somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

বিক্রমপুর

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিক্রমপুর দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
দেশের আর কোনো জেলায় এত প্রাচীন ঐতিহ্য নেই। বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে ৯৮২ অব্দে বৌদ্ধ ধর্মগুরু এবং বিশ্বখ্যাত জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্কর জন্মগ্রহণ করেন। দীপঙ্কর একটি নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য সারা পৃথিবী ভ্রমণ করেছেন। আজও চীনে তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এখনো চীন-জাপানসহ বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষ বিক্রমপুর ভ্রমণ করতে আসেন।

বাংলা সাহিত্যে বারবার বিক্রমপুরের কথা এসেছে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা কথা সাহিত্যে একটি অবিস্মরনীয় নাম। তিনি সিরাজদিখান থানার মালবদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৬টি উপন্যাস ১৭টি গল্পসংকলনে প্রায় ১৭৭টি ছোটগল্প লিখেছেন। এর মধ্যে পদ্মানদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা, সহরতলী, অহিংসা, হলুদ নদী সবুজ বন, দিবারাত্রির কাব্য প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসটি নোবেল প্রাপ্তির উপযোগী বলে মনে করি। সমালোচকগণ এটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দশটি উপন্যাসের একটি বলে মতামত দিয়েছেন। ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ উপন্যাসে মানিক বিক্রমপুরকে পটভূমি হিসেবে গ্রহণ করেন। এখানে লৌহজং থানার গাওদিয়া গ্রামের কাহিনী অর্ন্তভুক্ত করা হয়। উপন্যাসটিতে শশী কুসুমের প্রণয়কাহিনী গাওদিয়া গ্রামকে অবলম্বন করে গড়ে ওঠে। তাদের এই ক্লাসিক্যাল মানব সম্পর্ক শিল্পময় মর্যাদায় উত্তীর্ণ হয়।

জগদীশচন্দ্র বসু শ্রীনগর থানার রাঢ়িখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি পান। জগদীশ চন্দ্র বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করেছেন। জগদীশ চন্দ্র গাছের মধ্যে জীবনের অস্তিত্বজ্ঞাপক আবিষ্কারের জন্য বিশ্ব পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর এই অসামান্য কৃতিত্ত্বের জন্য রবীন্দ্রনাথ রীতিমত বিস্ময়বিষ্ট হন। এবং কবিতার ভাষায় বন্ধু জগদীশজন্দ্রকে উৎসাহ প্রদান করেন।

বিক্রমপুর বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল।
প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল বৌদ্ধ জ্ঞানচর্চার জন্য এবং পরবর্তী সময়ে সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য সুপরিচিত ছিল। ১৭৮১ সালের একটি মানচিত্রে দেখা যায়, কালী গঙ্গা নদী এ অঞ্চলের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত যা অঞ্চলটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছিল। উত্তর বিক্রমপুর এবং দক্ষিণ বিক্রমপুর। মোগল শাসনামলে মুন্সিগঞ্জের নাম ছিল ইদ্রাকপুর। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি নদীর দ্বীপ জেলা মুন্সিগঞ্জ।

বিক্রমপুরের পটভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের এক দুর্দান্ত উপন্যাস লিখেছেন মাহমুদুল হক, 'খেলাঘর'।
বিক্রমপুরের কৃতী লেখক কবি ভাষাবিজ্ঞানী এবং অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ বিক্রমপুর নিয়ে লিখেছেন তাঁর অসামান্য গ্রন্থ 'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না', দীর্ঘ কবিতা 'বিক্রমপুর'।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'উজান' উপন্যাসে আছে বিক্রমপুরের কথা।
প্রফুল্ল রায় বজ্রযোগিনীর, তাঁর 'কেয়াপাতার নৌকো' উপন্যাসে আছে বিক্রমপুরের কথা।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'পূর্বপশ্চিম'-এ লিখেছেন মালখানগরের কথা।

এ অঞ্চলের মানুষ সগর্বে বলে, আমি বিক্রমপুরের লোক।
মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতি নামে একটি সংগঠন আছে, প্রায় ৭০ বছরের পুরনো। পৃথিবীর বিভিন্ন বড় শহরে যেখানে মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরের লোক আছে সেখানে এই সমিতির শাখা আছে। দেশব্যাপী বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার জনপ্রিয়। আমার হাতের কাছে বিক্রমপুর নাম ধারণ করা চারটি পত্রিকা আছে, 'মাসিক বিক্রমপুর', 'আমাদের বিক্রমপুর', 'সাপ্তাহিক বিক্রমপুর বার্তা', 'মাসিক বিক্রমপুর সমাচার'। ১৯২০ থেকে ১৯২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হতো 'বিক্রমপুর পত্রিকা', সম্পাদক ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:০৪
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×