somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

টুকরো টুকরো তিনটি ঘটনা

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১। পাটুরিয়া ঘাটে বাস জ্যামে পরেছে। নদী ফেরীতে পার হবো। বাসে একলোক উঠলেন খুব নিরিহ চেহারা। নরম সুরে তিনি বলছেনঃ আমার ছেলেটা হাসপাতালে ভর্তি। ১০ লাখ টাকা লাগবে। আমি একটা অফিসে পিয়নের কাছ করি। পরশু দিন অপারেশন। আপনারা কেউ যদি পারেন আমাকে সাহায্য করেন। আমি ভিক্ষুক না। লোকটির এমনভাবে কথা বলেছেন- সবাই তাকে টাকা দিচ্ছে। আমিও দিলাম ২০০ টাকা। আনুমানিক লোকটা আমাদের বাস থেকে প্রায় দুই হাজার টাকার মতো পেলো। লোকটির জন্য আমার খুব মায়া লাগলো। আহা বেচারা।

এই ঘটনার দুই মাস পর আমাকে অফিসের কাছে ফরিদপুর যেতে হলো। ফেরীঘাটে সেদিনও দেখি ঐ লোকটা। একই ঘটনা বলে সবার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। আমার মেজাজটা প্রচন্ড খারাপ হলো। আমি লোকটিকে ধরলাম। তার কাছ থেকে যা যা জানলাম- প্রতিদিন প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা উঠে। এই টাকার ভাগ দিতে হয় ১৩ জনকে। লোকটি আমাকে আরও জানালো এই রকম ( মানে তার মতো ) এই ঘাটে মোট ২৭ জন আছে। তারা একেক জন একেক রকম ঘটনা বানিয়ে সাধারন মানূষদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।

আমার কথা হচ্ছে- তাদের হাত পা সবই আছে। তারা কাজ করে খেতে পারে। অন্তত পক্ষে রিকশা তো চালাতে পারে। তারা কেউই কাজ করে না কেন? কেন মানূষের সাথে প্রতারনা করছে?

২। অফিস থেকে ফেরার পথে এদেরকে একেক দিন একেক জায়গায় দেখি- তারা তিন চারজন। দেখে মনে হবে- একেবারে নিরিহ একটি পরিবার। গ্রাম থেকে শহরে এসে বিপদে পড়েছে। অল্প বয়সী মায়ের কোলে একটা ছোট বাচ্চা। বাচ্চার বাবা রাস্তায় আপনাকে দেখে বলবে- আমার মা, স্ত্রী আর বাচ্চাটাকে নিয়ে ঢাকা ঢাকায় আসছি চাকরির আশায়। নদী আমাদের সব ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। একটু সাহায্য করুন। আমাকে সাহায্য করতে হবে না, আমার ছোট বাচ্চা আর মাকে একটা রুটি কিনে দেন। আমরা টাকা চাই না। আমরা ভিখুক না। আমাদের সবই ছিল। কিন্তু আজ পথে বসে গেছি। ইত্যাদি ইত্যাদি...

আমি প্রতিদিন অফিস শেষে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরি। ঢাকা শহরের সমস্যা গুলো আমার চোখে খুব বেশি পড়ে। তারা আবছা অন্ধকার জায়গা বেছে নেয়। যদি দাঁড়িয়ে আপনি তাদের কথা শুনেন তো বিপদে পড়বেন। আপনার সবই কেড়ে নেয়া হবে। এইসব সমস্যার সমাধান নেই। সিটি কর্পোরেশন কি পারে না এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে? প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এদের ফাঁদে পড়ে বিপদে পড়ছে। সব হারাচ্ছে। দেখার কেউ নেই? তাহলে আপনারা কেন বলেন- দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে?

৩। পকেট মারের জন্য গুলিস্তান বিখ্যাত। যুগ যুগ ধরে এখানে পকেটমার হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ ব্যবস্থা নেয়নি। এই পকেটমারের টাকা গুলোও দিন শেষে ভাগাভাগি হয়। কারা কারা এই টাকার ভাগ পায় শুনলে অবাক হবে! যদি গুলিস্তান এলাকায় কোনো পকেটমার ধরাও পড়ে, দেখবেন ছদ্মবেশে তাকে বাচানোর জন্য তার লোকজন মুহূর্তের মধ্যে এসে পড়েছে। গুলিস্তান এলাকায় আমার চাচার সেলাই মেশিনের দোকান আছে। আমি সেখানে এক বছর ছিলাম। প্রতিদিন যাওয়া আসা করতে-করতে আমি সব গুলো পকেটমারকে চিনে ফেলেছি। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখি- কি যে দক্ষতার সাথে তারা মানূষের পকেটমারে না দেখলে বিশ্বাস করবেন না।

এক সরকার থেকে আরেক সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু গুলিস্থানের পকেটমার আর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেউ কোনোদিন পারেনি। পারবেও না। গুলিস্তানের ফুটপাত সম্পর্কে কিছুদিন আগে সাঈদ খোকন একবার গুলিস্তান এসে বলেছিলেন- এক ইঞ্চি জায়গা দেয়া হবে না। তারপর আমি গুলিস্তান গিয়ে দেখি, আসলেই এক ইঞ্চি জায়গা পেলাম না পা রাখার জন্য। সাঈদ সাহেব ফুটপাত দখল মুক্ত করতে পারেন নি। কেউই পারবে না। অন্তত জলিলও পারবে না।
আপনি জানলে অবাক হবেন- গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়। আর একটা কথা- যে জায়গা গুলোতে ছিনতাই হয়, সে জায়গা গুলোতে পুলিশের চেকপোষ্ট বসে না। কেন কেন কেন???
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৪৫
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×