আব্বু আমাকে অনেক ভালবাসত। আমাকে অনেক আদর করতো। আমাকে কখনো আব্বা বলে ডাকতো, কখনো ঠসা ডাক্তার (দাদাকে দিনাজপুরের লোকেরা আদর করে ডাকতো) । আমি আব্বুর কাছে যাই চাইতাম, তাই পেতাম।
১৯৯৮ সালে এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়ে মকবুল দুলাভাইয়ের সাথে চাপাইনবাবগঞ্জ গিয়েছিলাম ঘুরতে। সেই প্রথম একাকি আব্বু আর আম্মু ছাড়া কোথাও যাওয়া। আব্বুর একটা নীল পঙ্খীরাজ ছিল, যাকে আমরা ভেস্পা বলতাম। ওটায় চড়ে তার রাজরানী আর রাজপুত্র-রাজকন্যাকে নিয়ে সারা রাজ্য ঘুরে বেড়াতো একসময়। এই পঙ্খীরাজে অনেক দুর্ঘটনায় পড়েছে। আমি বাসায় না থাকায় সেবারও এমনি দুর্ঘটনায় সে পড়েছিল।
শেষের দিকে সে রাতে ভাল করে দেখতে পেত না, আমি পিছনে বসে থেকে বলতাম, সামনে উচা, সামনে নিচা। আমি না থাকলে আন্তাজে রাতে পঙ্খীরাজটা চালাতো।
আব্বু নিজে কোন রাজনীতির সাথে কখনো জড়িত ছিল না।আমি বিএনপি সাপোর্ট করতাম বলে সেও আমার কথায় ধানের শীষে ভোট দিতেন। তার আসে পাশে বেশিরভাগ মানুষই ছিল লীগের। আবার নির্বাচন এসেছে। আমিও ভোট দিতে যাবো। আমি আমার প্রিয় দলকেই ভোট দিবো। আব্বু দিতে পারবে না। আব্বুর একটা ভোট হয়তো কোন কাজেও লাগতো না। তবে আমার জন্য এটা খুশি ব্যাপার হতো। এক সাথে দুইজন ভোট দিতে, এক মার্কায় । ধানের শীষ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


