somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি কালিক কথন/৪

২৮ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাঙালিরা বানিজ্য করতে বিদেশ গেছে শোনা যায়, কিন্তু উপনিবেশ স্থাপন করতে বিদেশ গেছে তেমন শোনা যায়নি । বরং যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্মের, রঙের বিদেশীদের দ্বারা শাসিত হয়েছে । এর দ্বারা একটা বিষয় পরিস্কার যে বাঙালিরা মোটেও কোন যোদ্ধা জাতি নয়। জীবন জীবিকার অনুকুল জলমাটিবাতাস যুগ যুগ ধরে বাঙালির প্রকৃতি নির্মাণ করেছে । জীবন ধারণের মৌলিক প্রয়োজনে তাকে কখনো তেমন করে পরদেশের দিকে তাকাতে হয়নি । সেই কারণেই কি তার প্রকৃতি নরম, কিংবা অন্যের দ্বারা সহজে প্রভাবিত হওয়ার একটা ব্যাপার থেকে গেছে ?

ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালিদের অবদান অসামান্য। কিন্তু ভারতবর্ষের ক্ষমতা- কেন্দ্রে তখন তার উপস্থিতি খুবই সামান্য । সেখানে অবাঙালি তথা আপকান্ট্রির হিন্দু এবং মুসলিমদেরই রমরমা । আর এই আন্দোলন কেন্দ্র করেই বাঙালির পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্টের ক্ষেত্রেও এই দুই কিসিমের অবাঙালিদের অবদান অস্বীকার করা যাবেনা । অস্বীকার করা যাবেনা কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের অবদানও । আপকান্ট্রির হিন্দু এবং মুসলমান উভয় ধর্মের মানুষেরাই বাঙালি হিন্দু এবং মুসলমানদের এটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে তারা হিন্দু বা মুসলমান হিসেবে ততটা উৎকৃষ্ট নয় যতটা যার যার ধর্ম দাবি করে । এটা একটা সাংঘাতিক ধর্ম বিচ্যুতি । কারণ ভগবান বা আল্লা বাঙালি চেনেনা । চেনে হিন্দু বা মুসলমান । নরম মনের বাঙালির বোধ হয় এটা বিশ্বাস করতে অসুবিধে হয়নি ।

আসলে এসব সম্পর্ক নষ্ট শুরু হয়েছিল সে দিন থেকে, যে দিন থেকে আমরা ভাবতে শুরু করেছিলাম আমরা প্রথমে হিন্দু তারপর বাঙালি বা আমরা প্রথমে মুসলমান তারপর বাঙালি । বাঙালি জাতিসত্বাটার নির্মাণ কবে থেকে প্রয়োজন বা শুরু হয়েছিল তার সন তারিখ এর হিসেব না থাকলেও জিনিষটা ভারতবর্ষের রাজনৈতিক পরিসরে মোটেই গুরুত্ব পায়নি কখনোই । কারণ তার একদিকে ধর্ম আর এক দিকে ভারতীয়ত্ব । তাদের বিপরীত মুখী টানে আমরা চটপট গিলতে পেরেছিলাম দ্বি-জাতি তত্ব, দেশভাগ---ইত্যাদি । আর তা যে বাঙালি জীবনে কত ভয়ানক এক অভুতপূর্ব বিপর্যয় নামিয়ে এনেছিল তা বলা বাহুল্য । যদিও পরবর্তীতে এই বিপর্যয়ের ভিতর থেকেই এক অংশের বাঙালির মধ্যে এক মহৎ স্বপ্নের জন্ম হয়েছিল । আর সেই স্বপ্নটির নাম "বাংলাদেশ"। আর এসবই আমদের খুব নিকট ইতিহাস ।
(চলবে)

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০

আল্লাহ তাআলার অনুপম উপমা: কুরআনে প্রকৃতি ও প্রাণের অপূর্ব ছবি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

যখন আরব জাতির সাহিত্যিক প্রতিভা তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল, যখন কবিতা ছিল তাদের হৃদয়ের স্পন্দন, আবেগের প্রকাশ এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের দিন লেখা একটি বিষন্ন কবিতা

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪




বিষন্ন বিকেলে একা বসে থাকি রোজ,
ঈদের হুলস্থুল পাশ দিয়ে চলে যায়।
সুখের কাছে যেতে চাওয়া মন
কোনো রাস্তা খোলা নেই।

মুখে বলিনি প্রতিদিন কত কথা,
কিন্তু চোখে তাকালেতো কেউ বুঝতে,
এই ছোট্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×