
ইসলাম নারী ও পুরুষের সম্মিলিত ইতিহাস।
ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন একজন নারী তথা উম্মুল মুমিনিন হযরত খাদিজা (সা.) এবং প্রায় একই সময়ে পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন হযরত আলী (আ.)। মাত্র দশ বছর বয়সে। হযরত খাদিজা (সা.) ছিলেন আরবের শীর্ষস্থানীয় ধনী ও সম্পদশালী। কিন্তু রাসূল (সা.)'র স্ত্রী হওয়ার পর তিনি তাঁর প্রায় সব সম্পদ বিলিয়ে দিয়েছিলেন ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাসূল (সা.) যখনই হযরত খাদিজা (সা.)'র নাম নিতেন- তাঁর পবিত্র চোখ দুটি অশ্রুতে ভরে যেত।
ইসলামের প্রথম শহীদও ছিলেন একজন নারী, হযরত সুমাইয়া (রা.)। কারবালার বীর শহীদানদের মধ্যে নারীও ছিলেন। হযরত খাদিজার কন্যা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমাকে (সা.) বলা হত উম্মে আবিহা বা পিতার মাতা। পিতা বিশ্বনবী (সা.)' জন্য অশেষ স্নেহ-ভালবাসা ও সেবার কারণেই এই উপাধি পেয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়াও মুসলমানদের সচেতন করার জন্যও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও হাদীস প্রচার করে গেছেন এই মহীয়সী নারী।
আমরা অনেকে মনে করি ধর্ম মানেই হচ্ছে সবসময় আল্লাহর ভয়ে ভীতু থাকা। দোযখের ভয়াবহ শাস্তির কথা সবসময় মনে রেখে মুখ গোমড়া করে ভালো কাজ করে চলা। কোনো কারণে আমাদের অনেকের ভিতরে 'ধর্ম মানেই ভয়'। এই ধারনাটি ঢুকে গেছে। আমাদের অনেকে তাদের ছেলে মেয়েদেরকে ছোটবেলা থেকেই ‘আল্লাহ’ নামের এক ভয়ংকর কোনো কিছুর ভয় দেখিয়ে বড় করে। বাচ্চারা আমাদের কথা না শুনলে, দুষ্টামি করলে, আল্লাহর কথা বলে ভয় দেখাই। কোনো খারাপ কাজ করলে, আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখাই। এ কারণে তারা ছোটবেলা থেকে বড় হয় আল্লাহর সম্পর্কে একটা নেগেটিভ ধারণা নিয়ে। তারা মনে করে আল্লাহ মানেই হচ্ছে হেড মাস্টারদের মতো বদরাগী, কথায় কথায় শাস্তি দেয় এমন এক ভয়ংকর সত্ত্বা, যাকে আমাদের সারা জীবন ভয় করে চলতে হবে। এ কারনে তারা যখন বড় হয়ে ইসলাম মানার চেষ্টা করে, তখন সেই চেষ্টার মধ্যে না থাকে কোন আন্তরিকতা, না থাকে কোন ভালোবাসা, থাকে শুধুই কিছু আনুষ্ঠানিকতা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার তাওফিক দিন। আল্লাহ আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখান, আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে এক উম্মাহতে পরিণত করে দিন যারা হবে ভাই-ভাই। এক দেহের মতন। আল্লাহ আমাদের সহনশীলতা বাড়িয়ে দিন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে কেবলমাত্র তারই সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার তাওফিক দিন। নিশ্চয়ই আল্লাহর দয়া ছাড়া আমাদের মুক্তির কোন সুযোগ নেই। তিঁনিই আমাদের একমাত্র পথ প্রদর্শক এবং সমস্ত ক্ষমতা কেবল তাঁরই হাতে। এটা সম্পূর্ন মেনে নিয়েই আমাদের জীবনয আপন করতে হবে। তবেই না জীবন সুন্দর হবে। আল্লাহ বলেন - অতএব , তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শুন , আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর । এটি তোমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত তারাই সফলকাম। সূরা তাগাবুন আয়াত ১৬।
আমরা মানুষ মানুষের বিচার করি সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা, জাত-পরিবার, ভৌগলিক অবস্থান, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদি ভেদে। অনেক সময় আমরা অনেককে বিদ্রুপ করি, কাউকে করি অতিরিক্ত সম্মান। কিন্তু আল্লাহ বিচার করবেন একজন মানুষের (এবং জ্বীনের) ইমান এবং আমল দিয়ে। কু’রআনে কিছু আয়াত রয়েছে, যেখানে আল্লাহ আমাদের অনেক মানসিক সমস্যার সমাধান দিয়ে দিয়েছেন। এই আয়াত গুলো আমরা যখন মনোযোগ দিয়ে পড়ি, তখন একটা ধাক্কা খাই। যখন আমরা এই আয়াত গুলো সময় নিয়ে ভেবে দেখি, তখন আমাদের হতাশা, অবসাদ, ডিপ্রেশন, কিছু না পাওয়ার দুঃখ, নিজের উপরে রাগ, অন্যের উপরে হিংসা, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা- এই সবকিছু কাটিয়ে ওঠার শক্তি খুঁজে পাই। আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করি যে, আমরা এতদিন থেকে যেসব সমস্যায় ভুগছিলাম, তার সমাধান তো কু’রআনেই দেওয়া আছে! এরকম একটি আয়াত হলোঃ ''তুমি কি জানো না: সবগুলো আকাশ এবং পৃথিবীর অধিপতি একমাত্র আল্লাহ? আল্লাহ ছাড়া তোমাদেরকে রক্ষা করার কেউ নেই, সাহায্য করারও কেউ নেই? [আল-বাক্বারাহ ১০৭]
ঈশ্বর এই পৃথিবীতে আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।
পরীক্ষা মানেই কষ্ট। আমরা এই পৃথিবীতে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি। নিশ্চয় সেই উদ্দেশ্যটা আনন্দ ফুর্তি করা নয়। যদি পৃথিবী আনন্দ ফূর্তি করারই জায়গা হতো তাহলে অবশ্যই পৃথিবীতে কোন দুঃখ থাকত না। আল্লাহ বলেন, ''তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?'' আমরা বর্তমানে একটা ফেক পৃথিবীতে ফেক লাইফ নিয়ে আছি। রিয়াল লাইফ হচ্ছে Next Life. যদি আমরা রিয়াল লাইফে স্বর্গে যাই তাহলে আমরা বলতে পারব আমরা পৃথিবীতে ভালো মানুষ ছিলাম তাই স্রষ্টা আমাদের স্বর্গে দিয়েছেন। অন্যথায় আমরা নিজেরাই নিজেদের অভিশাপ দেব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

