somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সেই মেয়েটি

২৪ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আখাউড়া স্টেশনে বসে আছি।
রাত একটা। তীব্র শীতের রাত। চারিদিকে দারুন ঘন কুয়াশা। গলায় মাফলার আর মোটা একটা শাল গায়ে দিয়ে বসে আছি। শালে শীত মানছে না, ইচ্ছা করছে মোটা দুইটা শাল গায়ে প্যাচিয়ে শুয়ে থাকি। চারপাশে থোকা থোকা অন্ধকার আর ঝি ঝি পোকার ডাক। আমি যাব ঢাকা, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। সাড়ে বারোটায় ট্রেন আসার কথা ছিল। ইচ্ছা করলে বাসে যেতে পারতাম, কিন্তু বাস জার্নির চেয়ে ট্রেন জার্নি টাই আমার বেশী ভালো লাগে। তাছাড়া সিলেট আসলেই আমি ট্রেনে করে যাতায়াত করি। ট্রেন কেন দেরী করছে- ইষ্টিশন মাস্টারের কাছ থেকেও জানতে পারলাম না। এ পর্যন্ত সাত কাপ চা খেয়ে ফেলেছি। খুবই বিচ্ছিরি চা। সিলেটের কোনো এলাকাতেই আমি চা খেয়ে শান্তি পেলাম না। এর চেয়ে ঢাকা শহরের রাস্তার পাশের চায়ের দোকানের চা অনেক ভালো।

সব কিছু মিলিয়ে আমার বিরক্ত লাগছে না।
কারন আমার হাতে আছে- তারাশংকর বন্দোপাধ্যায় এর উপন্যাস 'কবি'। উপন্যাসটির মূল বিষয় তৎকালীন হিন্দু সমাজের রুপ ও আচার, প্রেম, জীবন সংগ্রাম, মনের বিভিন্ন দিক ইত্যাদি। মুলত একটি মানুষকে ঘিরেই উপন্যাসটি আবর্তিত। সে মানুষটি হল নিতাই, নিতাইচরন। নিতাই খুব নিচ বংশের ছেলে, পুর্ব পুরুষের পাপে সে অতিষ্ট। চোর, ডাকাত, খুনিদের বংশে জন্মেও সে চায়, 'জন্মের চেয়ে কর্মকে বড় করে দেখতে'। বিধাতা প্রদত্ত সুমিষ্ট কন্ঠ দিয়ে সে জগৎকে জয় করতে চায়, চায় বংশের পাপ লোচন করতে। কিন্তু চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। তাই বাধ্য হয়ে মাকে ছেড়ে, বাবার ভিটে ছেড়ে মুটের কাজ করতে হয় রেল ষ্টেশনে। রেলস্টেশনে সে পায় অকৃত্রিম বন্ধু রাজন। কন্ঠে যার মধু মনে যার ভাব তার কি আর মুটোর কাজে মানায়। তাই সে ব্রত নেয় যে করেই হোক তার কবিয়াল হওয়া চাই। কিন্তু এই স্বল্প শিক্ষিত আর নিচু বংশের লোকের দ্বারা কি বড় কবিয়াল হওয়া সম্ভব? উপন্যাসটিতে তারাশংকর বন্দোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন উপযুক্ত পরিবেশে তা সম্ভব। অনেক কষ্টে, অনেক সাধনায় সাধারন নিতাইচরন হয়ে হয়ে উঠেন একজন নামকরা কবিয়াল।

যাই হোক, মূল গল্পে ফিরে আসি।
আমি বেঞ্চে বসে বই পড়ছিলাম- হঠাত দেখি আমার পাশে খুব রুপসী একটা মেয়ে বসে আছে। মেয়েটিও ঢাকা যাবে। সুন্দর একটা অফ হোয়াইট শাড়ি পরা। চোখে মোটা করে কাজল দিয়েছে। কপালে একটা বড় টিপ। আর দুই হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি। মেয়েটার মাথা ভর্তি চুল। শীতের ঠান্ডা বাতাসে মেয়েটার মাথার চুল উড়ছে। কেন জানি না, মেয়েটাকে দেখেই খুব আপন আপন লাগছে। সাথে খুব মায়াও হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা মনের মধ্যে তীব্র আনন্দ হচ্ছে। আমি কোনো রকম দ্বিধা সংকোচ না করেই সহজ ভাবে বললাম, চা খাবেন? মেয়েটি সাথে সাথে মাথা কাত করে বলল হুম, খাবো। আমি দৌড়ে গিয়ে চা নিয়ে আসলাম, বুদ্ধি করে কলা আর রুটি নিয়ে এলাম- যদি মেয়েটার ক্ষুধা পেয়ে থাকে। মেয়েটা আরাম করে বসে কলা রুটি খেল, তারপর অনেক সময় নিয়ে চা শেষ করলো। আর কি আশ্চর্য, ঠিক তখন ট্রেন চলে আসলো। আমি মেয়েটির হাত ধরে বললাম, চলো ঢাকা যাই। আমি ট্রেনের একটা কামরা নিয়েছি। পকেট থেকে বের করে টিকিট দেখালাম। মেয়েটি আমার হাত ধরে বলল, চলো।

নিজেকে মনে হচ্ছে জাপানের সমাট্র।
মেয়েটি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। আমি বললাম, তোমার কি মন খারাপ? মেয়েটি বিষন্ন মুখে আমার দিকে একটু চাইল, কিছু বলল না। আমি মেয়েটির পাশে গিয়ে বসলাম। মেয়েটি গুনগুন করে গান গাইছে- 'আজ তোমারে দেখতে এলেম অনেক দিনের পরে।/ ভয় কোরো না, সুখে থাকো, বেশিক্ষণ থাকব নাকো--/ এসেছি দণ্ড-দুয়ের তরে'। মেয়েটি হঠাত গান থামিয়ে বলল- তুমি কেমন পুরুষ গো, এতক্ষন ধরে আমি তোমার সাথে আছি- চুমু তো দূরের কথা হাত পর্যন্ত ধরতে চাইলে না! নাকি তোমার জিনিশ ঠিক নাই? মেয়েটির কথায় আমি খুব লজ্জা পেলাম। খুব সাহস করে মেয়েটির হাত ধরলাম। মেয়েটি কিছু বলল না, কিছুটা সাহস বেড়ে গেল আমার। হাতে একটা চুমু খেলাম, তাও মেয়েটি কিছু বলল না। আরও সাহস বেড়ে গেল আমার। ঠোঁটে চুমু খেলাম। ঠোঁটে চুমু খেতেই মেয়েটি যেন একটু কেঁপে উঠলো। এবার মেয়েটি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। পিঠে খামচি বসিয়ে দিল।

মাঝে মাঝে হুট করে দ্রুত সব হয়ে যায়।
ট্রেন দ্রুত চলছে, আমিও খুব দ্রুত আদর করে চলেছি। যেন ট্রেনের সাথে আমি পাল্লা দিয়েছি। মেয়েটি চুপ করে শুধু আদর নিয়ে যাচ্ছে। আদর করার সময় মেয়েটির মুখটি কি যে মায়াময় দেখায়। ইচ্ছা করে একটা জীবন শুধু এই মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার আদর শেষে মেয়েটি আমাকে আদর করে দিল। মেয়েটি আমাকে অদ্ভুত ভাবে আদর করল। ছোট করে একটা চুমু দেয়, তারপর একটা কামড়। কামড়টা মোটামুটি জোড়েই দিচ্ছে। কসম খেয়ে বলতে পারি, এত সুন্দর চুমু আর কামড় পৃথিবীর কোনো মেয়ে পারবে না। নো নেভার। আদর শেষে দুইজন দুইজনকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষন শুয়ে থাকলাম। হঠাত দেখি, মেয়েটার চোখের কোনায় পানি জমেছে। আমি চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম- না কাঁদে না। বাইরে আকাশ ফরসা হতে শুরু করেছে। আমরা দুইজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে ভোর হওয়া দেখছি। আমি মেয়েটির বুকে মাথা রেখে গুনগুন করে গান গাইছি- 'একি মায়া, লুকাও কায়া জীর্ণ শীতের সাজে।/ আমার সয় না, সয় না, সয় না প্রাণে, কিছুতে সয় না যে/ কৃপণ হয়ে হে মহারাজ, রইবে কি আজ/ আপন ভুবন-মাঝে'।

গান গাইতে গাইতে কখন দুইজন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি- মেয়েটি আমার পাশে নেই। পড়ে আছে একটা চিঠি। চিঠিতে লেখা...
চিঠিতে কি লেখা সেটা আপনাদের না জানলেও চলবে। তবে এতটুকু বলতে পারি- চিঠিটা পড়েছি আর আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়েছে। কেউ যদি চিঠিটা পড়তে চান, পড়তে পারেন। চিঠিটা খুব যত্ন করে রেখেছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩০
১৪টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×