somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ কোন এক বৃষ্টির রাতে...

১২ ই নভেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শশীর মনটা বিকেল থেকে খারাপ হয়ে আছে । আজকে কত শখ করে শাড়ি পড়েছিলো । ভেবেছিলো আজকে ফয়সালের সাথে পুরো বিকেলটা কাটাবে । ক্যাম্পাসের কাঠালতলার বসে ফুচকা খাবে । কত দিন ফয়সালের সাথে ঠিকঠাক মত সময় কাটানো হয় না । ফয়সাল নিজের কাজ নিয়ে এতো ব্যস্ত থাকে যে শশী নামের যে তার একটা ভালোবাসার মানুষ আছে সেটা তার মনেই থাকে না ।

নিজেকে আবার সংশোধন করে নিলো শশী । সে ফয়সালের ঠিক ভালোবাসার মানুষ না । তার সম্ভাব্য স্ত্রী । পারিবারিক ভাবে বছর খানেক আগে শশী আর ফয়সালের বিয়ের কথা পাকা হয়েছে, আংটি বদল হয়েছে । ঠিক হয়েছে যে শশীর পড়াশুনা শেষ হলেই ওদের বিয়ে হবে । ছেলে হিসাবে ফয়সালকে তার অপছন্দ ছিল না । তার বাবা মায়ের খুব পছন্দের ছেলে । জামাই হিসাবে একটা ছেলের যে যে গুণ থাকা দরকার ফয়সালের মাঝে সে সব কিছুই ছিল, আছে । ভাল পরিবার, ভাল চাকরি, ভাল স্বভাব চরিত্র সব কিছু । কিন্তু শশীর কাছে ফয়সাল আসলে একটা রোবট টাইপের মানুষ । কিছু ছেলে থাকে না যারা কোন দিন কোন নিয়ম ভাঙ্গে না, বাবা মায়ের শান্ত বাধ্য ছেলে ফয়সাল সেই রকম ছেলে ।
প্রথম যখন ব্যাপারটা ধরতে পেরেছিলো শশী নিজেকে কেবল বুঝিয়েছিলো যে সবার মাঝে সব কিছু থাকে না । থাকাটা সম্ভব না । মেনে নিতেই হবে । সে মেনেই নিয়েছিলো । তবে মাঝে মাঝে যখন ওর অন্য বান্ধবীদের প্রেমিকদের রোমান্টিকতা দেখে তখন শশীর মন খারাপ লাগে । মাঝে মাঝে কান্না চলে আসে । আজও আসছে । কী এমন হত কাজ শেষ করে ওর হলের সামনে আসলে ?
ঘন্টা খানেক যদি ওর সাথে বসে গল্প করে যেত, তাহলে কি খুব অসুবিধা হত !
কিন্তু সে বলল যে কাজ শেষ হতে দেরি হবে ! আজকে আসা হবে না !
আর কোন কথা না, কোন এপোজি না । কেবল জানিয়ে ফোনটা রেখে দিল !

শশী জানে ফয়সালের এই ব্যাপারটা মনেই থাকবে না । শশীর যে মন খারাপ হয়েছে এটা ফয়সাল ঠিক বুঝতেই পারবে না । তার কাছে মনে হবে কাজ শেষ হতে দেরি হয়েছে, এই কারণে আসা হয় নি । এটা শশী খুব ভাল করে বুঝবে এবং এটা নিয়ে মন খারাপের কিছু নেই । এমন লজিকই কাজ করে তার মনে ।

শশীর মন আরও খারাপ হল যখন ঝুম বৃষ্টি নামলো । শশীর কত দিনের শখ নিজের ভালোবাসার মানুষটার হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজবে । ঝুম বৃষ্টিতে মুখ চুল নাক সব কিছু ভিজে যাবে । তবুও তারা হাটতেই থাকবে । শশী এও জানে যে তার এই ইচ্ছে কোন দিন পূরণ হবে না । বিয়ের পর যদি কোন দিন বৃষ্টিতে ভেজার কথা শশী বলেও, ফয়সাল কী বলবে সেটাও শশী খুব ভাল করে জানে । বলবে, গোসল করতে হয় ওয়াশরুমে কর, গরম পানি ঠান্ডা পানি মিশিয়ে আরাম করে গোসল কর । বৃষ্টিতে কেন ভিজতে হবে !

শশী নিজের বিছানা থেকে উঠে বসলো । ওর রুমমেট আজও রুমে নেই । খালার বাসায় গিয়েছে । আজকে ওকে একা একাই থাকতে হবে রুমে । সেটা নিয়ে ওর কোন মাথা ব্যাথা নেই । ঠিক করলো আর শাড়ি পরে থাকবে না । এখন আর জেগে থেকে লাভ নেই । ঘুমিয়ে পড়াই ভাল ।

নিচ থেকে কয়েকটা মেয়ের আনন্দ চিৎকার ভেসে আসছে । রাতের বেলা বৃষ্টি হলে অনেক মেয়েই ভিজতে বের হয় । রাতের বেলা গেট বন্ধ থাকার নিয়ম থাকলেও দারোয়ান মামা এই সময়ে কিছু বলে না । গেট খুলে দেয় । শশী কিছু সময় মেয়ে গুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো জানালা দিয়ে । ওর মন খারাপের ভাবটা আরও একটু বাড়লো । মনে মনে ঠিক করে নিল আগামী এক মাস সে ফয়সালের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করবে না । এই এক মাসের ভেতরে যদি ফয়সাল বুঝতেই না পারে যে শশী তার উপর রাগ করে আছে তাহলে ফয়সালকে বিয়েই করবে না সে । বাড়িতে চিৎকার চেঁচামিচি হবে জানে সে । হোক । তবুও একটা রোবটের সাথে সংসার করে সারাজীবনটা নষ্ট করতে মোটেই রাজি নয় সে ।

ওয়াশ রুমে ঢুকে শাড়ি বদলাতে যাবে তখনই ফোনটা বেেজ উঠলো । আবার বের হয়ে এল । ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো ফয়সাল ফোন দিয়েছে । একবার মনে হল ফোনটা সে ধরবে না । কিন্তু তারপরই কী মনে হল ফোনটা ধরলো ।
-হ্যালো ।
শশী কোন কথা বলল না । চুপ করে রইলো কিছু সময় । ফয়সাল আবারও বলল, কোথায় আছো ?
শশী খানিকটা বিরক্ত হয়ে বলল, কোথায় থাকবো এখন ? আজিব প্রশ্ন করেন কেন?
-বাহবা ! এতো রাগ !
-আপনি আবার রাগ অভিমান বুঝতে পারেন নাকি ! জানা ছিল না !

শশী ফয়সালের হাসির শব্দ শুনলো । ফয়সাল বলল, আমি বুঝতে পেরেছি তুমি রেগে আছো । আসলে আমি সরি বলার জন্য ফোন দিয়েছি । কিন্তু আজকে এমন ভাবে কাজে আটকে গেছি যে কোন ভাবেই বের হতে পারি নি ।
-বুঝলাম । আর কিছু?
-আমার সত্যিই আসার ইচ্ছে ছিল ।
-আমি বিশ্বাস করছি আপনার কথা ।
-তোমার কন্ঠে এখনও রাগ !
-আপনি আর কিছু বলবেন?
-হ্যা কিছু বলার ছিল ।
-বলুন।
-তুমি কি একটু জানালাতে আসতে পারবে?
-মানে?

মানে বুঝতে একটু সময় লাগলো শশীর । কিন্তু যখন বুঝতে পারলো তখন ওর বুকের মাঝে একটা তীব্র ধাক্কা লাগলো । এক প্রকার দৌড়েই চলে গেল জানালার কাছে । শশীর ঘরটা তিন তলাতে । জানালা পাশেই পাঁকা রাস্তা । সেখানেই ফয়সালকে দেখতে পেল সে । ল্যাম্প পোস্টের আলোতে তাকে পরিস্কার দেখতে পা্চ্ছে শশী । এখনও অফিসের পোশাক পরে আছে সে । মাথায় ছাতা ধরে আছে সে । তবে বলতে গেলে সবটুকুই ভিজে গেছে ।
ওর দিকে তাকিয়ে ফোন ধরা হাতটা বাড়িয়ে একটু নাড়লো । তারপর আবার কানে কাছে সেটা ধরলো । বলল, আমি সত্যিই সরি বলতে এসেছি ।
শশী অনুভব করলো ওর মনের ভেতরে এতো সময়ে যে রাগ ছিল সেটা একেবারে চলে গেছে । ফয়সাল বলল, আমি আসি তাহলে ?
-না না না । যাবেন না প্লিজ ।
-আচ্ছা । বল ।
-না । আপনি দাড়ান ওখানে । আমি আসছি ।
-আরে, এই রাতে কেন আসবে?
-বেশি কথা বলবেন না । চুপচাপ দাড়িয়ে থাকুন ।

ফোনটা রেখে নিজেকে আরেকবার আয়নাতে দেখে নিল । আপাতত সব ঠিকই আছে । যে সুযোগ আজকে এসেছে সেটা হয়তো আর কোন দিন আসতে নাও পারে । এই সুযোগ কোন ভাবেই হাত ছাড়া করা উচিৎ হবে না ।

নিচে আসতে কয়েক মিনিট লাগলো । দারোয়ান মামাকে প্রথমে একটু নাহু নাহু করলেও বের হতে দিল । বলল যে খুব বেশি সময় থাকা যাবে না । আধা ঘন্টার ভেতরেই চলে আসতে হবে । শশী বের হয়ে গেল গেট দিয়ে । তারপর দৌড় দিয়ে পৌছালো ফয়সালের সামনে । ফয়সাল তখনও এক মনে দাড়িয়ে রয়েছে । শশীকে আসতে দেখেই ছাতাটা ওর মাথার উপরে ধরতে গেল । শশী ছাতাটা হাত দিয়ে নিয়ে সরিয়ে দিল ।
-আরে ভিজে যাচ্ছো তো !
-যাই একটু, সমস্যা নেই ।
-এভাবে রাতের বেলা বের হওয়ার দরকার ছিল না ।

শশীর কেন জানি খুব বেশি আনন্দ লাগছে । এইবার সে ফয়সালের হাত থেকে ছাতাটা নিয়েই নিল । তারপর সেটা বন্ধ করে হাতে রাখলো ।
ফয়সাল আবারও বলে উঠলো, আরে ভিজে যাচ্ছি তো !
-আপনি এমনিতেই ভিজে গেছেন । রাখুন তো আপনার ভেজা ভিজি ! আসুন হাটি !
-মানে কি ! এই বৃষ্টির ভেতরে !
-চুপ ! কোন কথা না । আসুন তো ।

এই বলে শশী পাকা রাস্তার উপরে হাটতে শুরু করলো । বৃষ্টিতে ততক্ষনে ওর পুরো শরীর ভিজে গেছে । শশীর পাশাপাশি হাটতে লাগলো ফয়সাল । তার কাধের ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে শশী বলল, আপনার অফিসের কাগজ পত্র ভিজে গেলে সমস্যা নেই?
-ব্যাগ ওয়াটারপ্রুফ । সমস্যা নেই ।

শশীর সত্যিই অনেক বেশি ভাল লাগছে এখন । বিকেলে বেলা যদি সত্যিই আজকে ফয়সাল চলে আসতো তাহলে এই সময়ে এই ভাবে ওর সাথে ভেজা হত না । এই এতো দিনের একটা শখ এভাবে পুরন হয়ে যাবে ভাবতেই পারে নি । আসলে কখন কার ভাগ্যে যে কী লেখা রয়েছে সেটা উপরওয়ালার থেকে ভাল আর কেউ জানে না ।

হাটতে হাটতে শশী ফয়সালের একদম কাছে চলে এল । তারপর আলতো করে ফয়সালের হাতটা ধরলো নিজ থেকেই । এর আগেও হাত ধরেছে ওর । প্রতিবারই একটা আলাদা শিহরন কাজ করে । আজ যেন একটু বেশি অনুভূত হল অনুভূতিটা ।
শশী বলল, ফয়সাল …
-হুম ।
-চলুন কাল বিয়ে করে ফেলি !
-সেকি! এতো জলদি !
-হুম । জানি না হঠাৎ মনে হল । করবেন ?
-আচ্ছা বাসায় বলি !
-বাসায় বলাবলি নাই । পালিয়ে বিয়ে .... লুকিয়ে …..

ফয়সাল খানিকটা অবাক হয়ে বলল, বাসায় তো সবাই রাজিই । পালিয়ে কিংবা লুকিয়ে কেন করতে হবে?
-হবে । যা বলছি শুনুন । এতো কেন কেন করেন কেন ! কালকে অফিসের পরে । আপনি আপনার দুজন বন্ধুকে নিয়ে আসবেন আমি আমার দুজন বান্ধবীকে নিয়ে যাবো । ব্যস বিয়ে ! আর কোন কথা না !

ফয়সাল হঠাৎ হেসে ফেলল শশীর কথা শুনে । তারপর বলল, আচ্ছা কালকেই । ঠিক আছে !
-হুম !
-খুশি ?
-ইয়াপ । খুব খুশি ।

এই বলে শশী রাস্তার ঠিক মাঝে ফয়সালকে নিয়ে গেল । তারপর ওর হাত ধরেই একটু শরীর দুলিয়ে নাঁচতে শুরু করলো । গুনগুন করে গাইতে শুরু করলো পছন্দের একটা গান ……

রাতের বেলা আরও অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজতেছিলো । এর ভেতরে শশীর পরিচিত কয়েকজন ক্লাসমেটও ছিল । তারা অবাক হয়ে দেখলো তাদের নিশ্চুপ বান্ধবীটি একটা ছেলের হাত ধরে রাস্তার মাঝে মৃদু নাচানাচি করছে ……

গল্পটি নিজেস্ব ওয়েবসাইটে আগে প্রকাশিত

picture source
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই নভেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৪৫

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাহিক জীবনে পঞ্জিকা একটি অপরিহার্য বিষয়। তাদের পুজো, বার-তিথি-নক্ষত্র দেখা ছাড়াও পঞ্জিকার গুরুত্ব আছে বাংলা সাহিত্যে। আমার মতে, পঞ্জিকার মতো নির্মল হাস্যরসের ভাণ্ডার বাংলা সাহিত্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা লেখা, কবি হওয়া ও নিজস্ব কিছু চিন্তাধারা

লিখেছেন নীল আকাশ, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৫০



কবিতা লেখা একটা গুণ। একটা বিশেষ গুণ। ইচ্ছে করলেই সবাই কবিতা লিখতে পারে না। কবিতা লেখার জন্য বুকের ভিতরে ‘কবি কবি’ একটা মন থাকতে হয়। বাংলা সাহিত্যে বহু বছর ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×