somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নভোনীল পর্ব - ৭

৩০ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৩:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পিছনে ফিরে তাকাতে দেখলো ঠিক বিশ কদম দূরে মৃন্ময়ী । কেমন যেন উৎকন্ঠা আর উদ্বেগের ছাপ যোগ হয়েছে তার চোখে ও মুখে । কপাল ও চিবুক জুড়ে ঘামের অবাধ বিচরণ ।
মৃন্ময়ী- হঠাৎ একদম দম মেরে গেলে যে । ক্লাস শেষ হতে না হতে চুপিসারে কোন দিক দিয়ে বের হয়ে গেলে ।
নভো- ভার্সিটির এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখে হুশ বুদ্ধি ঠিকমতো কাজ করেনি।
মৃন্ময়ী- ওহ বুঝতে পারছি । হট্টগোল আর জটলার মধ্যে মেয়েটি আটকা পড়লো কিনা সহপাঠি হিসেবে তোমার একটু খোঁজ নেওয়া উচিত নয় কি!
নভো- সরি, সরি, সরি
-জটলার মধ্যে তোমাকে এইভাবে একা রেখে আসা আমার একদম উচিত হয়নি ।
মৃন্ময়ী- ইট’স ওকে ।

নভো- সত্যি বলতে কি আজকে রাস্তায় ঐ ঘটনার পর থেকে আমি কিছুটা নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলাম । বলতে পারো ভয় পেয়ে গিয়েছি । স্যারের ক্লাস পুরোটায় মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে । তুমি ডাক না দিলে হয়তো এতক্ষনে আমি নীল আকাশের বুকে ঠাঁয় পেতাম ।
মৃন্ময়ী- ঐ পরিস্থিতিতে আমিও খুব হতম্ভব হয়ে গিয়েছিলাম । তুমি বড় বিপদ থেকে উদ্ধার হয়েছো সেই জন্য আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি ।
নভো- মনে হচ্ছে তোমার বদৌলতে পৃথিবীতে আজ দ্বিতীয়বার নভোর জন্ম হলো ।
মৃন্ময়ী- আমি নয়, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করেছ । আমি শুধু উসিলা মাত্র ।
নভো- প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাবি দেশের পুরোনো ভার্সিটি। অথচ বর্তমান অবস্থা দেখলে ছাত্র হিসেবে খুব লজ্জাবোধ করি ।
মৃন্ময়ী- তুমি ঠিক বলেছো।

নভো- একটু পিছনে ফিরে গিয়ে দেখো জন্মলগ্ন থেকে শিক্ষা, গবেষনা ও জাতীয়ভাবে অবদানের ক্ষেত্রে ঢাবির অবস্থান প্রথম স্থানেই ছিলো সবসময় । দেশের বহু জ্ঞানীগুনী, পণ্ডিত, শিল্পী-সাহিত্যক ও সৎ রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে এই আঙিনা থেকে। অথচ আজ তার কী করুণ অবস্থা ।
মৃন্ময়ী- ঠিক তাই । দেশের নোংরা রাজনীতির বলি হচ্ছে স্বনামধন্য আমাদের এই বিদ্যাপীঠ ।
নভো- আমাদের পড়াশোনার মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে এখন নিয়মিত মারামারি, রেষারেসি, হানাহানি, দলবাঝি, টেন্ডারবাঝি, ও ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশের মধ্য দিয়ে ।
মৃন্ময়ী- আজকের ঘটনাটি দেখো । কত রকম হট্টগোল । পড়াশোনার পরিবেশ একদম নষ্ট হয়ে গিয়েছে ।
নভো- আমাদের মতো শান্তিপ্রিয় স্বপ্নবান শিক্ষার্থীদের হাজারো রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের স্বপ্নগুলো প্রতিনিয়ত নষ্ট করে দিচ্ছে এই সব অপরাজনীতি ।

আধো আলো আধো ছায়াময় পথ ধরে দু’জন পাশাপাশি হাঁটা ধরলো । চলার পথে কথা বলছিলো আর একে অপরের দিকে খানিক বাঁকা হয়ে আড়চোখে তাকাচ্ছিলো । ঝিরিঝিরি বাতাসে মৃন্ময়ীর সাথে হাঁটতে বেশ ভালোলাগা কাজ করছে নভোর মাঝে । এর আগে সেই কখনো কোন মেয়ের এত সান্নিধ্য আসেনি । মৃদু বাতাসের ঝাপটায় মুখের বাম পাশে চোখ বরাবর ঝুলে পড়া একগুচ্ছ কুকডানো চুলের কারনে মৃন্ময়ীর মুখখানা এক পাশ থেকে দেখে নভোর মনে হলো অবিকল রূপকথার কোন পরী । যার মুখ পানে চেয়ে থাকা যায় ঘন্টার পর ঘন্টা পলকহীন ।

স্কুল ও কলেজ সময়ে মৃন্ময়ীর জন্য অনেক ছেলে পাগল ছিলো । মৃন্ময়ী পড়াশোনা ছাড়া আর কোন দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ কখনও করেনি। ফলে ওদের কেউ তার ধারে-কাছে ঘেষার কোন সুযোগ পায়নি কিংবা সাহস করেনি । মৃন্ময়ীর গায়ের রঙ হয়তো নভোর মতো অতটা ফর্সা হবে না । পাঁচ ফুট চার ইঞ্চির উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের মেয়েটির দিপ্তীময় সুশ্রী চেহারায় আছে মোহনীয় ক্ষমতা ।

মুন্ময়ী যে কিনা কোন ছেলেকে কখনো পাত্তা দিতো না । সেই কিনা এই গোবেচারা টাইপ ছেলের মাঝে এক অজানা আকর্ষনে মন বার বার তার কাছে আসার তাড়না দিচ্ছে । এই ভেবে তার মনে মনে এক বড্ড হাসি পেলো । নভোর সামনে তা প্রকাশ না করে নিরবে মুখ থেকে সেই হাসি মুর্হূতে পেটের মধ্যে চালান করে দিলো । প্রথম দেখায় নিজের অজান্তে নভোর জন্য ভালোলাগা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিলো । মৃন্ময়ীর কেন যেন মনে হচ্ছে নভোর প্রতি তার ভালোলাগা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

এর মধ্যে অনেকদূর হাটাঁ হয়ে গিয়েছে কেউ খেয়ালই করেনি। মৃন্ময়ীর পানির খুব পিপাসা পেয়েছে । ফুটপাতের পাশেই একটা দোখান থেকে এক লিটার পানির বোতল নিলো নভো …(অসমাপ্ত)

ভাবতে ভাবতে পথ চলছিলো হঠাৎ নভো বলে একটা ডাক শুনে পিছনে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল---- (ষষ্ঠ পর্বের শেষ বাক্য )

নভোনীল এর অন্য পর্ব সমূহঃ
পর্ব – ১ রিম সাবরিনা জাহান সরকার
পর্ব – ২ পদ্ম পুকুর
পর্ব – ৩ মেঘশুভ্রনীল
পর্ব – ৪ খায়রুল আহসান
পর্ব – ৫ আখেনাটেন
পর্ব – ৬ পুলক ঢালী
পর্ব - ৮ কবিতা পড়ার প্রহর
পর্ব - ৯ মনিরা সুলতানা
পর্ব - ১০ বিলুনী
পর্ব – ১১ ঢুকিচেপা
পর্ব-১২ মো. মাইদুল সরকার

আশা করি পরর্বতী পর্বের মশাল নতুন কেউ একজন ধরবেন। তার অপেক্ষায় রইলাম। শুভ কামনা সবার জন্য ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:৪৬
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্য : বৌ এর ভালবাসা !!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:২২

গত শুক্কুরবারের কেস। ছুটির দিন সক্কাল সক্কাল জমিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে সবে সামু খুলে বসেছি, ঝড়ের বেগে ওষুধের বাক্স হাতে গিন্নীর আগমন..."এই নাও, একটা ক্যালপল খেয়ে নাও।"
এ্যান্টেনাতে কাগ, আমি তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির অর্ধেক সম্পদ আমলাদের পেটে চলে যায়।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৫৭


আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশে দুর্নীতি হবে এটা স্বাভাবিক। না হওয়াটা অস্বাভাবিক। কিন্তু দুর্নীতিরও তো একটা সীমা থাকে। একজন স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি'র সামান্য ড্রাইভার সে শত শত কোটি সম্পদের মালিক!... ...বাকিটুকু পড়ুন

হালচাল -১

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৭:১০



১। গতকালকে ঢাকা থেকে বাসে করে গাজীপুর আসা-যাওয়ার পর ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছি। সারা শরীরে অনেক ব্যথা করতেছে।কারণ সারাটা রাস্তায় খালি জ্যাম আর জ্যাম।
সায়েদাবাদে জ্যাম, মতিঝিলে জ্যাম, কমলাপুরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরকমও হয়!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৯



একবার অস্ট্রেলিয়ার এক বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে একজন বাংলাদেশী জয়েন করলো বিক্রয়কর্মী হিসাবে। প্রথমদিনে পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করলো সে।

সারাদিনের কাজ শেষে সন্ধ্যা ৬টার সময়ে তার বস তাকে ডাকলো।

বস:... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাতা আবিষ্কার

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৫১


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জুতা আবিষ্কার' কবিতার ছায়া অবলম্বনে একটি রম্য কবিতা

রাজামশাই কহিলেন শোন কান খুলিয়া,
মন্ত্রী উজির বুদ্ধি বাহির কর সকলে মিলিয়া।
বর্ষার বারি আর প্রখর রোদ লাগিবে কেন গায়,
বৃষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×