somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাফাখুম এর লোমহর্ষক জার্নি

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার অন্যতম শখ এর ১ টি হলো ঘুরে বেড়ানো | দেশ বিদেশে যেখানে সুযোগ হয়, সেখানেই দৌড়াই| লfইফে যত জায়গায় গেছি তারমধ্যে সব থেকে বেশি মজা পাইছি নাফাখুম যেয়ে |
গত ১৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারী পোছাই নাফাখুম |
আমাদের নাফাখুম যাওয়াটা একটু অন্য সময় এর তুলনায় আলাদা ছিল | দিন হিসাবে বর্ণনা করার চেষ্টা করছি |
১৫ ফেব্রুয়ারী রাত ১১.০০ টা আরামবাগ থেকে বাস এ রওনা হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারী সকালে বান্দরবান পৌছাই

সকাল ৯.০০ টায় চাঁদের গাড়িতে থানচি রওনা হই| পৌছাই ১.30 মিটিতে | নেমেই গোছল টা সেরে নেই সান্খু নদীতে |

বিকেলে ১ টা ঝিরি পথ ধরে হেটে যাই সন্ধা পর্যন্ত | রাতে থানচি রেস্ট হউসে থাকি |
১৭ তারিখ সকালে বোট এ যাবার কথা রেমাক্রী | কিন্তু BDR এর ১ টা প্রবলেম এর কারণে বোট যেতে দিচ্ছে না ওদিকে | দিবে দিবে করে দুপুর পার করে ফেললাম | যাওয়া গেল না | বিকেলে পাশের পাহাড়ে গেলাম | সন্ধার পর রেস্ট হাউস এ ফিরলাম |
১৮ তারিখ বোট এর অপেক্ষা না করে সকাল ৭.০০ টায় হাটা শুরু করি রেমাক্রীর উদ্দেশে | সাঙ্গু নদীর পাড় বেয়ে পাহাড়ি পথ হেটে যেতে হচ্ছে |
কোনো কোনো জায়গায় নদীর ভিতর দিয়ে আবার কোনো কোনো জায়গায় পাহাড়ের চুড়ায় উঠতে হচ্ছে | জটিল ১ experience | ২ পাশের দৃশ গুলো দেখে মনে হচ্ছে- কোনো শিল্পী যেন তার অপন মনে একেছে | ১ কথায় অসাধারণ | তিন্দু পৌছাই ১.০০ টার পর | তিন্দুতে গোছল ও দুপুরের সামান্য খাবার খেয়ে নেয় | দুপুর ৩ টা | রেমাক্রী যেতে হবে | কারোর মনে কোনো ক্লান্তি নাই | সবাই রাজি হলো আবার হাটবে রেমাক্রী এর দিকে | শুরু হলো | তুলনামূলক ভাবে আগের পথ এর থেকে অনেক কঠিন এই পথ | রিস্কও অনেক বেশি | খাড়া পাহাড়ে উঠতে হচ্ছে পাহাড়ের গা বেয়ে, পা রাখার সু ব্যবস্থা নাই | কোনো রকম পা এর প্রথম বা শেষ অংশ রাখা যাবে এরকম সিড়ি | হঠাত সন্ধা নেমে এলো | পাহাড়ের মধ্যে অন্ধকার | কোথায় কিভাবে যাব জানিনা | ২/১ জায়গায় পথ হারিয়া ফেলছি | সবার মনে এইবার আতংক আশ্রয় নিয়েছে | কিভাবে যাব বাকি পথ ? মাঝ পাহাড়ে কি করব? কি যে ১ অবস্থা? লাইফে আর এ রকম অবস্থায় পড়তে হবে কিনা জানিনা | এই experience এর কথা বলে বোঝানো যাবে না | আকাশে পূর্নিমা চাদ উঠেছে | মনে হচ্ছে আমাজন এর মাজে একমাত্র হেল্পিং হ্যান্ড | ভালই লাগলো | লোমহর্ষক ১ টা ট্রাভেলিং শেষ করে ৮.০০ টায় পৌছাই রেমাক্রী | রাতে থাকার জায়গার সন্ধান করা শুরু হলো | ১ মাত্র রেস্ট হাউজ ফাকা নাই | পরে ১ টা চাটাইয়ের বেড়া ওয়ালা স্কুল পেলাম | বেন্চ গুলো ১ জায়গায় করে রাতে ওখানেই |
১৯ তারিখ সকালে হাটা ধরলাম নাফাখুম এর উদ্দেশে | ২ ঘন্টা লাগে যেতে | ৯.০০ টার পরে পোছাই | এ এক অদ্ভুত জলপ্রপাত | বাংলাদেশ এ এত সুন্দর জায়গা আছে ভাবতেই মন জুড়ে যাই |



সমই পেলে ঘুরে আসুন ১ বার | যদিও আপনাদের ক্ষেত্রে আমাদের মত লোমহর্ষক জার্নি হবে না | সহজ ১ প্ল্যানিং বলে দিচ্ছি-
১. ঢাকা টু বান্দরবান যাবেন বাস এ | (রাতে রউনা হলে সকালে পোছাবেন |)
২. বান্দরবান তেকে থানচি যাবেন চাঁদের গাড়িতে | সময় লাগবে ৪ ঘন্টা মত | (দুপুর ১ টার মধে যাওয়া যাবে |)
৩. থানচি থেকে বোট এ রেমাক্রী | সময় লাগবে ৪ ঘন্টা মত | ( ওই দিন ই রউনা হবেন | প্রথন দিন শেষ |)
৪. খুব সকালে উঠে নাফাখুম রউনা হবেন | যাওয়া ২, আশা ২, মোট ৪ ঘন্টা লাগবে | ওখানে থাকবেন ১ ঘন্টা | ১২ টায় ফিরবেন রেমাক্রী | ঘুরে এসে দুপুরের খাওয়া শেষে আসে পাশে ঘুরে দেখতে পারেন | ( দ্বিতীয় দিন শেষ |)
৫. বোট আগে থেকে টিক করে রাখবেন | সকালে উঠে রউনা থানছির দিকে | থানচি ১ টার দিকে আসবেন | দুপুরে খায়া শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে বান্দরবান এর গাড়িতে উঠবেন | রাতের গাড়িতে ঢাকা রউনা | (তৃতীয় দিন শেষ |)
৬. পরদিন সকালে ঢাকা | বাসায় ফিরে ২ ঘন্টা রেস্ট নিয়ে অফিস এ দৌড়|

আরোও ছবি দেখতে ক্লিক করুন :

https://www.flickr.com/photos/15553948@N02/sets/72157626118828672/


সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৩৯
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৮



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

​ক্যালেন্ডারে নামটা দেখেছেন হয়তো— ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
​ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছেন যারা, তাদের অনেকের কাছেই নামটা পরিচিত। কারণ, এই নামটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা... হৃদয় নিঃসৃত কথোপকথন!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

মন কথনিকা... হৃদয় নিঃসৃত কথোপকথন
মন কথনিকা- হৃদয়ের একান্ত গোপন কথোপকথন। কিছু কথা থাকে, যা কাউকে বলা যায় না; কিছু অনুভূতি থাকে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সেগুলো একান্তই নিজের,... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×