
কপাল দোষে আমার মতো কর্মহীন অবসর প্রিয় মানুষকে নিয়ে পৃথিবীর ঘটনাবলীর তরঙ্গরাশি ছিনিমিনি খেলছে!
আজ তিনদিন ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হয়। এই মাথা ব্যথা থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। ব্যথা নিয়ে পড়তে পারি না, লিখতে পারি না, মুভিও দেখতে পারি না। শুধু ছটফট করি। মাথা ব্যথা কেন হয় সেটা খুঁজে বের করেছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তায়-রাস্তায় ঘুরে বেড়াই। বেকার বলে তো আর ঘরের ভেতর সারাদিন বসে থাকতে পারি না। সারাদিন রাস্তার ধুলো ময়লার মাখামাখি হই। চারিদিকের বিকট হর্ন মাথার ভিতর বাড়ি দেয়। একটু পরপর চা খাই। দুপুরের খাওয়ার ঠিক নাই।
খুব ছোটবেলায় মিলি-তুলি নামে যমজ দুই বোন আমাকে পড়াতেন।
আমি প্রতিদিন সন্ধ্যায় কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে তাদের বাসায় যেতাম পড়তে। তারা দুই বোন কুচকুচে কালো। কিন্তু তাদের চোখে মুখে অনেক মায়া ছিলো। সব সময় চোখে কাজল দিয়ে রাখত। মিলি-তুলি আপা'র বড় ভাই ছিলেন মেজর। তাদের একটা ঘর ভর্তি থাকত বই আর বই। এত বই আর কোনো বাসায় কখনো দেখিনি। পড়া শেষে তারা আমাকে নুডুলস রান্না করে খাওয়াত। চা খাওয়াতো। নানান বিষয়ে আমার সাথে গল্প করতেন। আমি ছোট বলে আমাকে একটুও অবহেলা করতেন না। তুলি আপাকে দেখতাম বই পড়তেন আর খুব খিল খিল করে হাসতেন। অনেক সুন্দর করে হাসতেন।
তিন মাস তাদের কাছে পড়েছিলাম। তারা দু'বোন'ই বাইরে বের হলে বোরকা পড়তেন। এখনও বোরকা পড়েন। ২০০৯ সালে মিলি-তুলি আপার বিয়ে হয়। প্রায়ই তাদেরকে আমি রাস্তায় দেখি কিন্তু কথা বলি না। না, দেখার ভান করে এড়িয়ে যাই। কয়েকদিন আগে আমি ধূপখোলা বাজারের সামনে দেখি মিলি আপা লাল একটা গাড়িতে করে যাচ্ছেন।
কোনো কারন নেই অথচ বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের কথা খুব মনে পড়ছে।
খুব মাথায় যন্ত্রনা হচ্ছে। তাই আজ বেশি কিছু লিখব না। একটা ছোট গল্প বলে লেখাটা শেষ করে দেই।
নামাজ পড়ার জন্য এক ব্যাক্তি ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ওযূ করে মসজিদে যাচ্ছে। মাঝ পথে সে পা পিছলিয়ে পড়ে গেল। তাঁর কাপড় নষ্ট হয়ে গেল। সে বাসায় ফিরে এসে কাপড় বদলিয়ে আবার ওযূ করে মসজিদের দিকে রওয়ানা দিল।
মাঝ পথে আবার সে পা পিছলে পড়ে গেল। তাঁর কাপড় ময়লা হয়ে গেল। তিনি আবার বাসায় গেল কাপড় বদলিয়ে ওযূ করে আবার মসজিদের দিকে রওয়ানা দিল।
মাঝ পথে আসতে লন্ঠন হাতে এক লোকের সাক্ষাত পেল। লোকটিকে সে জিজ্ঞাস করল, আপনি কে? সে উত্তরে বলল, আমি আপনাকে দু'বার পড়ে যেতে দেখলাম তাই ভাবলাম মসজিদের যাওয়ার জন্য আমি একটি প্রদীপের ব্যবস্থা করে দেই। লোকটি লন্ঠন হাতে তাঁকে মসজিদ পযর্ন্ত এগিয়ে দিল। লোকটি সাহায্যকারীকে বললেন, চলুন নামায পড়ে নেই। লোকটিকে বারবার বলার পরও লোকটি নামাজ পড়ল নাহ্। তখন লোকটিকে প্রশ্ন করল, আচ্ছা আপনি নামাজ পছন্দ করেন না, বলুনতো আপনি কে?
লোকটি বলল, আমি শয়তান। আমি আপনাকে প্রথম বার পা পিছলিয়ে ফেল দিয়েছিলাম যাতে মসজিদে নামায না পড়ে আপনি বাড়ী ফিরে যান। কিন্তু আপনি যখন পা পিছলিয়ে পড়ে যাওয়ার পরও বাড়ী গিয়ে ফিরে আসলেন তখন আল্লাহ্তালা আপনার সব গোনাহ্ মাফ করে দিলেন।
দ্বিতীয়বার যখন আপনি পড়ে যাওয়ার পরও বাড়ী গিয়ে কাপড় বদলিয়ে আবার মসজিদে রওয়ানা দিলেন তখন আল্লাহতালা আপনার পরিবারের সকলের গোনাহ্ ক্ষমা করে দেন।
এর পর যদি আপনি আবার পড়ে গিয়ে আবার বাড়ী থেকে কাপড় বদলিয়ে আবার মসজিদে আসেন, না জানি আল্লাহ্তালা সকল এলাকাবাসীর গোনাহ্ মাফ করে দেন। সে ভয়ে আমি তাড়াতাড়ি লন্ঠন হাতে আপনাকে মসজিদে পৌছে দিয়ে গেলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



