
১। গভীর রাত। খুব ঝড় তুফান হচ্ছে।
একটা দো'তালা বাড়িতে সব দরজা-জানালা বন্ধ। এই দরজা জানালা যেন না খোলা যায়- তার জন্য তারকাটা দিয়ে টাইট করে আটকে দেওয়া হয়েছে। দোতালা বাড়িতে আজ দু'জন মাত্র মানুষ। একজন মা আর তার ৬ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলে। মাঝ রাতে মায়ের ঘুম ভেঙ্গে যায়। মা তার প্রতিবন্ধী ছেলের ঘরে উঁকি দেয়। দেখেন, ছেলে আরাম করে ঘুমাচ্ছে। ছেলের ঘর থেকে বের হতেই মা দেখেন- একটা বাঘ। আসল রয়েল বেঙ্গল টাইগার। দু'জনে চোখাচোখি। বাঘের চোখে তীব্র ক্ষুধা। মায়ের চোখে এক আকাশ ভয় আর বিস্ময়!
ভয়াবহ এক মুভি। টান টান উত্তেজনা। মুভিটা দেখার পর আপনার মনে হবে না- সময়টা অপচয় করা হলো। মুভিটাতে মানুষের মনের গোপন সত্তাকে জাগিয়ে তোলা হয়েছে। চমৎকার মুভি। আরেকবার দেখব।
২। পাঁচজন ছেলে মেয়ে। প্রান প্রাচুর্যে ভরপুর।
তাদের কলেজ সাত দিনের ছুটি। সামার ভেকেশন। এই ছেলে মেয়ে গুলো এডভেঞ্চার প্রিয়। আসলে বয়সটাই তাদের এমন। তারা এক দূর্ঘম পাহাড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা তাদের পরিবারকে না জানিয়ে এক সকালবেলা রওনা দিয়ে দেয়। বিশাল বিশাল পাহাড়। সৃষ্টির শুরু থেকে আজও এই সমস্ত পাহাড় গুলো প্রায় একই রকম আছে। নানান মিথ জড়িয়ে আছে পাহাড় গুলো নিয়ে। মানূষের চেয়ে হাজার গুন বেশি রহস্য আছে এই সমস্ত পাহাড় গুলোতে। অদ্ভুত সব কান্ডকারখানা ঘটতে থাকে- ছেলে মেয়ে গুলোর সাথে।
মুভিটা দেখার সময়- এক মুহুর্তের জন্য চোখ সরিয়ে নিতে পারি নাই। সারাক্ষন উত্তেজনা কাজ করেছে, এরপর কি হবে? না জানি এরপর কি হয়! মুভিটা শেষ করার পর অনেকক্ষন ঝিম মেরে বসে ছিলাম। যখনই অই ছেলে মেয়ে গুলোর জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়েছি- সারা শরীর কাঁপতে শুরু করেছিল।
৩। আর একদিন পর ক্রিসমাস।
চারিদিকে ছুটির আমেজ। শহরের ব্যস্ততম এক কর্পোরেট অফিসের সবাই বের হয়ে গেছে। শুধু মাত্র এক তরুনী মেয়ে ছাড়া। তার হাতের কাজ শেষ করতে একটু বেশি সময় লেগেছে। তরুনী মেয়েটি অফিসের সব লাইট বন্ধ করে। তারপর অফিস তালা দিয়ে লিফটে উঠে। ১৯ তালা থেকে নিচে নেমে কার পার্কিং এ গিয়ে দেখে গাড়ির চাবি ভুলে তার ডেস্কে'ই রেখে এসেছে। সে আবার উনিশ তালায় উঠে গাড়ির চাবি আনার জন্য।
এইভাবে মুভিটির শুরু। থ্রিলার মুভি। তরুনী মেয়েটি বিরাট বিপদে পড়ে। মুভিটি দেখার সময় কখনও আপনার রাগ লাগবে, কখনও মেয়েটির জন্য সীমাহীন ভালোবাসা জাগবে। কখনও আপনার ইচ্ছা করবে- যাই, নিজেই মেয়েটিকে বাঁচিয়ে আনি। সব মিলিয়ে চমৎকার একটি মুভি। খুব উপভোগ্য।
৪। নাগরিক পরিবেশ থেকে মুক্তির জন্য একজন লেখিকা শান্তিতে লেখালেখি করার জন্য- শহরের বাইরে এক ডাক বাংলোয় কিছু দিনের জন্য যায়। অত্যন্ত মনোরোম পরিবেশ সেখানে। অল্প বয়সী লেখিকা নিজেই গাড়ি চালিয়ে শহর থেকে ২০০ মাইল দূরে চলে যায়। পথে এক পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিয়ে নেয়। পেট্রোল পাম্পে চারজন বখাটে থাকে।
লেখিকা তার গন্তব্যে চলে আসে। বেশ মনোরম পরিবেশ। একা আছে নিজের মতোন করে। গান শুনছে, লিখছে, সুইমিং করছে। ভোররাতে পেট্রোল পাম্পের সেই চার বখাটে মেয়েটাকে আক্রমন করে। নারী লেখিকাকে খুব বাজে এবং করুন ভাবে ধর্ষন করে। প্রথমে ধর্ষন করায় এক প্রতিবন্ধীকে দিয়ে।
এরপর সেই চার বখাটের খুব করুন মৃত্যু হয়। এমন মৃত্যু যা আপনি চিন্তা করতে পারবেন না। হিটলারও ইহুদীদের এরকম করুন মৃত্যু দেয়নি। এমনকি মুসলিম ধর্মে কেয়ামতের পর পাপীদের এত কঠোর ভাবে শাস্তি দিবে না।
এই মুভির প্রথম ত্রিশ মিনিট হয়তো আপনার বিরক্ত লাগবে। কিন্তু তারপর দম বন্ধ হয়ে আসবে। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করেই চোখ বন্ধ করে ফেলবেন। নিজেকে বলবেন- না দেখব না। কিছুতেই না। আবার না দেখেও থাকতে পারবেন না।
(এখন আমি বই পড়ি না। খালি সিনেমা দেখি। প্রতিদিন তিনটা করে। এটা খুবই বাজে অভ্যাস। এই পোষ্টে আমি ইচ্ছা করেই মুভির নাম গুলো বলিনি। আমি চাই না আপনারা মুভি গুলো দেখুন। বরং মুভি না দেখে বই পড়ুন। মুভির চেয়ে হাজার গুন বেশি ভালো- বই পড়া। বই পড়লে মানুষকে চেনা যায়, নিজেকে চেনা যায়।)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



