somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথ প্রতীতি ০১

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সরু সরু গাছগুলো উজ্জ্বল সবুজে একাকার । যৌবনের স্পষ্ট প্রকাশ। একটার পরে আরেকটা দাঁড়িয়ে আছে সারিবদ্ধ হয়ে হাত খানেক দূরত্ব নিয়ে নিয়ে পরষ্পরের প্রতি মুগ্ধ পত্র পরশ এলিয়ে দিয়ে।
ইট বিছানো পথ টা সামনে এগিয়ে যেতে যেতে স্বচ্ছ সবুজ এই সুপারি গাছের সারিটার পদস্থল প্রায় ছূঁয়েই ফেলেছিল। কিন্তু ছোঁয়নি। এ প্রকৃতির মাঝে পরশের এক দূরত্ব মাপা নিয়ম আছে । সে নিয়মেই হয়তো সরু সুপারীর সবুজ কান্ডগুলোর খুব কাছাকাছি মুখ ঘষেই এগিয়ে গেছে পথ।

পথিকের পাদুটো সেই পথের উপর ধীর গতিতে এগিয়ে চলছিল যদিও চোখ ছিল সারি সারি সবুজের মায়ায়।
এক হাতি ফাঁকগুলো গলে তার দৃষ্টি শূণ্যতায় ছূটে চলছিল বুঝতে পেরেই যেন মেঘ গুলো হয়েছিল লজ্জায় গুটিশুটি আর সেই সুযোগে যেন কেউ নিপুণ শৈল্পীকতায় মেঘগুলোতে দিয়ে দিল নানা আকৃতি। পথিকের দৃষ্টি মাঝে মাঝে সেখানে খুুঁজে পাচ্ছিল যেন কোমল নারীর মুখের প্রতিকৃতিও।

দণিা হাওয়া হঠাৎ প্রবল হতেই সবুজ সুপারী পাতায় কাসিক নৃত্যের মত হালকা নড়াচড়ার ঘটনা ঘটে গেলো। বাতাসের প্রবলতায় কান্ডগুলোও উঠতে চাইছিল দুলে। পথিক ভাবে, যদি অনঢ় এই গাছ না হয়ে দুটি মানব মানবী থাকত দাঁড়িয়ে ওখানে আর প্রবল বাতাস কাঁপিয়ে দিত মনের ঠুনকো বাঁধ। আলিঙ্গন না হলেও কাছাকাছি হতো দুটো প্রাণ নিশ্চিত। অন্তত হাত দুটো দুজনার মিলে যেত ঝড়ের পূর্বাভাসে আগত ঝঞ্ঝার মোকাবেলায়।

সবুজ সারি ছাড়িয়ে আরও খানিক এগিয়ে যেতে যেতে পথিকের হঠাৎ মনে পড়ে যায় অনেক দিন আগে ঠিক এমনই কিছু কথা বলেছিল পথপ্রভা নামের মেয়েটি।

স্পষ্ট মনে পড়ছে , দু’জনে বেড়াতে গিয়েছিল ঢাকা থেকে বেশ দূরে। সে এক নিরিবিল সবুজ শ্যামল গ্রাম। যাবার পথে নৌকায় পার হয়েছিল বুড়িগঙ্গা। নদীর মাঝামাঝি নৌকা পৌঁছাতেই পথিকের হাতটা অজান্তে ধরেছিল পথপ্রভা। হয়তো কোমল হৃদয়ের নারী মনের অজানা আশংকায় অজান্তেই। নদীর কালো হয়ে যেতে থাকা জলের চুপচাপ আর্তনাদ শুনছিল পথিক অন্যদিকে ফিরে। হাতে ছিল হাত। হাতের সে অনাহুত পরশ না থামার আগঅবধি একটুও কথা তোলেনি পথিক। পাছে এই কোমল পরশ নির্লিপ্ত হয়ে যায়।

ওপারে নেমে স্কুটার নিয়ে পৌঁছেছিল সেই গ্রামটিতে যেখানে পথপ্রভার এক বোনের ছায়াসুনিবির বাড়ী। সেখানে ঠিক আজকের মতো এমন এক সুপারির সারির ছায়ায় দাঁিড়য়ে কথা হচ্ছিল দুজনার। পথপ্রভা বেশ আফসোসের সুরে বলেছিল, ‘দেখেছো..এই গাছগুলি কত দিন কত রাতের পর রাত পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে , বতাসে হেলছে দুলছে, নাচছে; কিন্তু কেউ কাউকে কোন দিন ছূঁয়েও দেখতে পারেনা । পারেনা একটি বারের জন্যেও করতে নিবিড় আলিঙ্গন।...আচ্ছা মানুষ হলে কি এভাবে দূরত্ব নিয়ে থাকতে পারত দিনের পর দিন রাতের পর রাত?’

পথিকের কাছে উত্তর ছিলনা। তবুও মুখ ফসকে বলে দিয়েছিল, হয়তো গাছেদের ঐ ই নিয়ম। তাদের আলিঙ্গন মনে মনেই। গাছের যে মন আছে মানো তো পথপ্রভা।

মাথা নেড়েছিল...এই মুহূর্তে যেন সেই মাথা নাড়ার দৃশ্য এক বার দেখে নিলি দিব্য চোখে পথিক। মুখে তাই অজান্তেই দীর্ঘ মুচকি হাসি। তারপর আবার ভাবে আজকের এই পথে হাঁটতে হাঁটতে,
মানুষের তো মন আছেই। তবুও...কই কত রাত কত দিন তো তারা পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিল। সে মধূর আলিঙ্গন বা আরকেটু পরশ আরেকটু হৃদয় উতলা করা, অপূর্ণ ...অপূর্ণ। মনে মনে ই মিলন --সেটাই হয়তো এক নিয়ম। যা বর্তায় বা বর্তেছে এই পথিকের জন্যেও।

মোব্ইালের সুরে চিন্তা ভেঙে যায়। থেমে যায় গতিময় পাদুটোও। এই মোবাইল নিয়ে পথিক মাঝে মাঝেই বিভ্রান্ত হয়। হয়তো পথিকদের মোবাইল থাকতেই নেই। কিন্তু এ যে আধুনিকতার মধূর শাস্তি। এ যে অমোঘ। পরিত্রাণ নাই।
মেসেজ পাঠিয়েছে প্রিয় বান্ধবী পথপ্রীতি,


`protho alo dekhechis ajker . durnitir jonne ekta website khola hoyeche. Okhene dhuke ki likheche pore rate call kore janabi./ pothpreety’

16.14.07
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ২:১৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতিদ্বন্দ্বী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪৮


গফুর মিয়া অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিল। সংসারে মানুষ মোট ছয়জন, গফুর, তার স্ত্রী আর চার সন্তান। দুই সন্তান হওয়ার পর তার স্ত্রী আর সন্তান নিতে চায়নি। সে গফুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৪


পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।


প্রিয় সামু সাপোর্ট টিম,
আশা করি ভালো আছেন। আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগের একজন নিয়মিত পাঠক ও লেখক। দীর্ঘদিন ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×