somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

টাইটান- ০২

২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রাত তিনটা বিশ মিনিটে ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গল। ঘামে আমার সারা শরীর ভিজে গেছে। স্বপ্নে দেখি- আমাকে একটা ছোট্র অন্ধকার ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ঘর ভর্তি সাপ। সাপ গুলো আমার সারা শরীর প্যাচিয়ে ধরেছে। সাপ আমি অনেক ভয় পাই। সাপ গুলোকে কিছুতেই সরাতে পারছি না। এর মধ্যে একটা সাপ আদুরে ছোট বাচ্চাদের মতন আমার গলা প্যাচিয়ে ধরেছে এবং একটু পর পর কামড় দিচ্ছে। আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে । তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেছে। চিৎকার করে কাউকে ডাকবো কিন্তু গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। বুঝতে পারছি, আমার সময় শেষ। কিন্তু মরার আগে শরীরের সব শক্তি দিয়ে একটা গা ঝাড়া দিলাম। তখন ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি তিনটা বিশ বাজে।

স্বপ্নের চেয়ে ভয়াবহ জিনিস আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। পানি খাওয়ার জন্য বিছানা থেকে নামতেই দেখি- কে যেন সোফায় চুপ করে বসে আছে। আলো জ্বালিয়ে দেখলাম- সোফায় বসে আছি আমি। অথবা আমার মত দেখতে কেউ একজন। আমি বেসিনে গিয়ে চোখে মুখে পানির ছিটা দিলাম। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা এক গ্লাস পানি খেলাম। এবং ঠান্ডা মাথায় ভাবতে শুরু করলাম। আমি একজন আধুনিক মানুষ। কোনো কুসংস্কারের উপর আমার কোনো আস্থা নেই, বিশ্বাস নেই, ভরসা নেই। আমি সোফায় গিয়ে ছেলেটির পাশে বসলাম, অথবা আমার পাশেই আমি বসলাম। আমি যেভাবে গালে একটা আঙ্গুল রেখে চুপ করে বসে থাকি- ছেলেটিও সেভাবে বসে আছে। ছেলেটিকে দেখে কেন জানি খুব মায়া লাগছে। ছেলেটির বসার ভঙ্গির মধ্যে এমন একটা ব্যাপার আছে- দেখেই মায়া-মায়া লাগছে। আপনারা যা ভাবছেন তা-ও না। আমি রাতে মদ খাইনি।

আমি মার ঘরে- মাকে ডাকতে গেলাম। দেখি মা আরাম করে ঘুমাচ্ছে। সারাদিন বেচারি ঘরের কাজ করে- এখন এত আরাম করে ঘুমাচ্ছে- তাই মাকে আর ডাকলাম না। আমি আমার ঘরে চলে এলাম- এবং দেখি ছেলেটির পাশে মা বসে আছে। কিন্তু মা তো মার ঘরে ঘুমাচ্ছে। কি হচ্ছে- এইসব!! আমি দুইটা, মা দুইটা!! আজিব ব্যাপার!! এমন হতো- আমি সারারাত ভদকা খেয়েছি। টাল হয়ে গেছি- তাই সব কিছু দু'টা দেখছি। মদ আমি খাই না। চোখের ভুল? নাকি হেলুসিয়েশন হচ্ছে? নিজেকে বললাম- মাথা ঠান্ডা রাখো বালক। ভাবো, ভাবো। কার্যকারণ ছাড়া এই পৃথিবীতে কিছু ঘটে না। অনেক ভাবলাম, কোনো কুলকিনারা পেলাম না। এরা কি এলিয়েন? অন্য কোনো গ্রহ থেকে আসছে? আমার ঘরে কেন? আমার কাছে কি চায়? দেখতে মা'র মতো- আমার মতো! চুপ করে বসে আছে। কোনো কথা বলছে না!

মসজিদে ফজরের আযান শেষ হলো। আকাশ ফরসা হতে শুরু করেছে। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবলাম- দিনের আলোয় আমার অস্থিরতা কেটে যাক এবং সব ঘটনা পরিস্কার হয়ে যাক। আমি আমাকে এবং মাকে ঘরে রেখে- ছাদে গেলাম। যাওয়ার আগে সোফায় বসে থাকা- আমার মতো দেখতে আমাকে এবং মায়ের মতোন দেখতে মা'কে বললাম, ছাদে যাচ্ছি- আশা করি- ফিরে এসে তোমাদের দেখতে পাবো না। আমি ছাদে চলে এলাম। আমাকে এবং মাকে ভুলে থাকতে চাই। সব চিন্তা বাদ দিয়ে- আমি ভোরের আকাশের দিকে মন দিলাম। অনেকদিন আগে, খুব ভোরে হিমি আমাকে ফোন করে একটা গান শুনিয়েছিল- "ডাকে পাখি, খোল আখি, দেখ সোনালি আকাশ,বহে ভোরের ও বাতাস...ফুলে ফুলে ওই দোলে প্রজাপতি দোলে,নিজে নিজে ওই বেলা বেড়ে চলে আলোতে কেনো তবে যে ঘুমের ও বিলাস...বহে ভোরের ও বাতাস ।"

আকাশ ফরসা হয়ে গেছে। রোদ উঠে গেছে। কখন এত সকাল হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। অনেক ক্ষুধা লেগেছে। আমি নীচে নেমে এলাম। ঘরে ঢুকে দেখি- আমার মত দেখতে, সেই ছেলেটি এবং মা বসে আছে সোফায়। সেই রকম শান্ত ভঙ্গিতে বসা। যেন কোনো কাজ নেই। বসে থাকাটাই একমাত্র কাজ। ছাদে গিয়ে ওদের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। আমি ছেলেটি এবং মার দিকে তাকিয়ে বললাম- তোমাদের ক্ষুধা পেয়েছে? নাস্তা খাবে? ছেলেটি আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল- টেবিলে নাস্তা দেওয়া হয়েছে। খেয়ে নাও। গলার স্বর শুনে চমকে উঠলাম। ছেলেটি দেখতে আমার মতন-গলার স্বরও আমার মতন। আমি বললাম তোমরা খাবে না? মা মাথা নাড়ল আর ছেলেটি বলল- আমাদের ক্ষুধা হয় না। আমি অনেক দিন পর খুব আরাম করে নাস্তা খেলাম। তারপর এক কাপ চা।

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আমি আমার এবং মার মুখোমুখি বসলাম। ব্যাপারটার একটা ফয়সালা করতে হবে। হবেই। আমি কোনো ভনিতা না করে সরাসরি বললাম- মুল ব্যাপারটা কি? আমাকে বুঝিয়ে বলো। নো তেরিং বেরিং। ছেলেটি এবং মা দুইজন দুইজনের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে নিল। যেন তারা আমার এই প্রশ্নের অপেক্ষায় ছিল। তারা দুই জন উঠে দাঁড়ালো। এবং তাদের চেহারা বদলে গেল। চারপাশে তীব্র আলোর ঝলক। আমি তাকাতে পারছি না। শুধু আমার কানে আসল স্পষ্ট এবং স্বচ্ছ কয়েকটা শব্দ। আমরা তোমাকে নিতে আসছি, আমাদের গ্রহে। আমাদের গ্রহের নাম টাইটান। তোমাকে নিয়ে আমাদের অনেক রকম পরিকল্পনা আছে। পৃথিবী নামক গ্রহে- তুমি সবার থেকে আলাদা। তোমাকে আমাদের খুব প্রয়োজন। এক বছর ধরে তুমি আমাদের পর্যবেক্ষণের মধ্যে আছো। ব্যালকনিতে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখ- তোমাকে নেওয়ার জন্য বিশাল একটা রকেট অপেক্ষা করছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:০৮
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×