
আজকের একটি ঘটনা।
বিরাট বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম। প্রতিদিনের মতো আজও সন্ধ্যায় হাঁটতে বের হয়েছিলাম। হাঁটতে হাঁটতে খিলগাও তিলপা পাড়া চলে গিয়েছি। এক ডজন কলা কিনেছি। সকালে নাস্তার জন্য রুটি, ডিম আর জেলি কিনেছি। অনেকখানি হাঁটার কারনে বেশ ক্লান্ত লাগছিলো। একটা চায়ের দোকানে বসলাম। এই চায়ের দোকানে প্রায়ই আমি আসি। চা খাই। গল্প করি। আজ দুইজন পরিচিত লোককে চায়ের দোকানে দেখলাম। তারা আমাকে দেখতে পেয়ে, ডাকলো।
রাস্তার পাশেই এই চায়ের দোকান।
সব সময় এই চায়ের দোকানে ভিড় থাকেই। এক কাপ চা দশ টাকা নেয়। যাই হোক, চায়ের দোকানে পরিচিত দুইজন বলল, দেশের কি পরিস্থিতি রাজীব সাহেব? আমি বললাম, হুজুররা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলছে। হুজুররা অনেক উজাইছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গা হুজুরদের মোটেও ঠিক হয় নাই। ধার্মিকদের জ্ঞান এখন মানব সভ্যতাকে সাহায্য করছে না। আমি বেশ জোরে কথা বলি সব সময়। আশে পাশের লোকজন আমার কথা হয়তো শুনছিলো। যদিও সেদিকে আমার নজর নেই।
আমি একটানা বলে গেলাম।
ভাস্কর্য একটা নান্দনিক বিষয়। এটা তৈরি করলে কেউ কাফের হয়ে যায় না। ওয়াজ আমাদের জাতিকে কোনোভাবে সাহায্য করে না। হেফাজত হচ্ছে অশিক্ষার ফসল, আগাছা। হেফাজত নামক ভন্ডদের আর একবার মার খাওয়ার সময় হয়েছে। ফতোয়া দিয়ে দেশ চলে না। দেশে হাজারো ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটছে- বলাৎকার হচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি, ঘুষ-দুর্নীতিতে এখনো শীর্ষদের কাতারে, ধর্ষণ-মাদকে আমরা নাজেহাল। সেসব নিয়ে কথা নেই; ওরা আছে ভাস্কর্য নিয়ে।
দুই হুজুর আমার কথা খুব মন দিয়ে শুনছিলেন।
আমি তাদের একটুও খেয়াল করি নাই। হঠাত তারা আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন। ক্ষিপ্ত মেজাজ তাদের। মারমুখো ভঙ্গি। এক হুজুর বললেন, হুজুররা কি জিনিস সামনের দিন গুলোতে দেখবেন। এত সহজে আমরা থামবো না। আমরা চাইলে সব তছনছ করে দিতে পারি। আমি বুঝতে পারছি, এই দুই হুজুর ইচ্ছে করে ঝামেলা পাকাতে চাচ্ছেন। আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। আমি আরেক কাপ চায়ের অর্ডার দিলাম। একটা সিগারেট ধরালাম।
হুজুর বললেন, কি এখন কথা বলছেন না কেন?
এতক্ষন তো খুব ফটফট করছিলেন! আমি বললাম, আমি তো আপনাদের সাথে কোনো কথা বলি নাই। আমি আপনাদের দেখিও নাই। আমি আমার পরিচিত লোকদের সাথে আলাপ করছিলাম। হুজুর রেগে গিয়ে বললেন, আমি চাইলে এখন আপনি এই গলি থেকে বের হতে পারবেন না। একটা ফোন দিলে এত ছেলে আসবে, আপনাকে ফু দিলেও আপনি উড়ে যাবেন। এমন সময় একটা পুলিশের গাড়ি আসে। তখন হুজুর দুইজন চলে যায়। আমিও বাসায় চলে আসি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

