
গত্কাল রাতের কথা দিয়ে শুরু করি।
কলকাতার একটা বাংলা মুভি দেখছিলাম। মুভির নাম 'মাটি'। দেশভাগ নিয়ে ঘটনা। তখন রাত আড়াইটা। বেশ ক্ষুধা লাগলো। সুরভি গভীর ঘুমে। হাতের কাছে ডিব্বাতে বিস্কুট কিন্তু খেতে ইচ্ছা করছে না। দুইটা ডিম সিদ্ধ দিলাম। পনের মিনিট পর ডিম সিলে লবন দিয়ে খেয়ে নিলাম একটা। বেশ লাগলো। সিনেমা শেষ হলো রাত সাড়ে তিনটায়। চারটায় বিছানায় গেলাম। কিন্তু ঘুম আসে না। এপাশ ওপাশ করছি। কখন ঘুমিয়ে গেলাম জানি না। ঘুমের মধ্যে সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখলাম। স্বপ্নে দেখলাম হাতির পিটে চড়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে খুব ঘুরে বেড়াচ্ছি। জঙ্গলের মধ্যে একটা মেয়েকে দেখলাম- ঝর্নার জলে স্নান করছে। খুব সুন্দর মেয়ে। একদম দেবী প্রতিমার মতোন দেখতে। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি! মেয়েটা আমাকে বলল, তোমার সাথে আমাকে নিবে? আমি মেয়েটাকে টেনে হাতির পিঠে তুলে নিলাম। মেয়েটা ভয় পাচ্ছিলো। আমি বললাম, ভয় নেই। আমি আছি।
দুপুরে খেয়ে বাইরে গেলাম।
মোবাইলটায় হঠাত সমস্যা দেখা দিয়েছে। ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল কিনেছি। দেড় বছর পর সমস্যা দেখা দিলো। ইষ্টার্ন প্লাস মার্কেটে গেলাম। তারা বলল, ব্যাটারিতে সমস্যা। নতুন ব্যাটারি লাগালাম। তের শ' টাকা নিলো। তাও ব্যাটারির কোনো গ্যারান্টি ওয়ারেন্টি নাই। সন্ধ্যা পর্যন্ত এক রাস্তা থেকে আরেক রাস্তায় ঘুরাঘুরি করলাম। বেশ কিছু ছবি তুললাম। বিকেলে এক রেস্টুরেন্টে দেখলাম মূরগী পোড়া (গ্রীল চিকেন) বিক্রি করছে। নান রুটি দিয়ে সামান্য খেলাম। খেতে একটুও ভালো লাগেনি। একডজন সবরি কলা কিনলাম। বাসায় ফিরলাম। নিচে তলায় মার সাথে বসে অনেকক্ষন কথা বললাম। অনেকদিন পর মার সাথে লম্বা আড্ডা দিলাম। মা করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনেক জ্ঞান দিলো। আমি অবাক হই মা এত কিছু জানে কিভাবে?
ড্রাইভার খোদাবক্স।
সন্ধ্যায় দেখি বড় ভাইয়ের ড্রাইভার ছোট ভাইকে অফিস থেকে আনতে যাচ্ছে। ছোট ভাইয়ের অফিস বাড্ডা। সাত টায় অফিস ছু্টি। কি মনে করে আমি গেলাম ছোট ভাইকে আনতে। রাস্তা বেশ ফাঁকা। খোদাবক্স খুব বক বক করছে। সে আমাকে বুদ্ধি দিলো তের লাখ টাকা দিয়ে একটা পুরান হাইস গাড়ি কিনে ফেলতে। তাহলে গাড়ি ভাড়া দিয়ে, সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে ৩০/৪০ হাজার টাকা ইনকাম করা যাবে। খোদাবক্স ঘ্যান ঘ্যান করে মাথা ধরিয়ে দিয়েছে। ছোট ভাইয়ের অফিসে গিয়ে জানলাম- এক ঘন্টা লেট হবে। জরুরী মিটিং আছে। আমি খোদাবক্সকে বললাম, দয়া করে চুপ করো। রাস্তার মধ্যে দাড়িয়ে না থেকে এয়ারপোর্ট চলো। মুহুর্তের মধ্যে এয়ারপোর্ট থেকে উত্তরা চলে এলাম।
উত্তরা নেমে চা-টা খেলাম।
আবার এলাম বাড্ডা। ছোট ভাইকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফেরার আগে ছোট ভাই বলল মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করছে। আশে পাশের বেশির ভাগ মিষ্টর দোকান বন্ধ। করোনার কারনে চারটা থেকেই দোকানপাট সব বন্ধ হতে শুরু করে। রামপুরার কাছে এসে একটা মিষ্টির দোকান খোলা পেলাম। ছোট ভাই, আমি আর খোদাবক্স তিনজনে মিলে ইচ্ছা মতো নানান পদের মিষ্টি খেলাম। ছোটবেলায় আমরা চার ভাই খুব মিষ্টি খেতাম। মুহুর্তের মধ্যে এক কেজি মিষ্টি খেয়ে ফেলতাম চার ভাই মিলে। জীবনে চলার পথে হুটহাট ছেলেবেলার অনেক কথা মনে পড়ে যায়। মানুষের জীবনে ছেলেবেলাই সবচেয়ে সুন্দর সময়।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০২০ রাত ১:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


