somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

একটি মারাত্মক কাহিনী

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বড় অদ্ভুত! বড় রহস্যময়!
হজরত ইউনুস (আ.) যে কত গুরুত্বপূর্ণ একজন নবী ছিলেন সেটা বোঝাতেই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে তার নামেই একটি সূরা নাজিল করেছেন। যার নাম সূরা ইউনুস। ইউনুস নবীকে একটি ঘটনার জন্য আল্লাহ তায়ালা শাস্তি দিয়েছিলেন এবং মাছের পেটে অনেক দিন থাকতে হয়েছিল। ইউনুস নবী মাছের পেটে থাকা অবস্থায় দোয়া পড়েছিলেন। যেই দোয়াটার কারণে তাকে সেই মাছের পেট থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। তিনি যদি এই দোয়াটি না পড়তেন তাহলে তাকে কেয়ামত পর্যন্ত সেই মাছের পেটে থাকতে হতো।

খুব পাওয়ারফুল দোয়া।
আল্লাহ তায়ালা তাকে আশূরীয়া বাসীদের হেদায়েতের জন্য ইরাকে যেতে নির্দেশ দেন। সে হিসেবে তিনি ইরাকে গিয়ে আশূরীয়া বাসীদের আল্লাহর পথে আনার চেষ্টায় সংগ্রামে লিপ্ত হন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, আর ইউনুস ছিল পয়গম্বরদের একজন। যখন সে পালিয়ে যাত্রী বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছালো। অর্থাৎ তিনি আল্লাহ তায়ালার হুকুম না মেনেই অন্যত্র হিজরত করলেন। পথের মধ্যে সমুদ্র পড়লে তা পাড়ি দেয়ার জন্য একটি জাহাজে উঠেন। জাহাজটি মাঝ সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড়ে পড়ে। তখন জাহাজের চালক ধারণা করেন যে, জাহাজে কোনো অপরাধী আছে। যে কারণে জাহাজটি বিপদে পড়েছে। পরে তখনকার নিয়ম অনুযায়ী অপরাধীকে চিহ্নিত করতে লটারির ব্যবস্থা করা হয়। লটারিতে বারবার হজরত ইউনুস (আ.) নাম উঠে। তখন বাধ্য হয়েই ইউনূস নবীকে সমুদ্রে ফেলে দিয়ে জাহাজটি বিপদ থেকে রক্ষা পায়। তখন আল্লাহর আদেশে বিরাট একটি মাছ তাকে গিলে ফেলে।

মাছের পেটে নবী ইউনুস (আ.) 'লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্ জালিমীন'। অর্থঃ (হে আল্লাহ!) আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি অপরাধী। দোয়াটি পাঠ করেছিলে এবং আল্লাহ তাকে সেই বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।

হজরত ইউনুস (আ) ৪০ দিন মাছের পেটে ছিলেন।
কেউ কেউ বলেন সাত দিন ছিলেন, আবার কেউ বলেন তিন শ' চল্লিশ বছর ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, কতদিন ছিলেন তা মুখ্য নয়। তিনি মাছের পেটে ছিলেন, এটাই আসল ব্যপার। কেন কিভাবে মাছের পেটে গেলেন এবং কিভাবে উদ্ধার পেলেন এটাই বড় কথা। দীর্ঘ ৪০ দিন মাছের পেটে পানি-খাদ্যবিহীন অবস্থায় থাকায় ফ্যাকাসে এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন নবী। যে কারণে এই অবস্থা থেকে নিরাময়ের জন্য আল্লাহ্তায়ালা পরিবেশ দূষণমুক্তকারী এবং নির্মল ছায়াদানকারী লাউগাছ সেখানে গজিয়ে দেন। সেই লাউগাছটি এত দ্রুত গজিয়ে ওঠে যে, মুহূর্তের মধ্যে ঘন লতাপাতায় তা তাঁবুর আকার ধারণ করে। তিনি কচি লাউ খাবার হিসেবে গ্রহণ করেন। শরীরে শক্তি ফিরে পান।

নবীরা কখনো পাপী ছিলেন না।
তারা পাপ করেন নি। কিন্তু কেউ কেউ ভুল করেছেন। আর সেটাও আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ। ইউনুস (আ) অসুস্থ ও বিবস্ত্র অবস্থায় মাছের পেট থেকে তীরে এসে পৌছলেন। আল্লাহ নির্দেশে 'ইয়াকতীন' নামক গাছ তার পাশে গজিয়ে উঠলো। এর ছায়ায় তিনি আশ্রয় পেলেন, গাছের পাতায় লজ্জা নিবারণ করলেন, তার উপশম হলো। অত:পর তিনি আল্লাহর নির্দেশে ইরাকে তার জাতির কাছে ফিরে গেলেন। গিয়ে তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি দেখলেন, তার জাতির সবাই- ১০০% তার বার্তা গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, ২৮ বছর বয়সে ইউনূস (আ.) নবুয়্যত লাভ করেন। নবী মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়ে নীনাওয়া শহরেই ফিরে গিয়েছিলেন ও সেখানে তার আত্নীয়দের সাথেই জীবনের শেষ দিন পার করেছেন।

যদি কেউ দোয়া ইউনুস কয়েকবার পড়ে দোয়া করে তার দোয়া কবুল হয়। কেউ যদি বিপন্ন বা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় এই দোয়া পাঠ করে আল্লাহর রহমতে সে বিপদ থেকে উদ্ধার পায়। সিজদায় যেয়ে ৪০ বার দোয়া ইউনুস পাঠ করে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। অলৌকিক বিষয়ে আমার কোনো বিশ্বাস নেই। এই আধুনিক যুগে এসে এসব রুপকথা বিশ্বাস করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তাকে আমি বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি চোখের সামনে দেখা সৃষ্টিশীল মানুষগুলোকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:২১
২২টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×