somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মধ্যবিত্তের ছেলে
মনটা বড়ো বর্ণচোরা। সে নানা রকম বর্ণ ধারণ করতে খুব পটু। এই রঙ হলুদ,নীল, বেগুনী কিংবা আকাশী নয়, অদৃশ্য কিছু হাজার রকম রঙের ছুড়োছুড়ি এ মনে।।ফেসবুকের: অদ্ভুত মানুষ

সামাজিকতা

২৬ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্রেনের "জ" কোচ। সিলেট থেকে রওনা দিয়েছি। রাত ১০ঃ২০ বাজে। যদিও ১০ টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা। তারপরেও তাড়াহুড়ো নেই। এদিক থেকে ভেবে যে, এটা বাংলাদেশ। সবকিছুরই হয়ত ঠিকানা থাকে কিন্তু এই একমাত্র ট্রেনের সময়ের ঠিকানাই হয়ত নেই। ট্রেনে প্রায়ই যাওয়া আসা করি কিন্তু ঠিক কবে যে সময় মত ট্রেন ছেড়েছে এর ঠিক সময়কালটা আমার এখন মনে পরে না। যাক গে, মাত্র ২০ মিনিট লেট। আমার মত প্রায় অনেকেই এই বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
সিট খুজে পেয়েছি। পাশের সিটে একটা ছেলে। আমাকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে করমর্দন করল। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না ছেলেটা কি আমার পুর্ব পরিচিত কিনা!? আমি হাসি মুখেই বললাম ভাইয়া চিনতে পারছি না ত!।
ছেলেটা বলে, ভাই পরীক্ষার্থী?
কিছুটা অবাক হয়ে নিজের মধ্যে ভাবতে লাগলাম, আমি এখনোও পিচ্চি লুকটা নিয়েই আছি। এদিকে পড়াশুনা শেষ করে বেকার বসে আছি আর সে কিনা বলছে আমি পরীক্ষার্থী!!
দীর্ঘশ্বাস নাক দিয়ে ফেলেছি। যেন ছেলেটা বুঝতে না পারে। আমার সামনের দাঁতগুলো বের করে দিয়ে তাকে বললাম না ভাইয়া কাজে যাচ্ছি।
সামনে পিছনে আশে পাশে তাকিয়ে দেখছি, আমার কোচের প্রায় অর্ধেকই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী। ছেলে মেয়েরা প্রায় অনেকেই নিজেদের পরিচিত। গ্রুপ গ্রুপ করে কেউ পড়ছে নয়ত একা একা পড়ছে। ৫ বছর আগের কথাগুলো মনে পড়ে গেলো। ওই সময়টাতে আমি নিজেও এই ছেলে মেয়েদের মতই ছিলাম। এখন অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গেছি। পরিবর্তন হয়ে গেছি হয়ত ভিতর থেকে কিন্তু অনেকেই ভাবে আমি সেই আগের মতই নাকি রয়ে গেছি। আমি এটা মানতে নারাজ। মনে মনে ভেবে যাই আর নিজেকে বলি, তাদের ভাবনা তাদেরই থাক, আমি নিজের মত করে না করে ছুটে চলি। মানুষের এসব ভুল ভাঙানোর কি দরকার!! থাক না যে যার মত, আর থাকি না আমি আমার মত।
এর মধ্যে চলে এসেছি ফেঞ্চুগঞ্জ। সিলেট থেকে ঢাকা ট্রেন রূটের স্টেশনগুলো আমি চিনি তেমন। দু'একটা ব্যতীত। যেগুলো নামকরা শুধুমাত্র সেগুলোই। এই যেমন, ফেঞ্চুগঞ্জ, কুলাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব।
আধ ঘন্টার বেশি হবে ট্রেনটা ফেঞ্চুগঞ্জেই দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে কোচটাতে পড়াশুনার একটা ধুম পরে যায়। আমি উপভোগ করি, করতে করতে ট্রেনও ছেড়ে দিয়েছে। পেছন থেকে একজন ঝালমুড়ি ওয়ালা ঝালমুড়ি বিক্রি করতে করতে আমার সামনে এসে বলল, ১০ টেকার দেই??
খেতে ইচ্ছে করছে খুব। কিন্তু বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমার শ্রদ্ধেয় আম্মাজান কড়া করে নিষেধ করে দিয়েছেন ট্রেনের ভিতর যেন কিছু না খাওয়া হয়। আম্মার সেই কড়া কথাটা মনে পরতেই আমি ভয়ে সোজা না করে দিয়েছি, না চাচা লাগবে না। আমার কাছে কেন যেন মনে হলো উনি হয়ত কষ্ট পেয়েছেন। আমার একটা অভ্যাস আছে, কেউ কিছু দিতে চাইলে তা যদি না নিই তাহলে বার বার মনে হয় সে হয়ত কষ্ট পেয়েছে। এটা ভাবলে তখন আমারও অনেক খারাপ লাগে।
এর মধ্যে লোকটা প্রায় ১০-১২ জনের কাছে ঝালমুড়ি বিক্রি করেছে। আমার পেছন থেকে একজন ওই ঝালমুড়ি ওয়ালাকে ডাক দিয়ে বলল, ওই, ৫ টাকার ৫ টাকার করে ৫ টা ঝালমুড়ি বানাও।
যিনি ডাক দিয়ে অর্ডার করেছেন উনার বয়সটা দেখার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল তাই পিছন ঘুরে দেখে নিলাম। দেখে বুঝলাম খুব বেশি হলে আমার থেকে ২/৩ বছরের বড় হবে। যাক, আমার বড় ভাই। হে হে।
৫ টাকার ৫ টাকার করে ৫ টা ঝালমুড়ি বানিয়ে দেওয়ার পর টাকাটা দিতে কেন যেন দেড়ি করছে আমার পেছনের লোকটা। দেড়ি করছে বলে ঝালমুড়ি ওয়ালা বলে, বাবা টেকাটা দিয়া দিলে আমি সামনে চইলে যাইতাম গা।
- দাঁড়াও, খায়া নেই। ঝাল কম হইলে টাকা কম পাইবা।
(লোকটা হাঁসতে হাঁসতে বলল, আমি ঝাল ঠিক মতই দিসি বাপ, টেকাটা দিয়া দেও, আমি সামনে যাইগা)
এ কথাটা কেন যেন পিছনের লোকটার পছন্দ হলো না। বলল কিনা, ওই মিয়া কইলাম না, খাড়ায়া থাহো। কষ্ট হইলে যাও গা। টেকা দিমু না৷ ( আমি বুঝলাম না, লোকটার টাকা দিয়ে দেওয়ার পিছনে কষ্ট আসল কোত্থেকে!? আর দাঁড় করিয়ে রাখবেই বা কেন??)
এক কথায় দু কথায় কথা লাগালাগি শুরু হয়ে গেল। এখন আর আমি চুপ থাকতে পারলাম না। বলেই ফেললাম, টাকা দিয়ে দিন তাহলেই ত সব শেষ হয়ে যায়। শুধু শুধু কেন উনাকে এভাবে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন?
এভাবে আমার সাথেও কথা লেগে গেছে। লোকটাকে আমার ভীষণ বিরক্ত লাগছে তখন। আমি তখন ভাবছি, আমি নিতান্তই একজন ভদ্রলোক। কেন শুধু অসামাজিক লোকের সাথে কথা খরচ করে নিজের আধটুকু সম্মান খোওয়াব! এই ভেবে বসে পরলাম সিটে। ঝালমুড়ি ওয়ালা তখনও দাঁড়িয়ে আছে। দাড়িয়ে থাকা দেখে আমার সামনের সিটের একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে বলল, আব্বা, বাদ দেন তো। আপ্নে সামনে যাইন। আমি ফড়তে ফারতাসি না।

ঘড়ি দেখি নি, কিন্তু হয়ত ৫-৬ মিনিট হবে আমি শুধু এটাই ভেবেছি মেয়েটা কি "বাবা" বলে ওই ঝালমুড়ি ওয়ালাকে সম্বোধন করেছে? আর যদি করেই থাকে তাহলে এ কেমন বাবা!! মেয়েকে সিটে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আর নিজে ঝালমুড়ি বিক্রি করে যাচ্ছে!!
আমি মনের ভিতরে বার বার নিজেকে বলছি, এই অসামাজিক ট্রেনের কোচটাতে শুধু দুটো মানুষই সামাজিক।
আমি আম্মার কথাটা অমান্য করে ২০ টাকার ঝালমুড়ি কিনেছি। স্বাদটা যেন আরোও বেড়ে গেছে। সেই সাথে মনে মনে মেয়েটার জন্য দোয়াও করে দিয়েছি। ভাল থাকিস বোন। আজীবন সামাজিকই যেন থেকে যাস।।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:৪৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকার বদলায়, স্বাধীনতার ঘোষকও বদলায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০৫


বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৫ বছর আগে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে অনেক কিছু হয়েছে। সরকার এসেছে, সরকার গেছে, সামরিক শাসন এসেছে, গণতন্ত্র এসেছে, আবার গণতন্ত্রও চলে গেছে। কিন্তু একটা কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২৭

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ চারপাশ। জীবনের স্পন্দন নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘Why you come here?’ সুবিধামতো পরিচয়ের প্রবাসী

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। প্রতিবাদ করার অধিকারও আছে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা দিয়েই বোঝা যায় প্রতিবাদকারী কে। “Why you come here?” বা “I fuck your country system” কোনো রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জানের বদলে জান: ব্যাপারটায় প্রতিহিংসার ফ্লেভার মেশানো

লিখেছেন অপলক , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৩৬

ইসলামে কি বলা আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। দেশের আইনে কি আছে সেটাও না। ইংরেজীতে দুটো শব্দ আছে: Equality (Sameness: সমতা) এবং Equity (Fairness: নায্যতা)।




একটা অপ্রাপ্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×