১। হুটহাট করে মাঝে মাঝে টুকরো টুকরো সৃতি খুব মনে পড়ে যায়। কত তুচ্ছ অর্থহীন সব ঘটনা।
তখন আমার চার কি পাঁচ বছর বয়স হবে-
একটা চকলেট হাতে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মাঝরাতে অসংখ্য পিঁপড়া আমাকে ঘিরে ধরলো। পিপড়ার কামড়ে ঘুম ভেঙ্গে গেল, চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলাম আমি। মা আলো জ্বালালো। দেখা গেল লাল পিপড়ে দিয়ে ভরে গেছে আমার বালিশ- বিছানা। আব্বা তো হই চই শুরু করে দিল। একটাকেও আস্ত রাখবো না। সব ক'টা পুড়িয়ে মারবো। আমার ছেলেকে কামড় দিয়েছে। কেরাসিন আনো, দিয়াশলাই দাও। মা বলল, এত রাতে চিৎকার চেচামেচি করো না। ......
আর আমি তখন বসে বসে ভাবছি- পিঁপড়েদের খবর দিল কে? কি করে তারা জানতে পারল আমার হাতে চকলেট আছে? পিপড়া'রা কি রাতে ঘুমায় না?
২। প্রায়'ই চোখের সামনে ঘোর বর্ষাকালের একটা দৃশ্য ভাসে।
চার দিন ধরে তুমুল বৃষ্টি। স্কুল বন্ধ, বাজার-হাট বন্ধ, উঠোনে হাঁটু পানি। একটি পরিবারের- মা বাবা ভাই বোন সবাই বারান্দায় বসে পানি দেখছে। চুপচাপ। কারো মুখে কোনো কথা নেই। টিনের চালে শুধু বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ। তাদের পেট ভরতি ক্ষুধা। কিছু করার নেই। রান্না ঘর পানিতে ডুবে আছে।
শুধু বৃষ্টি পড়ছে। শুধু বৃষ্টি পড়ছে।
৩। হঠাৎ উপলব্দি হলো, পৃথিবীর সব শিশুদের কান্না একই রকম। মানুষের মধ্যে কত রকম জাতি, কত ভাষা, কত সংস্কার, কত রকম বিভেদ, সবই কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা। অথচ সব মানুষ'ই একই রকমভাবে জন্মায়, জন্মের পর অন্তত দু-তিন বছর মানব শিশুর হাসি ও কান্নায় কোনো প্রভেদ নেই। কোনো ধনীর ঘরের শিশু আর ঢাকার কোনো বস্তির গরীব মায়ের সন্তান ঠিক একই সুরে কাঁদে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



