
বঙ্গভঙ্গের সময় বিক্রমপুরবাসীর কর্মদক্ষতা সম্পর্কে ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন বলেছিলেন, 'আমি বিক্রমপুরবাসীদের কর্মদক্ষতা সম্পর্কে বেশ অবগত আছি। এ রকম সুনিপুণ রাজকর্মচারী পৃথিবীর আর কোথাও নেই।' বিক্রমপুর সম্পর্কে লর্ড কার্জনের আরো দুটি উক্তি 'দিস পার্ট অব ইন্ডিয়া ইজ দি মোস্ট অ্যাডভান্সড রুরাল ট্র্যাঙ্ক ইন ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইটস পিপল আর একসেলেন্ট' এবং 'বিক্রমপুর ইজ টু দি রেস্ট অব ইন্ডিয়া হোয়াট এডিনবরা ইজ টু দি রেস্ট অব ইউরোপ'। ১৯১৫ সালে লর্ড কারমাইকেল বিক্রমপুর ভ্রমণ করে লিখলেন, 'বিক্রমপুর অনেকটা আমার দেশ স্কটল্যান্ডের মতো।
১।

মুন্সীগঞ্জের প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যের আধার এই নিজ চোখে না দেখলে বুঝবেন না। একটা গানে কথা মনে পড়ল কবির সুমনের কতটা পথ, পেরোলে পরে মানুষ চেনা যায়, তেমনি কতটা পথ পেরোলে দুরে আড়িয়ল বিল দেখা যায়, প্রশ্নটাতো সহজ উত্তর ওতো জানা। বাংলাদেশের মাছ ও শাক সবজির এক বিশাল সমাহার এই আড়িয়ল বিল নিজ চোখে না দেখলে বুঝার উপায় নেই।
২।

আলু তোলার কাজে পুরুষদের শ্রমিকদের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করেন নারী শ্রমিকরা।
সিরাজদিখাঁর মধ্যপাড়া থেকে তোলা ছবি।
৩।

মুন্সীগঞ্জ নামে অনেকেই আমার এই জেলাকে চিনেন না তবে বিক্রমপুর নামে এর বেশ পরিচিতি রয়েছে।
রাজ রাজাদের এলাকা ও সমভ্রান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে, এক সময় পালকিতে বিয়ের প্রচলন ছিল, দুর দুরান্ত থেকে কনে আসত পালকিতে চড়ে আর বর আসত ঘোড়ায় চড়ে সেসব আজ বিলুপ্ত বললেই চলে।
৪।

মুন্সীগঞ্জ পাটি উৎপাদনের একটি অন্যতম অঞ্চল। গ্রীষ্ম-মৌসুমে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পাটির চাহিদা বাড়তে থাকে। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার আব্দুল্লাপুর আখড়া বাজারে প্রতি রোববার পাটির হাট বসে। এখানে বিভিন্ন ধরনের পাটি পাওয়া। যেমন শীতল পাটি, নকশি পাটি ও সাধারণ পাটি। শীতল পাটির দাম সাধারণ পাটির চেয়ে প্রায় তিনগুণ। একটি ৪- ৫ হাত সাধারণ পাটি তৈরি করতে পড়ে বর্তমানে ৩শ’ টাকা।
৫।

৬।

মুন্সীগঞ্জের একটি প্রাচীন মসজিদ।
সুলতানী শাসনামলের একটি মসজিদ। বিভিন্ন বই-পুস্তক ও প্রাচীন দলিল-দস্তাবেজে এটি ‘বাবা আদম শহীদ’ মসজিদ নামে পরিচিত। কিন্তু মসজিদের শিলালিপি অনুসারে এ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হলেন- মালিক কাফুরশাহ।
বিক্রমপুরের শাসক কাফুরশাহ ১৪৭৯ সালে একটি মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। যা বাবা আদম (রহ.) মসজিদ নামেই পরিচিতি লাভ করে। চমৎকার কারুকার্য খচিত এ মসজিদটির ছাদে ৬টি গম্বুজ রয়েছে। কারুকার্যখচিত এ মসজিদটির নির্মাণে মালিক কাফুর শাহের সময় লেগেছিল ৪ বছর। ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে, গুলিস্তান থেকে বাসে সিপাহী পাড়ায় নামলে এ মসজিদে আসা যাবে। মসজিদটি শুধু মুন্সীগঞ্জেরই নয়, সমগ্র দেশেরই ইতিহাস ও ঐতিহ্য। সুলতানী আমলের ইতিহাস বহন করে চলছে মহাকালের দিকে।
৭।

মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের মিষ্টি, অপূর্ব সৃষ্টি। জনপ্রিয় এই মিষ্টির নাম কে বলতে পারবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

