
বড় অদ্ভুত! বড় রহস্যময়!
হজরত ইউনুস (আ.) যে কত গুরুত্বপূর্ণ একজন নবী ছিলেন সেটা বোঝাতেই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে তার নামেই একটি সূরা নাজিল করেছেন। যার নাম সূরা ইউনুস। ইউনুস নবীকে একটি ঘটনার জন্য আল্লাহ তায়ালা শাস্তি দিয়েছিলেন এবং মাছের পেটে অনেক দিন থাকতে হয়েছিল। ইউনুস নবী মাছের পেটে থাকা অবস্থায় দোয়া পড়েছিলেন। যেই দোয়াটার কারণে তাকে সেই মাছের পেট থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। তিনি যদি এই দোয়াটি না পড়তেন তাহলে তাকে কেয়ামত পর্যন্ত সেই মাছের পেটে থাকতে হতো।
খুব পাওয়ারফুল দোয়া।
আল্লাহ তায়ালা তাকে আশূরীয়া বাসীদের হেদায়েতের জন্য ইরাকে যেতে নির্দেশ দেন। সে হিসেবে তিনি ইরাকে গিয়ে আশূরীয়া বাসীদের আল্লাহর পথে আনার চেষ্টায় সংগ্রামে লিপ্ত হন। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, আর ইউনুস ছিল পয়গম্বরদের একজন। যখন সে পালিয়ে যাত্রী বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছালো। অর্থাৎ তিনি আল্লাহ তায়ালার হুকুম না মেনেই অন্যত্র হিজরত করলেন। পথের মধ্যে সমুদ্র পড়লে তা পাড়ি দেয়ার জন্য একটি জাহাজে উঠেন। জাহাজটি মাঝ সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড়ে পড়ে। তখন জাহাজের চালক ধারণা করেন যে, জাহাজে কোনো অপরাধী আছে। যে কারণে জাহাজটি বিপদে পড়েছে। পরে তখনকার নিয়ম অনুযায়ী অপরাধীকে চিহ্নিত করতে লটারির ব্যবস্থা করা হয়। লটারিতে বারবার হজরত ইউনুস (আ.) নাম উঠে। তখন বাধ্য হয়েই ইউনূস নবীকে সমুদ্রে ফেলে দিয়ে জাহাজটি বিপদ থেকে রক্ষা পায়। তখন আল্লাহর আদেশে বিরাট একটি মাছ তাকে গিলে ফেলে।
মাছের পেটে নবী ইউনুস (আ.) 'লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্ জালিমীন'। অর্থঃ (হে আল্লাহ!) আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। অবশ্যই আমি অপরাধী। দোয়াটি পাঠ করেছিলে এবং আল্লাহ তাকে সেই বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
হজরত ইউনুস (আ) ৪০ দিন মাছের পেটে ছিলেন।
কেউ কেউ বলেন সাত দিন ছিলেন, আবার কেউ বলেন তিন শ' চল্লিশ বছর ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, কতদিন ছিলেন তা মুখ্য নয়। তিনি মাছের পেটে ছিলেন, এটাই আসল ব্যপার। কেন কিভাবে মাছের পেটে গেলেন এবং কিভাবে উদ্ধার পেলেন এটাই বড় কথা। দীর্ঘ ৪০ দিন মাছের পেটে পানি-খাদ্যবিহীন অবস্থায় থাকায় ফ্যাকাসে এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন নবী। যে কারণে এই অবস্থা থেকে নিরাময়ের জন্য আল্লাহ্তায়ালা পরিবেশ দূষণমুক্তকারী এবং নির্মল ছায়াদানকারী লাউগাছ সেখানে গজিয়ে দেন। সেই লাউগাছটি এত দ্রুত গজিয়ে ওঠে যে, মুহূর্তের মধ্যে ঘন লতাপাতায় তা তাঁবুর আকার ধারণ করে। তিনি কচি লাউ খাবার হিসেবে গ্রহণ করেন। শরীরে শক্তি ফিরে পান।
নবীরা কখনো পাপী ছিলেন না।
তারা পাপ করেন নি। কিন্তু কেউ কেউ ভুল করেছেন। আর সেটাও আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ। ইউনুস (আ) অসুস্থ ও বিবস্ত্র অবস্থায় মাছের পেট থেকে তীরে এসে পৌছলেন। আল্লাহ নির্দেশে 'ইয়াকতীন' নামক গাছ তার পাশে গজিয়ে উঠলো। এর ছায়ায় তিনি আশ্রয় পেলেন, গাছের পাতায় লজ্জা নিবারণ করলেন, তার উপশম হলো। অত:পর তিনি আল্লাহর নির্দেশে ইরাকে তার জাতির কাছে ফিরে গেলেন। গিয়ে তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি দেখলেন, তার জাতির সবাই- ১০০% তার বার্তা গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, ২৮ বছর বয়সে ইউনূস (আ.) নবুয়্যত লাভ করেন। নবী মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়ে নীনাওয়া শহরেই ফিরে গিয়েছিলেন ও সেখানে তার আত্নীয়দের সাথেই জীবনের শেষ দিন পার করেছেন।
যদি কেউ দোয়া ইউনুস কয়েকবার পড়ে দোয়া করে তার দোয়া কবুল হয়। কেউ যদি বিপন্ন বা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় এই দোয়া পাঠ করে আল্লাহর রহমতে সে বিপদ থেকে উদ্ধার পায়। সিজদায় যেয়ে ৪০ বার দোয়া ইউনুস পাঠ করে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। অলৌকিক বিষয়ে আমার কোনো বিশ্বাস নেই। এই আধুনিক যুগে এসে এসব রুপকথা বিশ্বাস করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তাকে আমি বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি চোখের সামনে দেখা সৃষ্টিশীল মানুষগুলোকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

