন খুঁত পাওয়া গেল না।
এমন একটি বই যা এখনো সকল আর্মিদের পাঠ্য। এমনকি বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতেও এই বই পাঠ করানো হয়।ভিয়েতনাম যুদ্ধ কে এই বইয়ের টেক্সট বুক যুদ্ধ বলা হয় কারণ ভিয়েতনামের সেনা প্রধান এই বইকে সম্পূর্ণ অনুসরণ করেছিলেন।তবে আধুনিককালে এই বই তুমুল জনপ্রিয় হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিপণন বা মার্কেটিংয়ের জন্যে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার জন্যে।
২০০৩ সালে ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ঘোষণা করে, সান জুর যুদ্ধজয়ের কৌশলের সফল প্রয়োগের মাধ্যমেই এসেছে তাদের এই সাফল্য। ১৯৯৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ী দল ব্রাজিলও তাদের জয়ের রহস্য হিসেবে সান জুকেই কৃতিত্ব দিয়েছে।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:২৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহিউদ্দিন মোহাম্মদের জেন জি নিয়ে মূল্যায়ন এবং জেন জি'কে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, মূল্যায়ন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯



লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদের এইসব কথার সাথে একটু দ্বিমত আছে। কারণটা বলছি..

২০১৯ থেকে আমার যে বিপুল সংখ্যক নারীদের সাথে সুন্দর, নির্ভেজাল ও পরিচ্ছন্ন বন্ধুত্ব হয়েছে, এর ৬০%-ই হচ্ছে জেন জি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×