somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী- ১

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকাল ৬ টায় ঘুম থেকে উঠে দেখি চারিদিকে কুয়াশা। প্রচন্ড কুয়াশা। এরকম কুয়াশা গ্রামে দেখা যায় শীতকালে। আজ অনেক বেলা পর্যন্ত এরকম কুয়াশা ছিল। কুয়াশা দেখে মনটা খুশি হয়ে গেল। আবার বিছানায় গেলাম। কিন্তু ঘুম আর এলো না। আমার এই সমস্যা আছে- একবার ঘুম ভেঙ্গে গেল আর ঘুম আসে না। তবু সাতটা পর্যন্ত শুয়ে ছিলাম। সুরভি বাচ্চা মেয়েদের মতো গালে হাত দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। সকাল ৮ টায় তাড়াহুড়া করে বাসা থেকে বের হলাম। এমন ভাব যেন অফিসে জরুরী মিটিং আছে। সকালের নাস্তা বাসায় করলাম। মেন্যু ছিল- পরোটা, গরুর মাংস, ডিম পোচ আর চা। বেশির ভাগ দিন'ই আমি বাসায় নাস্তা করি না। আজ করলাম। সুরভি চার পাঁচ রকমের পরোটা বানাতে পারে। আজ বানিয়েছিল আফগানিস্তানি পরোটা।

রিহাবের অফিসে গেলাম। সেখানে বাবু ভাই এর সাথে অনেকক্ষন গল্প করলাম। সাড়ে দশটায় গেলাম সাবেক এক মন্ত্রীর অফিসে। সেখানে একজনের সাথে অনেকক্ষন আজাইরা আলাপ করলাম। তারপর নিচে নেমে বেশ কয়েকটা জরুরী ফোন সারলাম। সাড়ে এগারোটা বেজে গেছে। বারোটার মধ্যে বাংলা একাডেমীতে নোমান ভাইয়ের সাথে দেখা করার কথা। রাস্তায় আজ ভয়াবহ জ্যাম। কাওরান বাজার থেকে বাসে উঠে রুপসী বাংলা হোটেলের সামনে আসতেই সময় লাগলো এক ঘন্টা। শেষে বাস থেকে নেমে হাঁটা দিলাম। সাড়ে বারোটায় গেলাম বাংলা একাডেমিতে। নোমান ভাইয়ের সাথে আলাপ শেষ করে- দুপুর দুইটায় দোয়েল চত্তরের সামনে এসে দাড়ালাম। প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে। কই যাবো? কি করবো?

ক্ষুধাটা আমি একেবারেই সহ্য করতে পারি না। চলে গেলাম হাজির বিরিয়ানি'র দোকানে। ইচ্ছে মতো খেলাম। অবশ্য সুরভি ফোন দিয়ে বলেছিল- বাসায় আসতে। আজ সে খিচুড়ি রান্না করেছে। সুরভি'র খিচুড়ি বেশ মজা হয়। কিন্তু সন্ধ্যার আগে আমার বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করে না। সুরভিকে বললাম- আমার কাজ আছে। কাটাবন গেলাম অনুপ্রানন প্রকাশনীতে। সেখানে একটা পান্ডুলিপি জমা দিয়েছিলাম। সেটার খোজ খবর নিতে। পাণ্ডুলিপিটা আমার না। আমার একজন আত্মীয়'র। অনুপ্রাননে গিয়ে দেখি প্রকাশক নেই। আমার'ই ভুল হয়েছে, ফোন দিয়ে আসা উচিত ছিল। দোকানের ছেলেটি লালনের মহা ভক্ত। আমি গেলে খুব খুশি হয়। সেই ছেলে নানান ভাবের কথা কয়। আমি খুব মন দিয়ে তার কথা শুনি।

বিকাল চারটা। সুন্দর বিকেল। আর কোথাও যাওয়ার নেই। অথচ সন্ধ্যার আগে বাসায় ফিরতে ইচ্ছা করে না। চলে গেলাম বায়তুল মোকারম। গহনার দোকানে। একতালা- দুই তালায় অনেক সোনার দোকান। কি মনে করে একটা সোনার দোকানে ঢুকে গেলাম। খুব সুন্দর সাজানো গোছানো। দোকানদার গুলো খুব স্মার্ট। খুব হাসি খুশি। দেখতে ভালো লাগে।
দোকানদার বলল, স্যার কি নিবেন?
আমি খুব ভাব নিয়ে বললাম, আমার স্ত্রীর জন্য এক জোড়া বালা বানাতে চাই।
দোকানদারের চোখ মুখ চকচক করতে লাগলো। বলল, স্যার কয় ভরির মধ্যে বানাতে চান।
আমি বললাম, ভরি'র হিসাব তো বুঝি না। আপনি'ই বলুন কয় ভরির মধ্যে বানালে ভালো হয়।
দোকানদার একজনের দিকে তাকিয়ে বলল, স্যারকে কোক দে।
আমি বললাম, আমি তো কোক খাই না। ফানটা খাই। দোকানে মনে হয় ফানটা ছিল না। দেখলাম একজন দৌড়ে বাইরে গেল। তার মানে আমার জন্য ফানটা আনতে গেছে।
দোকানদার বলল- স্যার দুই ভরির কম দিয়ে বালা হয় না।
আমি বললাম, দুই ভরি দিয়ে বানালে কত পড়বে?
দোকানদার বলল, সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা।
আমি ঢোক গিললাম। পকেটে আছে মাত্র এক শ' টাকা। বাসায় ফেরার পথে আটা আর ডিম নিয়ে যেতে হবে। না নিলে সকালে নাস্তা হবে না। আমার ফানটা চলে এসেছে। আমি আরাম করে ফানটা খেলাম। ফানটা শেষ করে বললাম, আমি এডভান্স দিব কুড়ি হাজার টাকা। আর প্রতিমাসে দশ করে দিব। যেদিন সম্পূর্ন টাকা শোধ হবে- সেদিন বালা নিয়ে যাব।
দোকানদার বললেন স্যার এডভান্স কমপক্ষে ৫০ হাজার দিতে হবে। তা না হলে সম্ভব না।
আমি বললাম- দেখুন ভাই, আমি চাকরিজিবী মানুষ। এত টাকা একসাথে কোথায় পাবো? প্রতিমাসে দশ হাজার করে দিতেই আমার খুব কষ্ট হবে। বউকে কথা দিয়েছিলাম একজোড়া বালা বানিয়ে দিব। তারপর পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে।
দোকানদার বলল- তাহলে ভাই স্যরি। আমি মন খারাপ করে দোকান থেকে বের হয়ে এলাম।

বাসায় ফিরলাম সাড়ে সাত টায়। বাসায় ফিরে দেখি- ফ্যান ঘুরে না। সুরভি বলল, দুপুর থেকে নষ্ট। সারাদিন নানান জায়গায় ঘুরে-ঘুরে আমি ক্লান্ত। ছয় তালায় একবার উঠলে আর নামতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু আমি নামলাম। অনেক খুঁজে-টুজে একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি নিয়ে আসলাম। অই হামারজাদা মিস্ত্রী তিন মিনিটের মধ্যে ফ্যান ঠিক করে দিল। কিন্তু বিল চাইছে পাঁচ শ' টাকা। বললাম, এত টাকা কেন? মিস্ত্রী বলল- সুইচ নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন কোরিয়ান সুইচ বোর্ড লাগিয়ে দিয়েছি। সুইচ বোর্ডের দাম সাড়ে তিন শ' আর আমার মজুরী দেড় শ', মোট পাঁচ শ'। আমি বললাম, তুমি দুইতালা যাও। আমি ফোন করে দিচ্ছি টাকা পেয়ে যাবে। আমি ভাবীকে ফোন করে বললাম, ভাবী মিস্ত্রীকে পাঁচ শ' টাকা দিয়ে দেন। আমার কাছে টাকা নেই।

(লেখার সাথে ছবিটি আমার মোবাইল দিয়ে তোলা। সুরভি ছোট-বড় গাছ দিয়ে পুরো বাসা ভরে ফেলেছে। সকালে বাসা থেকে বের হবার সময় দেখি- খুব সুন্দর একটা ফুল ফুটে আছে।
'আজকের ডায়েরী' নামে এটা আমার নতুন ধারাবাহিক। এখন থেকে আজকের ডায়েরী নামে নিয়মিত লিখব। যেমন আমার আরও দুইটা ধারাবাহিক আছে- 'টুকরো টুকরো সাদা মিথ্যা'' আর 'রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে'। যদিও আগে বিভিন্ন সময়ে চার পাঁচটা- আজকের ডায়েরী লিখেছি। কিন্তু আজ থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলাম।)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৬
২৬টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×