
আপনার বিয়ের বয়স হয়েছে, তাই বিয়ে করার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছেন। নারী রহস্য আর নারী সঙ্গের কারনে অস্থির হয়ে পরেছেন। সেই ছোটবেলা থেকে লেখাপড়া শুরু করেছেন। লেখাপড়া করছেন প্রায় ষোল/আঠারো বছর হয়ে গেছে। লেখা-পড়া শেষ করে চাকরিও পেয়ে গেছেন। এখন আপনাকে ঠেকায় কে? বিয়ে করতেই হবে। নিজেরও ইচ্ছা আছে। বাপ-মাসহ আত্মীয় স্বজনও চায়। তাই বিয়ে করে ফেললেন। অথবা হয়তো আপনার পছন্দেরও কেউ থাকতে পারে। বিয়ের পর নিজের ইচ্ছা এবং অন্যদের ইচ্ছা পূরন করার জন্য বাচ্চা নিতে হয়। এইভাবেই তো চলছে জগত সংসার। বছরের পর বছর। যুগের পর যুগ। নিয়মটা সঠিক নয়।
এখন ধরুন, আপনি বিয়ে করে ফেললেন। তারপর আপনি বাচ্চা নিলেন। একটা বা দুইটা। অথবা তারচেয়ে বেশি। তাতে কারো'ই কিছু যায় আসে না। আচ্ছা, এই যে সন্তান নিলেন। এদেরকে সঠিকভাবে মানুষ করতে পারবেন তো? এই সমাজ তো ভালো না। নোংরা সমাজ। তারচেয়ে হাজার গুন বেশি নোংরা মানুষের মন মানসিকতা। একবার ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন আপনার সন্তানকে কোথায় রেখে যাচ্ছেন? কোন সমাজে? তারা আপনাকে ছাড়া কিভাবে পার করবে বাকিটা জীবন। আপনি না হয় দুঃখে কষ্টে পার করে দিলেন আপনার জীবন। চোখটা ভালো করে খুলুন। চারপাশে ভালো করে দেখুন। কতলোক না খেয়ে আছে, চুরী করছে, ছিনতাই করছে। নানান রকম খারাপ কাজ করে বেড়াচ্ছে। যারা এসব করছে তারাও তো কোনো না কোনো না বাপ মায়ের সন্তান।
এই সমাজে যারা খারাপ কাজ করে- তারাও কারো না কারো সন্তান। তারাও তাদের মায়ের পেটে দশ মাস ছিল। এই সমাজে দুর্নীতিবাজ কারা? চোর-ছিনতাইকারী, ডাকাত, মাদকসেবী কারা? ওরা তো কোনো না কোনো বাপ মায়ের আদরের সন্তান। ওদের বাপ মায়েরও তো অনেক স্বপ্ন ছিল সন্তানদের নিয়ে। এখন আপনার সন্তান যে চোর, দুর্নীতিবাজ, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী, ধর্ষনকারী হবে না এমন নিশ্চয়তা কি দিতে পারবেন? আপনার আবেগ বেশি আপনি হয়তো বলবেন, আমি যেহেতু চোর, দুর্নীতিবাজ নই তাহলে আমার ছেলেও অসৎ পথে যাবে না। এটা ভুল চিন্তা। কাজেই নিজে যোগ্য হন, তাহলে নিজের সন্তানকেও যোগ্য করে তুলতে পারবেন না। যদি সন্তানকে ১০০% ভালো না বানাতে পারেন তাহলে আপনার সন্তান নেওয়ার দরকার নাই। কনডম ব্যবহার করুন। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।
সব বাপ মা'ই তাদের সন্তানদের নিয়ে আশাবাদী থাকে। সন্তান পেটে থাকতেই চিন্তা করে, ডাক্তার বানানো, পাইলট বানাবো, ইঞ্জিনিয়ার বানাবো ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে জেলখানাতে এত এত কয়েদি কেন? তাদের বাপ-মা কি কোনোদিন ভেবেছিল- তাদের সন্তান জেলখানাতে সাজা ভোগ করবে? চারপাশে এত মাদকসেবী কেন? দুর্নীতিবাজ কেন? ধর্ষন কেন? আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ না। আজকের শিশু আগামী দিনের দুর্নীতিবাজ, চোর, ছিনতাইকারী, মাদক সম্রাট, ঘুষখোর, ধর্ষনকারী, দালাল, দুষ্টলোক। কাজেই সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে হাজার বার, লক্ষবার ভেবে নিন। বিয়ে করা, সন্তান জন্ম দেওয়া কোনো ঘটনা না। বিয়ে টিকিয়ে রাখা এবং সন্তানদের মানুষ করা অনেক কঠিন। নিজে কিছু করতে পারেন নি পরিবারের জন্য, দেশের জন্য। এখন দয়া করে নিজের সন্তান জন্ম দিয়ে সমাজের বোঝা আরও বাড়াবেন না।
আমি বিয়ের বিপক্ষে না, সন্তান জন্ম দেওয়ার বিপক্ষেও না। কিন্তু আমদের সমাজটা তো ভালো না। এই সমাজ একজন ভালো মানুষকেও খারাপ বানিয়ে দেয়। দরিদ্র দেশ গুলোর মানুষ খুব বেশি খারাপ হয়। বিরাট বদ হয়। তারা কাউকে ভালো থাকতে দেয় না। চাকরি নাই, তাই চারদিকে হতাশা। লাখ লাখ শিক্ষিত যুবক ফকিরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদিকে বাঙ্গালী মেয়েরা বিয়ের পর নিশ্চিন্ত। অল্প কিছু মেয়ে চাকরি করে। বেশির ভাগ'ই সংসার করে। স্বামীর মাইর ঘুতা খায়। অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুনে। সব কিছু চুপ করে সহ্য করে যায়। তাদের অন্য কোনো উপায় নেই। এটাই পৃথিবীর ইতিহাস। অল্প কিছু মেয়ে হয়তো ভালো আছে। কাজেই আপনার যদি প্রচুর সম্পদ থাকে- তাহলে হয়তো আপনার সন্তান উন্নত দেশে গিয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারবে। এই দেশের আশি ভাগ লোক'ই গরীব। কাজেই সব কাজ অনেক হিসাব নিকাশ করে করতে হবে। আবেগকে সম্পূর্ন বাদ দিতে হবে।
এক, বিয়ের আগে ভেবে নিন- ঠিক মতোন সংসার করতে পারবেন কিনা। আপনার টাকা আছে কিনা। সংসারের চাহিদা পুরোপুরি পালন করতে পারবেন কিনা?
দুই, সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে একশো বার ভাবুন- ঠিকভাবে সন্তান লালন-পালন করতে পারবেন কিনা। আপনার সন্তান সমাজের বোঝা হবে নাতো? সে নিজের পরিবার সামলানোর পর দেশের জন্য কোনো অবদান রাখতে পারবে তো?
আবগে কাজ করলে হবে না। আবেগ দিয়ে কবিতা লেখা যায়। জীবন চলে না। জীবন অনেক কঠিন। যদি সংসার চালাতে না পারেন। সংসারের অভাব দূর করতে না পারেন। তাহলে বিয়ে করবেন না। আর বাচ্চা নেওয়া তো দূরের কথা। সারা জীবন একাই কাটিয়ে দিন। যদি শারীরিক চাহিদা জাগে তাহলে কোনো পাড়ায় গিয়ে টাকার বিনিময় চাহিদা মেটান, তাও ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৭:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



