
ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নামে কোনো চাঁদাবাজি করা চলবে না। তারা কথা রেখেছে, বঙ্গবন্ধুর নামে কোনো চাঁদাবাজি করেনি। চাঁদাবাজি করেছে শোক দিবসের নাম করে। সর্বত্রই চাঁদাবাজি চলে। একটা উদাহরন দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না- শোক দিবসের নাম করে তারা এক নামকরা পার্লারে গেল। দাবী করলো একটা আস্ত গরু। অনেক বলে কয়ে পরে চার হাজার টাকায় তাদের বিদায় করা হলো। প্রতি বছরের মতো এবছরও মন্ত্রী জাতীয় শোক দিবসকে কেন্দ্র করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আমাদের দেশের মন্ত্রীরা কঠোর হুশিয়ারি দিতে খুব পছন্দ করেন। যেমন খাদ্য মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী, সেতু মন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী। যথারীতি তাদের হুশিয়ারিতে কোনো কাজ হয় না।
এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এলাকার ছেলেপেলের দিকে না তাকালে হয়! রাস্তায় বিভিন্ন পয়েন্টে দেখবেন সিএনজি, বাস জাতীয় প্রত্যেকটি পরিবহনকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিতে হয় প্রতিদিন। আপনি ফুটপাতে দোকানদারি করেন। আরে ভাই এইটাতো অবৈধ কাজ। বৈধ করতে হবে না। দেন চাঁদা। হাইওয়ে গুলোতে চলাচল করা কাভার্ড ভ্যান, ট্রাকগুলোর ড্রাইভারা সবসময় চিন্তায় মগ্ন থাকে। কখন না যানি গাড়ি থামিয়ে দেয়। কোরবানি ঈদের পশু নিয়ে আশা ট্রাকগুলোরও একই রকম ভোগান্তিতে পরতে হয়।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সবখানে একই অবস্থা। বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির আমলেও হয়েছে। তবে সেটা ছিল নিয়ন্ত্রিত। বর্তমান সরকারের আমলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কারও নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হয় না। পুলিশ যদি ঘুষ না নিত, তাহলে বাস মালিকদের অনেক টাকা বেঁচে যেত। এর সুফল পেতেন যাত্রীরা। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটেও চাঁদা বাধ্যতামূলক। পণ্যবাহী পরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-বেনাপোল ও সিলেট সড়কে। আজকাল চাঁদাবাজিতে হিজড়াও কম যায় না। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে হিজড়ারা।
গুলিস্তান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি বাস যাতায়াত করে। তাদেরও চাঁদা দিতে হয়। পুলিশের চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি। চাঁদাবাজি হচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে। চাঁদাবাজরা কিন্তু গর্তে লুকিয়ে থেকে চাঁদাবাজি করছে না! প্রকাশ্যেই চলছে তাদের এমন তৎপরতা। কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিতে লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার ও ধোলাইখাল এলাকার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। রাজধানীর বাহাদুরশাহ পার্ক এলাকার বাসস্ট্যান্ড থেকে সাতটি পরিবহন কোম্পানির প্রত্যেকটি থেকে তারা মাসে ৬০ হাজার টাকা করে গড়ে চার লাখ ২০ হাজার টাকার চাঁদা তোলা গত। এই টাকার ভাগ কারা কারা পায় জানলে অবাক হয়ে যাবেন।
একটি সুস্থ সমাজ সর্বদাই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। চাঁদাবাজি সুস্থ সমাজ কাঠামোয় বিশৃংখলা সৃষ্টি করে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



