'উম্! দারুণ হয়েছে রে। আন্টির হাত ও বটে'
' আর যদি বলি আমি বানিয়েছি।'
' তাহলে বলবো আন্টির প্রশংসা করার জন্যে মিথ্যে বলেছি।'
' তাই, না! খাওয়ার দরকার নেই তাহলে। রেখে দে , রাখ।' বলেই পথপ্রীতি পথিকের ডান হাতটা খামচে ধরল এবং বারংবার বলতেলাগলো 'রাখ'।
পথিকও উচ্চস্বরে হাসি দিয়ে বলল,
' পিঠা মজা হয়েছে সত্যি সত্যি বললে তো তোর এই মধুর খামচি হতে বঞ্চিত হতে হবে আর মিথ্যে বললে বঞ্চিত হতে হবে পিঠা। কি করা যায় রে...?'
দুজনেই তারপর হো হো করে হেসে উঠল।
পথপ্রীতির মা পথিক কে ভীষন আদর করে। এ বাড়ীর অনাচে কানাচে সব জায়গাতেই তাই পথিকের অবাধ বিচরণ। কোন বারণ নেই। এই যে এখন রাত আটটা বাজে, তপ্ত যৌভন সঞ্চারী দুটি যুবক যুবতী নির্ভৃতে ঘরে বসে আছে তাতে এ বাড়ীর কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই। বিশ্বাস আর সম্পর্ক এখানে এতটাই স্বচ্ছ সরোবরের রূপ গ্রহণ করেছে।
কিন্তু এই যুবক যুবতী দ্বয় তো জানে এ সমাজ আজ অতীত খোলশ ছেড়ে ছুড়ে আধুনিকতার যে নব্য নব্য খোলশ একের পর এক গায়ে চড়িয়েই যাচ্ছে তাতে ঐ ঠুনকো বিশ্বাসের দাম কেউ দিচ্ছেনা। বিশেষত নতুন নতুন জেনারেশন। স্কুল পড়ুয়া বালক বালিকাদের অনেকেই দেহতান্ত্রিক পর্বটার প্রাইমারি প্রাকটিক্যাল শিক্ষা আজকাল নিজেরাই শেখার পায়তারা করে।
কিন্তু পথিক আর পথপ্রীতির কাছে চটুল বন্ধুত্বটাই সব কিছুর উপওে আজও প্রাধান্য পেয়ে আছে। যদিও আড়ালে অগোচরে দুজনের মনই যে বাধ ভাঙার আকুতি উপলব্ধি করে না সে কথা মোটেও সত্য না। কেবল পরস্পরের কাছে প্রকাশ্যে সেটা অজানা, এই আর কি।
পথপ্রীতির পিসিতে ইন্টারনেট এ লগইন করে সামনে খাটে উঠে বসল পথিক। পাশে প্রীতি, কাঁধে মাথা। এমনেতে প্রীতি খুব একটা নেটে প্রবেশ করেনা। পথিক এলেই যা একটু আধটু। প্রীতির কাছে ও জগতটা বড় একঘেয়ে আর যন্ত্রনাদায়ক মনে হয়। ওখানে যেন খেজুরের রস আছে কিন্তু রসের সেই গেঁও মিষ্টি সুবাস টা নেই।
পথ প্রীতির খোঁচাখুঁচিতে পথিক সেই ওয়েব পেজটা খুলল। গতকাল এর পেপারে যেটা ছিল। ওরে বাবা ঢুকেই প্রথমে চোখে পড়ে এক বিশাল গ্রেনেডের ছবি।
দূণীতির বিরুদ্ধে নেটে জরুরী অবস্থার সরকার পেতেছে জাল। প্রীতি বলল,'আরে পথিক , মনে হয় না খুব একটা কেউ এতে সাড়া দেবে। মনে নেই ঐ যে হিন্দু ছেলেটা শেখ হাসিনার কাছে কি হুমকি ধামকি দিয়ে মেইল করে ঠিকই ধরা খেল। তারপর কি মাইরটাই না...'
' ছেলেটি মনে হয় দোষী ছিলনা। একই আইএসপির একই আইপি ইউস করে অন্য কেই করেছিল সম্ভবত। আর শাস্তি পেল দেখ ..'
' তাইলেই বোঝ। থার্ড ওয়াল্ড কান্ট্রিতে কোন গর্ভমেন্টের কোন স্থায়িত্বের ঠিক আছে। আজ এ তো কাল সে। কে নেটে বিচার দিয়ে জেচে বিপদ মাথায় আনতে চাইবে। ভয়ের একটা অতীত অভ্যাস আছে না এ জাতির মধ্যে।'
প্রীতির মুখে এই রাশ ভারি কথা শুনে পথিক অবাক হয়ে তাকায় ওর দিকে। বলে, 'তোর যখন এত পরিবর্তন , দেবে অনেকই দেবে। জাতি এখন স্বপ্নে বিভোর।'
পথপ্রীতি তার সুন্দর দাঁতগুলো বের করে একগাল হাসির ঝড় তুলে বলে ওঠে,
' হুঁ, দেতো তোর নামে একটা কমপ্লেইন লিখে পাঠাই। তুই না চাঁদাবাজি করেছিলি পাড়ার ঐ কাবটার ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজনের সময়। '
১৮.৪.০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


