somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশেষজ্ঞ!

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১৯৯৬ সালের কথা। ঐ যে 'প্রাকৃতিক শান্তি! - আমার বেড়াতে যাওয়া (পর্ব ০১)' তে বলেছিলাম যে আব্বা ঘোষণা দিলেন আমরা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি, তার মাস খানেক আগের কথা। হঠাৎ কোন এক অজানা কারণে আমার বুকে প্রচন্ড ব্যাথা হতো। প্রথম প্রথম পরিবারের সবাই ভেবেছিলো যে স্কুল ফাঁকি দেবার জন্য এই ব্যাথার কথা বলি। কিন্তু আস্তে আস্তে সবাই বুঝলো যে আসলেই কোন একটা সমস্যা হচ্ছে।

তো আমাকে ধরে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হলো এক ডাক্তারের কাছে; তিনি বিশেষজ্ঞ; বুকের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ! এই ঘটনারই কয়েকদিন পর কোন একজন আত্মীয় (আমি ঠিক মনে করতে পারছি না কে) আমাকে বিশেষজ্ঞের মানে বুঝালেন। তার কথায় যারা কোন বিষয়ে বিশেষ ভাবে অজ্ঞ, তাদেরই নাকি বিশেষজ্ঞ বলা হয়। এই তো মাথার মধ্যে ক্যাচাল লেগে গেলো। আব্বা-আম্মা তাহলে আমাকে ধরে বেধে এমন লোকের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন, যিনি আসলে বুকের ব্যাথার বিষয়ে কিছু জানেনই না!

ধুর, গল্পে ঢুকে গেলাম, যা লিখতে বসেছিলাম তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি! যাই হোক। এই বিশেষজ্ঞ এবং বিশেষ অজ্ঞ বিষয়টা এক সময় ক্লিয়ার হয়েছিলো; বুঝতেও পেরেছিলাম ঐ আত্মীয়ের করা ঠাট্টাটা। কিন্তু হায়, বড় বেলায় এসে আবার সব তাল গোল পাকাতে বসেছে। বিশেষ করে এই ফেসবুক হবার পর।

ফেসবুকে বিশেষজ্ঞ এবং বিশেষ অজ্ঞ এর ছড়াছড়ি। এতই বেশী যে আপনি পার্থক্যও করতে পারবেন না যে কে বিশেষজ্ঞ, আর কে বিশেষ অজ্ঞ। মজার বিষয় হচ্ছে ডাত্তারেরা যেমন একটা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হন, এই ফেসবুক বিশেষ অজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞরা একটা নয়, বরং সব বিষয়েই তাদের জ্ঞান ব্যাপক!

কোথাও বোমা ফেটেছে, এই বিশেষজ্ঞরা হাজির; কে ফাটিয়েছে, কেন ফাটিয়েছে সব তারা বের করে ফেলেন। কিন্তু বাস্তবতা দেখা যায় ভিন্ন। কারও কিছু হয়েছে, কেউ কিছু বলেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম কারও সাথে জিতেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম কারও সাথে হেরেছে.... সব বিষয়ের সরল ব্যাখ্যা এনাদের কাছে আছে।

নিজের টয়লেটের জন্য টয়লেট টিস্যু সাদাটা কিনবে না গোলাপীটা কিনবে ঠিক করতে পারে না; কিন্তু সরকার কার কাছ থেকে কোন বিমান কিনে জিতেছে না ঠকেছে তা বের করায় তারা ব্যাপক পারদর্শী।

এই জনতা এক কাঠি বেশী সরেস হয়ে উঠেন যখন কোন ঘটনার সাথে কোন মেয়ে জড়িত থাকে! নিশ্চই বনানীর কোন এক হোটেলে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ছেলের ঘটনা সবার মনে আছে!

মজার একটা ডায়লগ প্রায়ই শুনি, "জাতী পাছার মত দু'ভাগ হয়ে গেছে"। হাস্যকর হলেও আসলেই জাতী সকল সময় দু'ভাগ হয়ে যায়। একজন রিক্সাওয়ালাকে মেরেছে তো কেউ রিক্সাওয়ালার দোষ খুঁজে, কেউ বা যে মেরেছে তার দোষ খুঁজে।

বিশেষজ্ঞদের এই হুড়াহুড়ি কিন্তু ফেসবুক আর ব্লগেই চোখে পড়ে না; পত্রিকা গুলি এখন নিউজের নিচে মন্তব্য করবার সুযোগ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞদের ধড়ে পানি এনেছেন আরও বেশী করে।

আমাদের বিশেষজ্ঞরা কোন বিষয়ে কিছু না বুঝেই হাতড়ে বেড়াতে পছন্দ করেন। টপিক যদি মাথার উপরে দিয়া যায়, আর দেখে যে টপিক গরম হয়ে উঠেছে; তাহলে তাদের থামানো বড় কঠিন হয়ে যায়। যা মনে আসে তাই বলে। কখনও মনে হবে তিনি পক্ষে বলছেন, কখনও মনে হবে তিনি বিপক্ষে বলছেন। এবং এদেরই একটা অংশ প্রায়সই পাছার মত দুই ভাগ হতে হতে ফুটার মধ্যে চলে যায়! অর্থাৎ কড়া একটা ধরা খেয়ে যায়।

আরও এক ধরণের বিশেষজ্ঞ দেখেছি আমি, এই বিশেষজ্ঞদের আমি বলি 'বিজয় বিশেষজ্ঞ'! না না, এটা স্বাধীনতা বা তার চেতনার সাথে জড়িত নয়; বরং এটি আমাদের মহা-ঐতিহাসিক সফটওয়্যার বিজয় সম্পর্কিত! যাহা কাগু তৈরী করিয়া নাম করিয়া ফেলিয়াছেন।

এই ধরণের বিশেষজ্ঞেরা ফেসবুকে ঘুরেন, এবং কোথাও কারও বাংলা লিখতে সমস্যা হচ্ছে দেখলেই গিয়ে কমেন্ট করে আসেন যে 'বিজয় দিয়ে লিখেন'। মজার বিষয় হচ্ছে, প্রায়সই দেখা যায় তারা বিজয় সফটওয়্যারের সমস্যা সম্পর্কিত সমস্যাতেই গিয়ে লিখে চলে আসেন যে 'বিজয় দিয়ে লিখেন'!

বর্তমানে চলছে ভোট বিশেষজ্ঞদের লম্ফঝম্প! ভোট নিয়ে কথা বলবো না প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, শেষ পর্যন্ত এই বিশেষজ্ঞেরা আমাকে দিয়ে লিখিয়েই ছাড়লো।

ভোট বিশেষজ্ঞদের প্রত্যেকেই কোন না কোন দল দ্বারা প্রভাবিত। এনারা প্রতি নিয়তই এমন কিছু খুঁজে পান, যা দ্বারা প্রমান হয় যে কেন তার দল ক্ষমতায় যাবে, এবং কিভাবে তার বিপক্ষের দল প্রতারণা করছেন। এনারা কখনও নিজের দলের মধ্যে সমস্যা পান না। যদি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় দেওয়া হয়, সেটা নিয়ে তারা কথাতো বলেনই না; বরং অন্যের কি সমস্যা আছে সেটা মনে করায় দেবার চেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। ভাব খানা এমন যে এই সমস্যা কোন সমস্যাই না।

তবে ভোটের বিষয়ে জাতী আসলে পাছার মত দু'ভাগ নয়; বরং শীতের শুস্কতায় অনেকের পা ফেঁটে শ্যাওড়াপাড়ার ম্যাপের মত হয়ে যায়, তেমন বিভক্ত। এনারা সবার সাথে সম্পর্কযুক্ত, কিন্তু কারও সাথেই নাই! এনাদের ভাবখানা এমন যেন এনাকেই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী বানানো সম্ভব; আর কাউকে নয়।

আরও এক সম্প্রদায় আছে, যাদের আমরা সকলেই অবহেলা করে চলি; কখনও তাদের কথা মাথাতেই রাখি না। তারা হচ্ছে; এগুলির ধারে কাছে না ভেড়া মানুষ। আমি তাদেরই একজন।

নিজের অবস্থান জানাতেই এত বড় হাবিজাবি অগোছালো লেখা। সময় নষ্ট করবার জন্য দুঃখিত।

*** এই লাইনটা এক ব্লগার আপুর উদ্দেশ্যে ***
আপনি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন, আপনি বলেছিলেন যে ব্লগে প্রথম ২,০০০ ভিউ তুলতে আমার নাকি ৩/৪ বছর লেগে যাবে। আপনার যেমনটা লেগেছিলো। আজ এক মাস কয়েকদিন হচ্ছে; এবং আজ আমার ২,০০০ ভিউ হয়ে যাচ্ছে। :) ;)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৫৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালোবাসিতে লজ্জা পেতে নাই ...

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:৩১

অপেক্ষা— সেতো নিষ্ঠুরতম এক উপখ্যান
যদি না হয় সাক্ষাৎ চিরো কাঙ্ক্ষিত
সেই ক্ষণের —প্রেমের বৃন্দাবনের
এ সবই মিছে অথবা ভ্রম;
ক্ষণিকের অহমিকা শেষ হয়ে যায়
মিশে যায় হাওয়ায়—... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ স্বৈরাচারিণী

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৬



সঙ্গদোষে নাকি লোহাও ভাসে! চরমতম এই সত্যটা আর কেউ না হোক ফাহিবের বাবা মা দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেন। তা না হলে, যেই ছেলে বুয়েট থেকে এত ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মহান আল্লাহ সব কিছু দেখেন=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩



©কাজী ফাতেমা ছবি

সিসি ক্যামেরা দেখলেই নড়ে চড়ে উঠো
হয়ে যাও সাবধানী,
পাপগুলো দূরে ঠেলে হেঁটে যাও আপন গন্তব্যে,
ভয় পাও, তোমরা সিসি ক্যামেরা ভয় পাও
তাই না?

কিছু লুকোচুরি খেলা যখন খেলো বা খেলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন্টারভিউ

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯



শাহেদ জামাল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
সে বাকি জীবনে কোনো কাজকর্ম করবে না। জীবনের অর্ধেক সে পার করে ফেলেছে। তার বয়স এখন পঁয়ত্রিশ। আগামী পঁয়ত্রিশ বছর কি সে বাঁচবে? সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন ভালো করা কিছু খবর

লিখেছেন মা.হাসান, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩২

তাহাজজুদ পড়িস ব্যাটা?



ও ছার, ঝাড়ুদার পদে লিয়োগ পাইতে কত দিতে হবে?



আবার মারধোরের কি দরকার ছিল



আপনারা মন মতো মন্তব্য বসাইয়া নিন, আমি গলায় ফুলের মালা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×