
আমার এক আত্মীয় ক্লাস নাইনে পড়ে। সম্পর্কে নাতী হয়। হঠাৎ তার কাছে গতকাল বিকালে গ্রামীন ফোন নাম্বার থেকে টেলিফোন আসে। টেলিফোন রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে বলে উঠে, আপনি তো সৌভাগ্য বান আপনার এই সিমটি লটারীতে জিতেছে। আপনি সাতাইশ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। আপনি তাড়াতাড়ি গ্রামীন ফোনের হেড অফিসে অথবা আমাদের এই নাম্বারে যোগাযোগ করেন।
সাতাইশ লক্ষ টাকার কথা শুনে ছেলে তো খুশিতে হার্টফেল হওয়ার অবস্থা। কারণ ঐ ছেলে খুব গরীব। অনেক কষ্টে লেখাপড়া করে। সাতাইশ হাজার টাকা একত্রে চোখে দেখে না, সেখানে সে যদি সাতাইশ লক্ষ টাকা বিনা করণে হঠাৎ করে পেয়ে যায় তাহলে সে কি আর সুস্থ্য থাকতে পারে! তাড়িঘড়ি আমাকে টেলিফোন দিয়েছে, দাদা, আমি নাকি লটারীতে সাতাইশ লক্ষ টাকা পেয়েছি, গ্রামীন ফোনের হেড অফিসে যোগাযোগ করতে বলেছে। দাদা, আপনি তাড়াতাড়ি যোগাযোগ করেন, দেরি করলে টাকা নাকি পাওয়া যাবে না।
কথা শুনে আমারো তিন বার হার্ট ফেল হওয়ার অবস্থা। তাল সামলে পল্টনের গ্রামীন ফোনের অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতেই তারা বলল, এসব ভুয়া। আমাদের এধরনের কোন প্রজেক্ট নাই। তাদের সাথে কোন প্রকার লেনদেন করবেন না।
সন্ধ্যার সময় আমার পাশের রুমের এ্যাডভোকেট ভাইকে গিয়ে বললাম। দেলোয়ার ভাই, আমার এক আত্মীয় তো ডিজিটাল প্রতারণায় পড়েছিল।
তিনি বললেন, কি রকম?
ঘটনা খুলে বললে তিনি হা হা করে হেসে বললেন, আরে ভাই কয়দিন আগে তো আমিও এমনই প্রতারণায় পড়েছিলাম। তিনি হেসে হেসে বললেন, আমি তখন মতিঝিলে রিক্সায় বাসায় ফিরতেছি হঠাৎ টেলিফোন করে একজন বলল, ভাই আপনি তো সৌভাগ্যবান। আপনি গ্রামীন ফোনের পক্ষ থেকে আঠারো লক্ষ টাকা লটারী পেয়েছেন। আপনি তাড়াতাড়ি আমাদের সাথে যোগযোগ করেন এবং নাম রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আমাদের এই নাম্বারে বিকাশে তের হাজার সাত শত পঁচাত্তর টাকা পাঠান। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাথেসাথেই রিক্সা ছেড়ে দিয়ে কাছেই গ্রামীন ফোন সেন্টারে গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা এটাকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দেয়।
এবার বোঝেন ডিজিটাল প্রতারণার অভিনব কৌশল।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


