somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক সান্ধ্যকালীন ভ্রমণ এবং কিছু ভাবনা

২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৮:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আর রবিনের গল্প নয় । (কারণ, রবিন অলরেডি আমাকে অনেক বিপদে ফেলে দিয়েছে :| ) তাই ভাবছি, আজ নতুন কিছু লিখব । আজকের পোস্টটি গতকাল লিখলেই যথার্থ হত । কিন্তু সময় স্বল্পতা এবং ব্যস্ততার কারণে আর লেখা সম্ভবপর হয়নি ।

একজন প্রিয় মানুষ অসুস্থ শুনে তাকে দেখতে যাবার অভিপ্রায়ে আমার এ যাত্রা । গিয়েছিলাম ধানমন্ডিতে । যাবার বেলায় তেমন একটা অসুবিধা না হলেও আসবার সময় বাঁধল বিপত্তি /:) । ১৩ নং বাস আর পাওয়া যাচ্ছে না । অগত্যা কিছুদূর হেঁটে আসলাম বাস কাউন্টারগুলোর সামনে। তবে তাড়াহুড়ো করে টিকেট কাটলাম না । কারণ, উদ্দেশ্য যে বাস আগে আসবে, ঐ বাসেই উঠে পড়া ;) । ( আগে অনেক বোকা ছিলাম কি-না ... চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই টিকেট কেটে ফেলতাম :D ... তারপর দেখা যেত, আধা ঘন্টা পর সেই বাস এসেছে :(( । )

যাই হোক, 'মালঞ্চ' নামের একটা বাস আসছে দেখেই আমি ঝটপট একটা টিকেট কাটলাম । ভেবেছিলাম সাইন্সল্যাব পর্যন্ত যাব । তাই টিকেটও কাটলাম সাইন্সল্যাবের । ভাড়া নিল ৮ টাকা । কিন্তু বাসের গায়ে শাহবাগ লেখা দেখে মাথায় একটা দুষ্টুবুদ্ধি চাপল :D। এই টিকেটে শাহবাগ পর্যন্ত গেলে কেমন হয়? ;) হি হি ... যেই ভাবা সেই কাজ । বাসে চুপচাপ বসে থাকলাম :)

শুক্রবারের দিন । ছুটির দিন । রাস্তা-ঘাটে জ্যাম হবার কথা ছিল না । কিন্তু বিধি-বাম । সাইন্সল্যাবের কাছে আসতেই বুঝলাম, এখন ছুটিরদিনেও জ্যাম হওয়া খুব স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে :|। বাসের কিছু যাত্রীর কথোপকথন শুনতে পাচ্ছিলাম । এখানে তার অংশবিশেষ তুলে দিলাম :

১ম ব্যক্তি : " আমগো দ্যাশ ক্যামনে উন্নতি করবো কন মিয়াবাই? সয়ালবেলা দুই গন্ডা যায় জ্যামে আর রাইতের বেলা যায় দুই গন্ডা । মোডমাড চাইর গন্ডা । ডাকা শওরে এহন মোড দুই কোডি মাইনষের বাস।
তাইলে ডেলি হিসাবে আড কোডি গন্ডা টাইম লস অয় আমগো । বিদ্যাশ হইলে মাইনষে হাগল হইয়া যাইত ।"

২য় ব্যক্তি : "হে হে ... আমরা তো পাগলই, তাই না? কি কন ভাইরা ..."

এমন সময় বাসে বেশ কয়েকজন যাত্রী উঠলেন । তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বেশ বয়স্ক একজন ভদ্রলোক । পরনে সাদা পায়জামা, পাঞ্জাবি । মাথার চুলগুলো একদম ধবধবে সাদা । একনজরে দেখে খুবই পরহেজগার ধরনের মনে হল। উনি ঠিক আমার সিটের পাশে এসে দাঁড়িয়ে রইলেন ।

এত ভীড়ের মধ্যে এই রকম একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যাবেন, আর আমাদের মত তরুণরা বসে বসে আরাম করে যাব! X( - আমি কিছুতেই মানতে পারলাম না । সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে বিনীতভাবে বললাম, "চাচা, প্লিজ আপনি আমার সিটে বসেন ।" উনিতো প্রথমে খুব অবাক হলেন, তারপর উল্টো আমাকেই বসতে বলতে লাগলেন, "না বাবা, তুমি বসো । এই বেশ আছি ।" কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা । শেষমেশ উনি বসতে রাজি হলেন আর আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।

- বাবা, তোমার গ্রামের বাড়ি কোথায় ?
- জ্বী, খুলনায় ।
- তো কি করা হয় এখানে ?
- জ্বী, পড়াশুনা করি ।
- ওহ...তা বাবা, কোথায় পড় তুমি ?
- জ্বী, বুয়েটে ।

বুয়েটের নাম শুনতেই উনি বেশ খুশি হলেন । বোঝা গেল, হয়ত কোনো বিশেষ কারণেই উনার এই আনন্দ । আমার অনুমান মিথ্যা ছিল না ।

- বেশ বেশ । তা বাবা, কোন সাবজেক্টে পড়ো ?
- জ্বী, কম্পিউটার সায়েন্সে ।
- আমার বড় ছেলেটাও বুয়েট থেকে পাশ । এখন আমেরিকায় আছে ।
- জ্বী, উনি কোন সাবজেক্টে পড়তেন?
- মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং- এ ।

এরপর প্রায় একনাগাড়ে উনি বলে চললেন উনার অনেক আশা-হতাশার কথা আর আমি শুধু শুনতে লাগলাম। বুয়েট, মেডিক্যাল -এর ছাত্রছাত্রীদের কাছে আসলেই সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি - এ কথা আগেও বহুবার শুনেছি, তবে চাক্ষুস দেখার বা শোনার অভিজ্ঞতা হয়নি মোটেই । আজ হল । আমি শুনছিলাম আর ভাবছিলাম কি দিতে পারলাম এই দেশটাকে আর দেশের মানুষকে । শুধুই তো দিনরাত সেই ক্যারিয়ার ভাবনা । উনার সেই কথাগুলো এখনো কানে বাজছে , "বাবা, তোমরাই আমাদের গর্ব । তোমরাই সব । তোমরাই পারো এই দেশটাকে বদলে দিতে ..."

এসব ভাবতে ভাবতে আর শুনতে শুনতে কখন যে কাঁটাবনের কাছে এসে পড়েছি খেয়ালই করিনি । চাচার কাছ থেকে দোয়া চেয়ে আর বিদায় নিয়ে নেমে পড়লাম বাস থেকে । শাহবাগ পর্যন্ত হেঁটেই আসলাম । পথে শুধু সেই কথাগুলোই বারবার ভাবছিলাম । আমাদের নিয়ে উনাদের এত আশা, আর আমরাই কি-না সুযোগ বুঝে বাসের ভাড়া ফাঁকি দিই । ছিঃ ...এত নিচে নেমে গেছি আমরা । নিজের উপর খুব রাগ লাগছিল আমার ।

রাতের বেলা শাহবাগে রিকশা পাওয়াই যে দায় হয়ে পড়েছে কে তা জানত । বিশেষ করে পলাশীর দিকে তো কেউ আসতেই চায় না । ভাড়া চাওয়া তো বহুদূরের কথা । যাই হোক, বহু কষ্টে একটা রিকশা পেলাম । কিন্তু মুশকিল হল, রিকশা চাপতেই পাশ থেকে একজন বলে উঠল, "ভাই, তুমিও কি বুয়েট যাবে? আমাকে নেবে সাথে? আমি তিতুমীর হলে যাবো ।" আমি কিছুটা ভয় পেলাম । ছিনতাইকারী টাইপের নয় তো :-*। কিছুই বলা যায় না ... এর নাম ঢাকা শহর । অচেনা কারো বিশ্বাস নেই । যাই হোক, শেষমেশ ভাবলাম, নিশ্চয় আমার মত বুয়েটের স্টুডেন্ট কেউ হবে হয় তো । বিপদে পড়েছে । "ঠিক আছে , উঠে পড়ুন ।" - বলতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন তিনি ।


ভয়ে ভয়ে কথা বলা শুরু করলাম । জানতে পারলাম, উনি সিভিল '০৪ । সবেমাত্র পাশ করে এখন চাকরির জন্য দরখাস্ত করছেন । পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো । ৭-৮ টা জায়গায় সি.ভি ড্রপ করে এখন পর্যন্ত ১ জায়গা হতে কল পেয়েছেন । দেশের বর্তমান জব-মার্কেটের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বললেন, "আসলে বাইরে থেকে সিভিলের অবস্থা ভালো বললেও ভালো জব পাওয়া এখন বেশ কঠিন"। আমি সি.এস.ই জেনে বললেন সি.এস.ই-দের তো এখন খুব ভালো অবস্থা । তবে এখন থেকেই ক্যারিয়ারের ব্যাপারে সিরিয়াস হতে বললেন । কথা বলতে বলতে আমাদের রিকশা এসে তিতুমীর হলের গেটের সামনে এসে দাঁড়াল । আমি ভাড়া দিতে নাছোড়বান্দা ছিলাম । কিন্তু বড়ভাই হাত চেপে ধরলেন, বললেন, "আমি থাকতে তুমি কেন ভাড়া দেবে?" শুনে ভালো লাগল । সিনিয়ররা জুনিয়ররা একসাথে থাকলে সিনিয়র ভাইরাই সব স্পন্সর B-) - আমরা এখনো এই ট্রেডিশন ধরে রাখতে পেরেছি দেখে ভালো লাগল ।

আরো অনেক কিছু লেখার ইচ্ছে ছিল । কিন্তু পারলাম না । লেখাটা বেশি ভালো হয়নি । তবু চেষ্টা করলাম । সবাই ভালো থাকবেন । এই শুভকামনায় শেষ করছি ।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×