
শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
ওগো মোর প্রিয়তম,
প্রথমে জানাই আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক ভালবাসা। আশা করি ভাল আছো। তবে আমি কিন্তু ভাল নই। তোমাকে এয়ারপোর্টে বিদায় দেয়ার পর থেকে অনেক রাত ঘুমাতে পারিনি। শুধু কেঁদেছি তোমার কথা মনে করে। এখনও কাঁদি। আমার এ দুঃখ তুমি বুঝতে পারো কি না জানিনা। আমি তোমায় কত ভালবাসি তুমি যদি সত্যি সত্যি বুঝতে, তাহলে এতোদিন আমাকে চিঠি না লিখে থাকতে পারতে না। অচেনা অজানা অবস্থায় তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের আগে তোমাকে দেখার সুযোগ হয়নি। বাসর রাতেই প্রথম তোমাকে দেখেছি। সেই থেকে আজো তোমাকে ভালবেসে পাগলিনী হয়ে আছি। শয়নে-স্বপনে শুধু তোমার কথাই মনে পরে। গত তিনমাস হলো তোমার কোন চিঠিপত্র না পেয়ে খুব চিন্তার মধ্যে আছি। যদি বিদেশের মাটিতে কাজের চাপের কারণে চিঠি লেখার সুযোগ না পাও তাহলে আমার কোন অভিযোগ নাই। যদি ইচ্ছা করে চিঠি না দিয়ে থাকো তাহলে আমার ভালবাসার দিব্যি রইল। আর যিদি তোমার কাছে আমি কোন অপরাধ করে থাকি, সে অপরাধ আমাকে বললে আমি তোমার দু’টি পা ধরে ক্ষমা চেয়ে নেব।
যাক এসব কথা। তুমি যাওয়ার সময় এয়ারপোর্টে আমার হাতে দু’হাজার টাকা দিয়েছিলে। সে টাকা দিয়ে আমি একটি ছাগল কিনেছি। গত সপ্তাহে সে ছাগলের তিনটি বাচ্চা হয়েছে। মা বলেছে বাচ্চাগুলা বড় হলে বিক্রি করে গরু কিনে দিবে। ছয়মাস আগে আমার হাত খরচের জন্য যে দশ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলে। আমি সেটাকা একটাও খরচ করিনি। বাবার হাতে দিয়েছিলাম। বাবা সে টাকা দিয়ে দশ কাঠা ধানের জমি বন্ধক রেখে দিয়েছে। সে ক্ষেত থেকে বর্গার ভাগ ছয়মন ধান পেয়েছি।
মা তোমার জন্য দুইটা মোরগ রেখেছে। মোরগগুলো অনেক বড় হয়েছে। তার একটা গত কাল রাতে খোয়াড় ভেঙে শেয়ালে নিয়ে গেছে। শেয়ালের পিছনে পিছনে আমরা লাঠিসোটা নিয়ে অনেক দূর দৌড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ধরতে পারিনি। সকাল বেলা দেখি মোরগের নাড়ীভুড়ি আর পাখগুলো বাড়ির পিছনে পরে আছে, বাকি সব শেয়ালে মজা করে খেয়ে নিয়েছে।
আমাদের ঘরের পিছনে যে কাঁঠাল গাছ আছে, সেই গাছে বড় বড় তিনটা কাঁঠাল ধরেছিল। গত সপ্তাহে চোরেরা সব কাঁঠাল চুরি করে নিয়ে গেছে। কাঁঠাল চোরে নিয়েছে তাতে আমাদের আফসোস নেই, কিন্তু চোরেরা এমন এক কান্ড করে গেছে, যা শুনলে না হেসে থাকতে পারবে না। কাঁঠাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় দাদার ঘরের দরজার সামনে ইচ্ছে মতো পায়খানা করে গেছে। দাদা শেষ রাতে যখন নামায পড়ার জন্য উঠেছে, দরজা খুলে বাইরে পা দিতেই পা পিছলে ধরুম করে পরে গিয়ে সে কি চিৎকার, ওরে বাবারে ---- মরে গেলাম রে ----- দাদার চিল্লাচিল্লি শুনে ঘুম থেকে ধুসমুস করে উঠে দরজা খুলে বাইরে এসে দেখি-- দাদা উঠানের মাঝে গড়াগড়ি করছে। আমরা ভেবেছি না জানি কি হয়েছে। আলো জ্বালিয়ে দেখি দাদার লুঙ্গিসহ সারা গায়ে পায়খানা মেখে একাকার। প্রথমে ভেবেছিলাম বুড়ো মানুষ দাদাই হয়তো পায়খানা করেছে। কিন্তু পরে খেয়াল করে দেখি চোরেরা এই কান্ড করে গেছে। দাদা পিছলে পরে কোমরে ব্যাথা পেয়ে সাতদিন বিছনায় শুয়েছিল।
গত মাসে আমার বান্ধবী শীলার বিয়ে হয়েছে। দাওয়াত দিয়েছিল। তোমার দেয়া শাড়ি গয়না পরে দাওয়াতে গিয়েছিলাম। অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে এগুলো কে কিনে দিয়েছে। আমি বলেছি তোমার কথা। এ কথা শুনে তারা তোমার অনেক প্রশংসা করেছে।
আর বেশি কিছু লিখে তোমার মূল্যবান সময় নষ্ট করবো না। আমরা বাড়ির সবাই ভাল আছি। তুমি সুখে থাকো এই কামনা করে আজকের মতো চিঠি লেখা শেষ করছি। চিঠি পাওয়া মাত্রই চিঠির উত্তর দিও। তোমার চিঠির অপেক্ষায় এই অভাগিনী বসে রইল।
ইতি
তোমারই প্রিয়তমা
সরলা
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



