সরু সরু গাছগুলো উজ্জ্বল সবুজে একাকার । যৌবনের স্পষ্ট প্রকাশ। একটার পরে আরেকটা দাঁড়িয়ে আছে সারিবদ্ধ হয়ে হাত খানেক দূরত্ব নিয়ে নিয়ে পরষ্পরের প্রতি মুগ্ধ পত্র পরশ এলিয়ে দিয়ে।
ইট বিছানো পথ টা সামনে এগিয়ে যেতে যেতে স্বচ্ছ সবুজ এই সুপারি গাছের সারিটার পদস্থল প্রায় ছূঁয়েই ফেলেছিল। কিন্তু ছোঁয়নি। এ প্রকৃতির মাঝে পরশের এক দূরত্ব মাপা নিয়ম আছে । সে নিয়মেই হয়তো সরু সুপারীর সবুজ কান্ডগুলোর খুব কাছাকাছি মুখ ঘষেই এগিয়ে গেছে পথ।
পথিকের পাদুটো সেই পথের উপর ধীর গতিতে এগিয়ে চলছিল যদিও চোখ ছিল সারি সারি সবুজের মায়ায়।
এক হাতি ফাঁকগুলো গলে তার দৃষ্টি শূণ্যতায় ছূটে চলছিল বুঝতে পেরেই যেন মেঘ গুলো হয়েছিল লজ্জায় গুটিশুটি আর সেই সুযোগে যেন কেউ নিপুণ শৈল্পীকতায় মেঘগুলোতে দিয়ে দিল নানা আকৃতি। পথিকের দৃষ্টি মাঝে মাঝে সেখানে খুুঁজে পাচ্ছিল যেন কোমল নারীর মুখের প্রতিকৃতিও।
দণিা হাওয়া হঠাৎ প্রবল হতেই সবুজ সুপারী পাতায় কাসিক নৃত্যের মত হালকা নড়াচড়ার ঘটনা ঘটে গেলো। বাতাসের প্রবলতায় কান্ডগুলোও উঠতে চাইছিল দুলে। পথিক ভাবে, যদি অনঢ় এই গাছ না হয়ে দুটি মানব মানবী থাকত দাঁড়িয়ে ওখানে আর প্রবল বাতাস কাঁপিয়ে দিত মনের ঠুনকো বাঁধ। আলিঙ্গন না হলেও কাছাকাছি হতো দুটো প্রাণ নিশ্চিত। অন্তত হাত দুটো দুজনার মিলে যেত ঝড়ের পূর্বাভাসে আগত ঝঞ্ঝার মোকাবেলায়।
সবুজ সারি ছাড়িয়ে আরও খানিক এগিয়ে যেতে যেতে পথিকের হঠাৎ মনে পড়ে যায় অনেক দিন আগে ঠিক এমনই কিছু কথা বলেছিল পথপ্রভা নামের মেয়েটি।
স্পষ্ট মনে পড়ছে , দু’জনে বেড়াতে গিয়েছিল ঢাকা থেকে বেশ দূরে। সে এক নিরিবিল সবুজ শ্যামল গ্রাম। যাবার পথে নৌকায় পার হয়েছিল বুড়িগঙ্গা। নদীর মাঝামাঝি নৌকা পৌঁছাতেই পথিকের হাতটা অজান্তে ধরেছিল পথপ্রভা। হয়তো কোমল হৃদয়ের নারী মনের অজানা আশংকায় অজান্তেই। নদীর কালো হয়ে যেতে থাকা জলের চুপচাপ আর্তনাদ শুনছিল পথিক অন্যদিকে ফিরে। হাতে ছিল হাত। হাতের সে অনাহুত পরশ না থামার আগঅবধি একটুও কথা তোলেনি পথিক। পাছে এই কোমল পরশ নির্লিপ্ত হয়ে যায়।
ওপারে নেমে স্কুটার নিয়ে পৌঁছেছিল সেই গ্রামটিতে যেখানে পথপ্রভার এক বোনের ছায়াসুনিবির বাড়ী। সেখানে ঠিক আজকের মতো এমন এক সুপারির সারির ছায়ায় দাঁিড়য়ে কথা হচ্ছিল দুজনার। পথপ্রভা বেশ আফসোসের সুরে বলেছিল, ‘দেখেছো..এই গাছগুলি কত দিন কত রাতের পর রাত পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে , বতাসে হেলছে দুলছে, নাচছে; কিন্তু কেউ কাউকে কোন দিন ছূঁয়েও দেখতে পারেনা । পারেনা একটি বারের জন্যেও করতে নিবিড় আলিঙ্গন।...আচ্ছা মানুষ হলে কি এভাবে দূরত্ব নিয়ে থাকতে পারত দিনের পর দিন রাতের পর রাত?’
পথিকের কাছে উত্তর ছিলনা। তবুও মুখ ফসকে বলে দিয়েছিল, হয়তো গাছেদের ঐ ই নিয়ম। তাদের আলিঙ্গন মনে মনেই। গাছের যে মন আছে মানো তো পথপ্রভা।
মাথা নেড়েছিল...এই মুহূর্তে যেন সেই মাথা নাড়ার দৃশ্য এক বার দেখে নিলি দিব্য চোখে পথিক। মুখে তাই অজান্তেই দীর্ঘ মুচকি হাসি। তারপর আবার ভাবে আজকের এই পথে হাঁটতে হাঁটতে,
মানুষের তো মন আছেই। তবুও...কই কত রাত কত দিন তো তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিল। সে মধূর আলিঙ্গন বা আরকেটু পরশ আরেকটু হৃদয় উতলা করা, অপূর্ণ ...অপূর্ণ। মনে মনে ই মিলন --সেটাই হয়তো এক নিয়ম। যা বর্তায় বা বর্তেছে এই পথিকের জন্যেও।
মোব্ইালের সুরে চিন্তা ভেঙে যায়। থেমে যায় গতিময় পাদুটোও। এই মোবাইল নিয়ে পথিক মাঝে মাঝেই বিভ্রান্ত হয়। হয়তো পথিকদের মোবাইল থাকতেই নেই। কিন্তু এ যে আধুনিকতার মধূর শাস্তি। এ যে অমোঘ। পরিত্রাণ নাই।
মেসেজ পাঠিয়েছে প্রিয় বান্ধবী পথপ্রীতি,
`protho alo dekhechis ajker . durnitir jonne ekta website khola hoyeche. Okhene dhuke ki likheche pore rate call kore janabi./ pothpreety’
16.14.07

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


