
সরকারী প্রাইমারী স্কুল। আশে পাশের এলাকার দরিদ্র বাবা মায়ের ছেলে মেয়েরা এই স্কুলে লেখা পড়া করে। প্রিয় শিক্ষক চলে যাচ্ছেন, অন্য স্কুলে। খবরটা পেয়েই আর স্থির থাকতে পারেনি তার ছাত্রছাত্রীরা।
এদিকে সরকারি নিয়ম। তাই যেতেই হবে। তবু শিক্ষক গেট থেকে বেড়োনোর মুহূর্তেই গড়ে উঠল মানবপ্রাচীর। হাতে হাত রেখে ঘিরে দাঁড়াল ছাত্রছাত্রীরা। চোখে জল আর কাতর আবেদন, স্যার, যাবেন না প্লিজ। সে আর্তি শুনে তখন চোখে জল শিক্ষকেরও।
তামিলনাড়ুর একটি সরকারি হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন জি ভগবান। তরুণ শিক্ষক। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে দারুণ দোস্তি। ইংরেজি পড়াতেন তিনি। তবে শিক্ষকের থেকেও বেশি তিনি ছাত্রছাত্রীদের বন্ধু। অবসর সময়ে তাদের গল্প শোনাতেন। কার বাড়িতে কী অবস্থা সব খোঁজ খবর রাখতেন। কার কীসে অসুবিধা-সুবিধা তা তাঁর নখদর্পণে। ছাত্রছাত্রীরাও তাই মন খুলে শিক্ষককে বলতে পারত সব কথা। সেই শিক্ষক চলে যাচ্ছে দেখে আর বসে থাকতে পারেনি তারা। হাতে হাত রেখে তৈরি করেছে মানবপ্রাচীর। চোখের জলে আবেদন করেছেন, বলেছে, স্যার যাবেন না। কিন্তু কেন চলে যেতে হচ্ছে স্যরকে? আসলে যে স্কুলে ভগবান চাকরি করতেন ছাত্র অনুপাতে সেখানে শিক্ষকের প্রয়োজন নেই। তাই শিক্ষক কম এমন স্কুলে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারছে না কেউই। পড়ুয়াদের এই অবস্থা দেখে কাতর শিক্ষকও। ছাত্রদের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চোখেও জল। তবু, চলে তো যেতেই হবে। সরকারি নিয়ম যে এটাই।
এ ছবি তাও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। হাল আমলে শিক্ষাও নাকি ব্যবসা হয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার ছাত্রছাত্রীদের শাস্তি দিতেও ভয়ে ভয়ে থাকেন শিক্ষকরা। কারণ হাজারো নিয়মের কড়াকড়ি। ফলে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মাধুর্যটাই যেন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এ ছবি প্রমাণ করল, এ মহাবিশ্বে কোথাও কিছু হারায় না। অন্তরের জিনিস থেকে যায় অন্তরেই।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষক যান নি।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৮ সকাল ১০:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




